Wednesday, July 6, 2016

“Beauty is in the eye of the beholder.

“Beauty is in the eye of the beholder.”

সৌন্দর্য দৃস্টিভঙ্গির উপর নির্ভরশীল– বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ। সবার কাছে সুন্দরের সংজ্ঞা এক না। মডার্ন, পোষ্ট-মডার্ন, মেটা মডার্ন ধারার আর্টের শৈল্পিক মূল্য কতটুকু? কোন কোন বৈশিস্ট থাকলে একটি চিত্রকর্ম বা একটি গান শিল্প বলে বিবেচিত হবে? সৌন্দর্য কিংবা শ্রুতিমধুরতা কি শিল্প বলে বিবেচিত হবার আবশ্যিক পূর্বশর্ত নাকি?
এধরণের আলোচনায় অবধারিত ভাবেই শোনা যায় – “Beauty is in the eye of the beholder.”
.
.
তবে সৌন্দর্যের পরিবর্তনশীল সংজ্ঞা, কিংবা ব্যাক্তিভেদে যে সুন্দর-অসুন্দরের ধারণার পার্থক্য হতে পারে, এটা শুধুমাত্র একটা আধুনিক কনসেপ্ট –কিংবা আধুনিকতার অবক্ষয়, এমনটা বলা যাবে না। এধরণের ধারণা আগেও মানুষের মধ্যে ছিল, তবে হয়তো এতোটা ব্যাপকভাবে না। বিখ্যাত আরব কবি আবু নুওয়াস এক মজার ঘটনা বর্ণনা করেছেনঃ
.
একবার এক তাঁতী আমাকে দাওয়াত করলো। তার বাড়িতে আমাকে আপ্যায়ন করার জন্য অত্যন্ত বিনীত আবদার করলো, আর তাকে ‘হ্যাঁ” না বলা পর্যন্ত আমার পেছনে লেগেই থাকলো। শেষমেশ আমি রাজি হয়ে তার সাথে বাড়িতে গেলাম। দেখলাম, তার বাড়িটি ভালোই। দেখলাম, সে মোটামুটি ভালোই আয়োজন করেছে, অন্য তাঁতীদেরও জড়ো করেছে। খাওয়াদাওয়া শেষ হবার পর সে আমাকে বলল-
.
জনাব! আমার একান্ত কামনা, আপনি আমার দাসী সম্পর্কে কিছু কবিতা বলবেন। সে তার এক দাসীর প্রতি প্রবলভাবে আসক্ত ছিল। আমি তাকে বললাম – আমার সামনে নিয়ে এস, আমি তাকে দেখে তার গঠনাকৃতি ও তার রূপ সৌন্দর্য নিয়ে কবিতা বলব। সে তাকে পর্দার বাইরে নিয়ে এলে আমি দেখলাম আল্লাহ্‌র এক কুশ্রী ও বিদঘুটে সৃষ্টি, কৃষ্ণ, চুলে সাদা-কালোর মিশ্রনে বদ-সুরত, যার মুখের লালা বুকে গড়িয়ে পড়ছিল।
.
আমি তাঁতিকে জিজ্ঞেস করলাম, তার নাম কি? সে বলল, তাসনীম। তখন আমি কবিতা রচনা করলাম-
.
তাসনীমের প্রেম আমার রাতকে বিনিদ্র করে রেখেছে, সে এক কিশোরী বাঁদি সৌন্দর্যে পেঁচার সেরা; তার মুখের ঘ্রাণ যেন ঝাঁঝাল সিরকা কিংবা রসুনের এক গাঁট…
.
কবিতা শুনে তাঁতি আনন্দে আত্বহারা হয়ে নাচতো লাগল, আর সারা দিন হৈ হৈ করে আনন্দ প্রকাশ করলো… [আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, দশম খন্ড, পৃ ৩৯৮]
.
.
আবু নূওয়াসের কাছে যে আল্লাহ্‌র এক কুশ্রী সৃষ্টি [বর্ণনা পড়ে, আমার কাছেও!], তাঁতির কাছে সে রোমের রাজকুমারীর চাইতেও সুন্দর। একই সাথে এটাও লক্ষ্যনীয়, আবু নুওয়াসের এই কবিতা – যেটাকে কোন ভাবেই প্রীতিকর বলা যায় না- সেটাই তাঁতির আনন্দে আত্বহারা হবার উপলক্ষ। আপনি চারপাশে তাকালেই দেখবেন শুধু সৌন্দর্য না, এক অর্থে সমস্ত বাস্তবতাই দৃস্টিভঙ্গির উপর নির্ভরশীল।
.
.
কোন পরিস্থতিতে আপনার মনের অবস্থা কি রকম, তা অনেকাংশেই আপনার দৃস্টিভঙ্গির উপর নির্ভরশীল। জাহিলিয়্যাতে কন্যা সন্তানের জন্মকে মানুষ চরম অপমানজনক মনে করতো। অথচ কিন্তু ইসলামে এসে এ মানুষগুলোই একে অমূল্য নিয়ামাহ মনে করছে।
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন – দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার স্বরূপ আর কাফিরের জন্য জান্নাত স্বরূপ। [সাহিহ মুসলিম]
.
দুনিয়া তো বদলাচ্ছে না। দুনিয়া তার জায়গায় অপরিবর্তিতই আছে। বদলাচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি। আর এই দৃস্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণেই এক জনের কাছে যে দুনিয়া কারাগার, আরেকজনের কাছে সেটা আনন্দ উদ্যান। অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “
.
“তুমি দুনিয়াতে বসবাস কর এমন অবস্থায় যেন তুমি একজন আগন্তুক ব্যক্তি অথবা পথযাত্রী মুসাফির” [আল বুখারি]
.
যে ব্যক্তিকে নিজের হৃদয়কে সম্পূর্ণভাবে আখিরাতের সাথে আবদ্ধ করতে সক্ষম হয় নি, তার পক্ষে কি সম্ভব দুনিয়াতে একজন মুসাফিরের মত থাকা? যার কাছে জীবনের অর্থ হল, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত ভালো রেসাল্ট, ভালো ডিগ্রি, ভালো চাকরি, সুন্দরী স্ত্রী, সামাজিক সম্মান, সম্পদ, প্রভাব প্রতিপত্তি, ইত্যাদির সম্মিলিত যোগফল – তার জন্য দুনিয়া অনন্তকালের যাত্রাপথে একটা স্টপেজ মাত্র না। এটাই তার কাছে অনন্ত কালের সমতুল্য। যা ইচ্ছে আছে, যা আকাঙ্ক্ষা আছে, যা সাধ আছে সব এখানেই মিটিয়ে যেতে হবে।  শব্দ-গন্ধ-কাঠামো-রঙ-আকৃতির যে বাস্তবতা আমার সামনে আছে, কামনা-বাসনার হাতছানি আছে, সেটা আমি ছেড়ে দেবো, এমন এক জীবনের জন্য যা আমি কল্পনা করতে পারি না? এমন একজনের জন্য যাকে আমি দেখছি না? শুনছি না? অনুভব করতে পারছি না? অথচ আমার চারপাশের এই বাস্তবতাকে আমি অনুভব করতে পারছি। কিভাবে একজন বিলিয়েনেয়ার বিযনেস টাইকুন, তার সব সম্পদ ত্যাগ করে পাহাড়ে-পর্বতে আগুনের বৃস্টির নিচে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন? আর মৃত্যুকে জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন? কিসের শক্তিতে?
.
.
বিশ্বাসের শক্তিতে। ঈমানের শক্তিতে, যা মানুষের চিন্তার কাঠামো, বাস্তবতাকে দেখার ধাচকেই পালটে দেয়।  নিঃসন্দেহে এটা একমাত্র আল্লাহ ‘আযযা ওয়া জালের পক্ষ থেকে। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদের হৃদয়গুলোকে প্রশান্ত করে দেন। এজন্যই যা পুরো বিশ্বের কাছে জীবন নষ্ট করা, যা সমগ্র বিশ্বের কাছে আত্বঘাতি উন্মাদনা, কিছু মানুষের জন্য সেটাই – পরম পাওয়া – শাহাদাহ।
.
দৃস্টিভঙ্গির পার্থক্য বাস্তবতাকে মানুষ কিভাবে অনুভব করে, তা কিভাবে বদলে দিতে পারে –সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ আছে  সূরা আহযাবে। যখন ক্বুরাইশ, বানু গাতাফান, ইহুদী গোত্রদের সম্মিলিত বাহিনী মুসলিমদের ঘিরে ফেললো, তখন সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দু রকমের প্রতিক্রিয়া দেখা গেল-
.
একদল বললো- আমাদেরকে প্রদত্ত আল্লাহ ও রসূলের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা বৈ নয়। [আল আহযাব, ১২]
.
আরেকদল বললো – আল্লাহ ও তাঁর রসূল এরই ওয়াদা আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আত্নসমর্পণই বৃদ্ধি পেল। [আল আহযাব, ২২]
.
প্রথম দল সম্পর্কে আল্লাহ্‌ ‘আযযা ওয়া জালা আমদের জানিয়ে দিয়েছেন। তারা ছিল মুনাফিক ও তারা, যাদের অন্তরে ছিল রোগ। আর দ্বিতীয় দলকে আল্লাহ ‘আযযা ওয়া জাল বলেছেন মু’মিন। এখানে এই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য নিছক, চিন্তার কাঠামোগত পার্থক্য না, বরং ইমান ও কুফর, ইমান ও নিফাকের মধ্যে পার্থক্য।
.
.
.
শুধুমাত্র ২০১৫ সালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর উপর অ্যামেরিকা বোমা ফেলেছে ২৩,১৪৪ টি। [http://tinyurl.com/hr35n2o]। এটা সে অ্যামেরিকা, গত দুই হাজার বছরে যাদের সেনাবাহিনীর মতো শক্তিশালী সেনাবাহিনী পৃথিবী দেখেনি। এটা সেই অ্যামেরিকা যাদের সামরিক বাজেট বাকি বিশ্বের সম্মিলিত সামরিক বাজেটের প্রায় সমান। এটা সেই অ্যামেরিকা যাদের পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে ৪৮,২৬৯ কিলোমিটারর পরিধির মধ্যে অবস্থিত সব বেসামরিক বিল্ডিং ধ্বংস করে দেয়া যায়। পৃথিবীর পরিধি হল ৪০,০০৮ কিলোমিটার। সেই অ্যামেরিকা যারা ইরাক-আফগানিস্তানে হত্যা করেছে লাখো মুসলিমকে। সেই অ্যামেরিকা যারা ক্রমাগত ইস্রাইলকে সাহায্য করছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। সেই অ্যামেরিকা যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড শুরু করেছে।
.
.
খন্দকের যুদ্ধের সেদিনে মাদীনাতে দুটি দল দেখা গিয়েছিল। সে বিভক্তি আজো আছে। একদল অ্যামেরিকার এই চোখধাধানো, ক্ষমতা দেখলো, আর তারপর তারা এ উপসংহারে আসলোঃ এই অ্যামেরিকার সাথে পারা সম্ভব না। এদের সাথে লাগতে যেয়ো না, ধ্বংস হয়ে যাবে। এসো তাদের সাথে মৈত্রী করি। তাদের দেয়া গণতন্ত্র অনুসরণ করি, তাদের ধ্যানধারণা, মতাদর্শ গ্রহণ করি। তাদের মতন চিন্তা করি, তাদের মতো পোষাক পরি, তাদের মতো ভাবতে শিখি। তাদের পছন্দমতো ইসলামকে বদলে নেই। তাদের কাছে তেল বিক্রি করি, তাদের গোলামি করি। আর গোলামি করতে করতে ধীরে ধীরে জ্ঞানবিজ্ঞান, অর্থ-সম্পদের দিক দিয়ে শক্তিশালী হবার চেষ্টা করি। তারপর দেখা যাবে। কেউ কেউ এক কাঠি এগিয়ে বলে বসলো রাসূলুল্লাহ ﷺ আজ বেঁচে থাকলে অ্যামেরিকাকে (ন্যাটোকে) সমর্থন করতেন! এটাই হল হিকমাহ !
.
.
আর আরেকদল উত্তর খোজার জন্য কুরআনের কাছে গেল, যা সাত আসমানের উপর থেকে সমগ্র জগতসমূহের অধিপতি, আল আওয়াল ওয়াল আখির আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর রাসূল, আল নাবীউল মালহামা, আল দাহুক আল-ক্বাত্তাল মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আল আরাবীর ﷺ উপর নাযিল করেছেন। আর তারা কুর’আনে লেখা দেখতে পেলোঃ
.
.
“আল্লাহ কি তাঁর বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন?” [আয যুমার, ৩৬]
.
“হে নবী, আপনার জন্য এবং যেসব মুসলমান আপনার সাথে রয়েছে তাদের সবার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট।“ [আল- আনফাল, ৬৪]
.
“আর বিজয় শুধুমাত্র পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী আল্লাহরই পক্ষ থেকে…” [আলে ইমরান, ১২৬]
.
“…কতো সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন। [সূরা বাক্বারাহ, ২৪৯]
.
হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন। [সূরা মুহাম্মাদ, ৭]
.
“…আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাগণ অবশেষে পৃথিবীর অধিকারী হবে।“ [আল-আম্বিয়া, ১০৫]
.
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি অতঃপর দেখেনি যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছে? আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং কাফিরদের অবস্থা এরূপই হবে। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ মুমিনদের হিতৈষী বন্ধু এবং কাফেরদের কোন হিতৈষী বন্ধু নাই। [সূরা মুহাম্মাদ, ১০,১১]
.
.
তারা কুর’আনে দেখতে পেলোঃ
.
.
“…আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী।“ [আল হাদীদ, ২৫]
.
“…আমি কফিরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।“ [আল-আনফাল, ১২]
.
“অতঃপর যখন তোমরা কাফিরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দানে মারো…” [আল মুহাম্মাদ, ৪]
.
“…হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। “ [আত-তাওবাহ,৫]
.
.
অতঃপর তারা কূর’আনে আরও দেখলোঃ
.
.
যারা মুমিন, তারা বলেঃ একটি সূরা নাযিল হয় না কেন? অতঃপর যখন কোন দ্ব্যর্থহীন সূরা নাযিল হয় এবং তাতে জিহাদের উল্লেখ করা হয়, তখন যাদের অন্তরে রোগ আছে, আপনি তাদেরকে মৃত্যুভয়ে মূর্ছাপ্রাপ্ত মানুষের মত আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখবেন। সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্যে। [সূরা মুহাম্মাদ, ২০]
.
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যে পর্যন্ত না ফুটিয়ে তুলি তোমাদের জিহাদকারীদেরকে এবং সবরকারীদেরকে এবং যতক্ষণ না আমি তোমাদের অবস্থান সমূহ যাচাই করি। [সূরা মুহাম্মাদ ৩১]
.
“আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী!…” [সূরা আন-নিসা, ৭৫]
.
“আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, আল্লাহর শুত্রু এবং তোমাদের শত্রুদের অন্তরে ত্রাসের সৃষ্টি কর…” [আল-আনফাল,৬০]
.
.
আর তারা তখন বললো, হায়! এতো এমন এক কিতাব যা আমাদের জন্য আর কোন অজুহাতই অবশিষ্ট রাখে নি।
.
.
“বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জিহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।“ [আত-তাওবাহ ]
.
এবং তারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর এই হাদীস পড়লোঃ
“নিশ্চয় জান্নাত হল তরবারির ছায়াতলে” [আল বুখারি]
.
অতঃপর তারা বললো, “আমরা শুনলাম এবং মানলাম।“ [আল বাকারাহ,২৮৫]
.
.
তারা বললোঃ
.
সেই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর নামে শপথ করছি, যিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন। যতদিন পর্যন্ত না ফিলিস্তিনীরা শান্তি তে বসবাস করতে পারছে এবং কাফির সৈন্যরা মুহাম্মাদ ﷺ  এর পবিত্র ভূমিকে পরিত্যাগ করছে ততদিন পর্যন্ত না আম্রিকা আর না আম্রিকার অধিবাসিরা শান্তিতে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
.
“আমরা আম্রিকাকে বলি, তোমারা যতোই সীমালঙ্ঘন করো না কেন, তোমরা যতোই ঔদ্ধত্য দেখাও না কেন, তোমরা যতো উচুতেই উড়ো না কেন – জেনে নাও, তোমার প্লেন, তোমাদের জেট, তোমাদের ড্রোন কখনো আল্লাহ-র আরশের নাগাল পাবে না। তোমরা যতো উঁচুতেই ওঠো না কেন, তোমরা আল্লাহ-র আরশের নিচে। উপরে না।
.
… তিনিই পরাক্রান্ত স্বীয় বান্দাদের উপর। তিনিই জ্ঞানময়, সর্বজ্ঞ। [সূরা আল-আন’আম, ১৮]
.
আর তোমাদের আগে ‘আদ জাতি বলেছিলঃ
.
“… আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর কে?
.
আর আল্লাহ্‌ ‘আযযা ওয়া জাল তাদের জবাব দিয়েছিলেনঃ
.
তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, যে আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর ? বস্তুতঃ তারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করত। [সূরা ফুসসিলাত, ১৫]
.
.
আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন এক দল আছে, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ বলেনঃ
.
“…তারা তোমাদের প্রতি কুন্ঠাবোধ করে। যখন বিপদ আসে, তখন আপনি দেখবেন মৃত্যুভয়ে অচেতন ব্যক্তির মত চোখ উল্টিয়ে তারা আপনার প্রতি তাকায়। অতঃপর যখন বিপদ টলে যায় তখন তারা ধন-সম্পদ লাভের আশায় তোমাদের সাথে বাকচাতুরীতে অবতীর্ণ হয়। তারা মুমিন নয়…” [আল-আহযাব,১৯]
.
আর আল্লাহ-র বান্দাদের মধ্যে এমনো এক দল আছে, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ আর রাহমান আর-রাহীম বলেনল
.
মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।
.
.
.
তো, যা বলছিলাম…ব্যাপারটা দৃষ্টিভঙ্গির।
লিখেছেন :-asif adnan

তাওবা ও বিলম্বের পরিনাম।


.
. أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ
  أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ
তোমরা কি নিশ্চিত আছো যে  যিনি আকাশের উপরে রয়েছেন, তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমিকে ধ্বসিয়ে দেবেন না আর ওটা হঠাৎ করে থর থর করে কাঁপতে থাকবে?
  না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপরে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করবেন? এরপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী!
(কুরআন, মুলক ৬৭:১৬-১৭)
.
أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَىٰ أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَائِمُونَ
  أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَىٰ أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ
  أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ ۚ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
তবে কি জনপদগুলোর অধিবাসীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছে, তাদের উপর আমার কঠোর আযাব রাতে আসবে যখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে? নাকি জনপদগুলোর অধিবাসীরা নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছে, তাদের উপর আমার কঠোর আযাব দিনের বেলায় আসবে যখন তারা খেলায় মগ্ন থাকবে? তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর কৌশল থেকে আর কেউ (নিজেদেরকে) নিরাপদ মনে করে না।
(কুরআন, আরাফ ৭:৯৭-৯৯)
.
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান।যাতে তারা ফিরে আসে।
(কুরআন, রুম ৩০:৪১)
.
مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ ۚ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
  আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন বিপদ আসে না এবং যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তিনি তাঁর অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।
(কুরআন, তাগাবুন ৬৪:১১)
.
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
  أُولَٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
এবং অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্য ধারণকারীদের।
যখন তারা বিপদে পড়ে, তখন বলে— “ নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহরই জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই কাছে ফিরে যাবো।“
তারাই সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই সুপথপ্রাপ্ত।“
(কুরআন, বাকারাহ ২:১৫৫-১৫৭)
.
فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তাঁর তরফ থেকে তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
(কুরআন, যারিয়াত ৫১:৫০)

গুরাবা সমাজের সাথে মানিয়ে চলা ....

সমাজের সাথে মানিয়ে চলা ......
(গুরাবা)
.
জাহেলিয়্যাত এবং পাপ পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত একটা সমাজে কোন মানুষ যখন বুঝতে পারে তার একদিন মরতে হবে, বিচারের মাঠে প্রত্যেকটা বাজে কথা, কুদৃষ্টি আর গীবতের জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে - তখন সে আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হতে থাকে।
.

তার আচার আচরনে পরিবর্তন আসে, সে বন্ধুদের সাথে সব আলোচনায় বসতে পারে না, কাজিনদের সাথে সব পার্টিতে অ্যাটেন্ড করতে পারে না। তাই বলে সে পারফেক্ট না, তার ভুল আছে, সীমাবদ্ধতা আছে।
.
কিন্তু তখন সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সমাজ। তারা সাহায্য তো দূরে থাক, বরং নানা ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে বাঁধা দেয়।
.
ছেলে দাঁড়ি রাখতে চাইলে তখন তাকে বলা হয় - দাঁড়িই কি সব? আরো তো কত খারাপ কাজ করিস?
.
মেয়ে হিজাব পড়তে চাইলে বলা হয় - কেন তুই কি এখন খারাপ আছিস? আমরা কি সব নষ্ট মেয়ে? মনের পর্দাই প্রকৃত পর্দা।
.
বন্ধুদের সাথে বাজে আড্ডাতে যোগ না দিলে, লজ্জা পেলে - তাকে অতীত নিয়ে খোটা দেয়া হয়। বলা হয় - খুব হুজুর হইছো না? এই তোমরাই তলে তলে সবচেয়ে বড় শয়তান।
.
কাজিনদের সাথে আড্ডা মারা অপছন্দ করলে, গায়ে হলুদ, বিয়েতে নাচানাচি, ঢলাঢলি পছন্দ না করলে --- তাকে তখন সামাজিকতার কথা বলা হয়, মানিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়।
.
সামাজিক সবকিছুতে তাকে মানিয়ে নিতে বলা হয়। কিন্তু তার জন্য কেউ মানিয়ে নেয় না।
.
কেউ তার জন্য লাউড স্পিকারে মিউজিক শোনা বন্ধ করবে না। এটা বুঝেও যে - এটা হারাম কাজ আর ইসলাম প্রাকটিস করতে চাওয়া একটা মানুষের জন্য এটা কষ্টকর।
.
বন্ধুরা তার সামনে সিগারেট খাওয়া কিংবা ছেলেমেয়ে নিয়ে বাজে কথা বলা বন্ধ করবে না। ইচ্ছা করেই হয়তো আরো বেশি করবে।
.
সে যদি তখন রিঅ্যাক্ট করে, তখন সেটা হবে অহংকার। সে যদি তখন লজ্জাতে চুপ করে থাকে, তবে সেটা হবে দুর্বলতা।
.
এই সমাজটা ধীরে ধীরে তার কাছে বিষময় হয়ে যায়। মানুষের সাথে মুখে হাসি নিয়ে কথা বলা ছেলেটা আস্তে আস্তে অসামাজিক হয়ে যায়।
.
একটা মানসিক দ্বন্দের মাঝে বসবাস করা ছেলেটা একসময় তার পরিচয় খুঁজে পায়। তার পরিচয় সে অপরিচিত, সে ভিন্ন।
.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
" ইসলামের শুরু হয়েছে যখন তা ছিল গারীব (আগন্তুক, অচেনা, অদ্ভুত, অপরিচিত) অবস্থায়।। এটা আবার ফিরে যাবে সে গারীব অবস্থায়। আর সুসংবাদ হচ্ছে গুরাবাদের (অচেনা, অদ্ভুত, অপরিচিতদের) জন্য।" [মুসলিম]
.
গুরাবাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মত কোন স্যাক্রিফাইস এখনও আমরা করি নাই, এখনো হয়তো যেদিকে স্রোত সেদিকেই আমাদের ঝোঁক বেশি। তবুও আল্লাহর কাছে দুয়া করি আল্লাহ তা'আলা যেন - আমাদের গুরাবাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মত তাওফিক দান করেন। আর আমাদের ভুল, ত্রুটি, সীমাবদ্ধতাকে মাফ করেন।
.
‪#‎গুরাবা‬
‪#‎অসামাজিক‬
‪#‎অদ্ভুত‬

জ্ঞান

আমরা জানি যে কুরআন ও হাদিসে বিভিন্ন সময়ে ‘ইলম’ বা ‘জ্ঞান’ এর কথা বলা হয়েছে। জ্ঞানার্জন বলতে আমরা আসলে কী বুঝি? অনেক সময়ে গুরুজনরা কিছু কিছু আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করে ছোটদেরকে বলেন— ভালো করে পড়াশুনা কর।এটা কুরআন-হাদিসে বলা আছে।

“জ্ঞানার্জনের জন্য প্রয়োজনে চীনদেশে যাও”—  এমন জাল হাদিসও অনেক সময়ে ব্যবহার হয়।ইসলাম আসলে কোন জ্ঞানটির প্রতি জোর দিয়েছে? কোন বিষয়ে জানবার জন্য কুরআন-হাদিসে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে?

.

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল(র) বলেছেনঃ-  “আবশ্যক হল এমন জ্ঞান অর্জন করা যার উপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত এবং যা পরিত্যাগ করা তার[একজন মুসলিমের] জন্য  উচিত না।” তাঁকে বলা হল— “দ্বীন তো সকল জ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত”। তিনি বললেনঃ- “ফরয, যেগুলো তার উপর ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক – এসব ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন ফরয হবার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।”
[আল আদাবুশ শারিয়াহ (২/৩৩-৩৪), ইবন মুকলিফ]
.
ইবন রজব হাম্বলী(র) আরো বিস্তারিত বলেছেন— “নিশ্চয়ই প্রত্যেক মুসলিমের উপর দ্বীনের ঐসব ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন ফরয—যেগুলো তার প্রয়োজন।যেমনঃ পবিত্রতা, নামায, রোজা।আর যার সম্পদ আছে তার জন্য ঐ জ্ঞান অর্জন ফরয যা ঐ সম্পদের কারণে তার উপর দায়িত্ব তৈরি করে যেমনঃ যাকাত, সদকাহ, হজ এবং জিহাদ।এ  কারণে যারা বেচা-কেনা করেন, তাদের উপরে ক্রয়-বিক্রয়ে হালাল-হারাম শিক্ষা করা ফরয।”
[মাজমু আর রাসাইল, অধ্যায়” ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া, শারহু হাদিস আবি দারদা, পৃষ্ঠা ২২-২৩]
.
পূর্বযুগের এই উলামাগণের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল মানুষের জন্য কোন জ্ঞান অর্জন করা সর্বাপেক্ষা জরুরী এবং কোন কোন দিকে এই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দুনিয়াবী জ্ঞান অর্জন করা অবশ্যই জায়েজ, বরং প্রয়োজনের জন্য উপকারী দুনিয়াবী জ্ঞান [যেমন লেখাপড়া, বৈজ্ঞানিক গবেষণা] চর্চা করা উত্তম। তবে এর আগে অবশ্যই আমাদেরকে প্রয়োজনীয় ইসলামী জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
.
যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করার জন্য পথ অতিক্রম করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে যাবার পথ সহজ করে দেন। আর ফেরেশতারা তালিবে ইলমদের(জ্ঞান অর্জনরত ছাত্রদের) জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে এমনকি পানির মাছও আলিমের মাগফিরাতের জন্য দু’আ করে। আর আবিদের (ইবাদতকারীর) ওপর আলিমের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে সমগ্র তারকামণ্ডলীর ওপর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো। অবশ্য আলিমগণ হচ্ছেন, নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীগণ তাঁদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে দিরহাম ও দীনার রেখে যান না। তাঁদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ইলম (জ্ঞান) রেখে যান। কাজেই যে ব্যক্তি তা আহরণ করেছে সে পুরো অংশই লাভ করেছে।
[আবু দাউদ ও তিরমিজী;  রিয়াদুস সলিহীন, বই ১৩, ইলম-জ্ঞান-প্রজ্ঞার মর্যাদা ও গুরুত্ব অধ্যায়,  হাদিস ১৩৮৮]
.
“   দৃষ্টিবান আর দৃষ্টিহীন সমান নয়।সমান নয় অন্ধকার ও আলো। সমান নয় ছায়া ও তপ্তরোদ।আরও সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ শ্রবণ করান যাকে ইচ্ছা। তুমি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নও।তুমি তো কেবল একজন সতর্ককারী। আমি তোমাকে[মুহাম্মাদ(ﷺ)] সত্য ধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি। তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যারোপ করে—তাদের পূর্ববর্তীরাও তো মিথ্যারোপ করেছিল। তাদের কাছে তাদের রাসুলগণ স্পষ্ট নিদর্শন, সহীফা এবং উজ্জল কিতাবসহ এসেছিলেন।অতঃপর আমি অবিশ্বাসীদের পাকড়াও করেছিলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি!
তুমি কি দেখোনি, আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টিবর্ষণ করেন, অতঃপর এর দ্বারা আমি বিভিন্ন বর্ণের ফল-মূল উদগত করি। পর্বতসমূহের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বর্ণের গিরিপথ-সাদা, লাল ও নিকষ কালো।অনুরূপভাবে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ, জন্তু, চতুস্পদ প্রাণী রয়েছে।
আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।“
(কুরআন, ফাতির ৩৫:১৯-২৮)

পরীক্ষা যদি নাইবা আসতো তবে আমি এই পথকে সন্দেহ করতাম।


.

.
প্রতি সপ্তাহে জেল সুপার আমার সেলের সামনে দিয়ে হেটে যেত, আর বাইরে দাড়িয়ে আমাকে দেখতো। একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে কেন সলিটারিতে রেখেছো? সুপার বললো, কারন তুমি সন্ত্রাসী আর তুমি অন্যদেরকেও সন্ত্রাসী বানাচ্ছো। আমি বললাম, তোমার প্রমান কি? সে বললো, মুসলিম জেলার তোমার ব্যাপারে একটা লম্বা রিপোর্ট লিখে আমাকে দিয়েছে, সেখানে সে এটা উল্লেখ করেছে।
.
.
মুসলিম জেলার আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিয়েছিল। এজন্য উম্মাহর সমস্যা হল মুনাফিকরা। যে মুসলিম জেলার আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছিল সে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে পরিচিত মুখ ছিল। নিজেকে সালাফি দাবি করতো। আমি নিজে জেলে যাবার আগে তাকে  চিনতাম না তবে সে নিজেই আমাকে জানিয়েছিল, তার সাবেক স্ত্রী এবং তার মেয়ে নিয়মিত আমার ক্লাসগুলোতে উপস্থিত থাকতো।
.
.
সলিটারি কনফাইনমেন্টের অবস্থা এতোই খারাপ ছিল যে ক’মাস আমি ওখানে ছিলাম, অনেকেই সেখানে মারা গিয়েছিল। এক সময় আমাকে আর আমার বাবাকে একটি সেলে রাখা হয়। বাবা থাকতেন নিচের বাঙ্কে আর আমি উপরেরটাতে। একটা জায়নামায বিছানো মত জায়গা সেলের ভেতরে ছিল না। উপরের বাঙ্কে শুয়ে আমি দেখতাম আমার বাবা সালাহ পড়ছেন, ক্বুর’আন তিলাওয়াত করছেন। সব সময় মুখের হাসি লেগে আছে। শুধুমাত্র রাতের অন্ধকারে সালাতে সিজদায় গিয়ে তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন আর কাঁদতেন।
.
.
একদিন আমি আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, “হে আমার পিতা! আপনার মনে কি কখনো সন্দেহের উদয় হয় না? যে পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি, জেল-যুলুম নির্যাতন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন, পুরো দুনিয়া আপনাকে তো বটেই আপনার পরিবারকেও ত্যাগ করেছে, সম্পত্তি হারিয়েছেন, চেনাজানা মানুষরা সব হারিয়ে গেছে, প্রায় সব কিছু হারিয়েছেন – এতো কিছুর পরও আপনার মনে কি সন্দেহের উদয় হয় না?”
.
.
প্রশ্নটা শোনামাত্র বাবার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, তিনি আমার চোখে চোখ রেখে বললেন – “পুত্র! বরং যদি এ পরীক্ষাসমূহ আপতিত না হতো তাহলে আমি এ পথকে সন্দেহ করতাম। যদি এসবকিছু নাহতো তাহলেই আমার মনে সন্দেহের উদয় হতো।“  
.
.
একজন দ্বীনদার ব্যক্তি যে আদর্শের উপর অটল থাকে, তাকে অবশ্যই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, যে আদর্শ প্রচার করবে তার কথা বাদই দিলাম। দুঃখজনক বিষয়টা হল অপরাধী, মাফিয়াসদস্য, খুনী, কমিউনিস্টদের জীবনী পড়ে দেখবেন, যারা উদ্ভট সব আদর্শে বিশ্বাসী – এদের জীবনী পড়ে দেখবেন তাদের অর্থহীন কলুষিত আদর্শের জন্য তারা যতোটুক সাবর করেছে, আজকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- কালিমাতে বিশ্বাসীরা অতোটুক সাবর করতে রাজি না। বিস্ময়কর।
.
.
জীবনে অনেক পরীক্ষা থাকে যেগুলো অনিবার্য। এগুলোকে এড়ানোর কোন উপায় থাকে না। আপনার সাবর করা ছাড়া অন্য কোন সুযোগ থাকে না। কিন্তু দাওয়াহর ক্ষেত্রে সাবরের ব্যাপারটা আলাদা। কারন এক্ষেত্রে আপনি চাইলে কষ্ট, বিপদ এড়িয়ে যেতে পারেন। আমার দাওয়াহর জন্য আমাকে নিয়ে কথা হচ্ছে, কিংবা আমার বিপদ হবার সম্ভাবনা আছে – “থাক, আমি বাসায় আমার বউ-বাচ্চা নিয়ে বসে থাকি”। এজন্য দাওয়াহর জন্য সাবর করা সবচেয়ে উত্তম সাবরের অন্তর্ভুক্ত। কারন আপনি স্বেচ্ছায় সাবর করছেন। এধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি করছেন।
.
.
সবসময় এ বিষয়গুলো নিজের চিন্তায় ও হৃদয়ে ধারন করবেন। আমাদের জীবন শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। এ পথে কষ্ট আসবেই, পরীক্ষা আসবেই। যখন অবস্থা এমন দাঁড়াবে যে আপনার মনে হবে আপনি আর পারছেন না, তখন শুধু জান্নাতে প্রথম মূহুর্তটার কথা মনে করবেন। সবসময়। শুধু প্রথম মূহুর্তটা। দুনিয়ার সবচাইতে হতভাগ্য লোকটিকে বিচারের দিনে এক মুহুর্তের জন্য জান্নাতের স্বাদ পাবার পর, এক সেকেন্ড না, এক মিলিসেকেন্ড না, তার চাইতেও কম সময়ের জন্য জান্নাতের স্বাদ পাবার পর আগেকার সবকিছু ভুলে যাবে। দৃশ্যটা শুধু একবার চিন্তা করুন।  
-শায়খ আহমেদ মুসা জিব্রিল হাফিযাহুল্লাহ
Explanation of the Three Fundamental Principles
ঈষৎ সম্পাদিত ও পরিমার্জিত
লিখেছেন :আসিফ আদনান।