ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় মক্কায় রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর অনুসারীর সংখ্যা যখন
৩৮এ গিয়ে পৌঁছালো, তখন আবু বকর(রা) রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে তাঁর নবুয়ত লাভের কথা
প্রকাশ্যে ঘোষণা করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
কিন্তু রাসুলুল্লাহ(ﷺ) বললেন, “আবু বকর, আমরা এখনো সংখ্যায় অল্প।”
এবারও রাসুলুল্লাহ(ﷺ) তাঁকে নিরস্ত করলেন।কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্মত হয়ে
গেলেন। এ উদ্যেশ্যে সকল মুসলিম মসজিদুল হারামে এসে জমায়েত হলেন।
.
এ সময় আবু বকর(রা) বললেন, “কুরাইশদের ক্রোধ ও একগুঁয়েমী এখন এমন চরমে
পৌঁছেছে যে, আপনার মুখে তাওহিদের বাণী শোনামাত্রই তারা আপনার উপর লাফিয়ে
পড়বে এবং আপনাকে হত্যা করার চেষ্টা করবে।আপনি আমাকে আদেশ করুন, আমি আপনার
কথাগুলো ঘোষণা করে দেই। অবশেষে রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর অনুমতি পেয়ে আবু বকর(রা)
খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন এবং রাসুলুল্লাহ(ﷺ) সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন।”
.
আয়িশাহ(রা) বলেন, “আবু বকর(রা)ই ছিলেন ইসলামের প্রথম খতীব(ভাষণ দানকারী)।
আল্লাহ তাঁর রাসুলের দিকে আহ্বান জানিয়ে তিনিই সর্বপ্রথম খুতবা প্রদান
করেন।” ইতোমধ্যে মুশরিকদের নিকট এ সংবাদ পৌঁছে গিয়েছিল।তারা উত্তেজিত হয়ে
মসজিদে এসে মুসলিমদেরকে নির্মমভাবে মারধোর করতে লাগলো।আবু বকর(রা)কে পদদলিত
করল।উতবা ইবন রাবি’আহ একজন জালিম ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক ছিল।সে আবু বকর(রা)
এর দিকে এগিয়ে আসল এবন চপ্পল দিয়ে তাঁর চেহারায় আঘাত করতে লাগল এবং তাঁর
পেটের উপর উঠে নাচতে লাগল।তাঁকে সে এত নিষ্ঠুরভাবে মারধর করল যে, তাঁর নাক
চেপ্টা হয়ে তাঁর চেহারার সাথে মিশে গেল।আবু বকর(রা) এর নিজ গোত্র বনু তায়িম
যখন এ খবর পেল তখন তারা দৌঁড়ে মসজিদে এল এবং মুশরিকদের সেখান থেকে তাঁড়িয়ে
দিয়ে আবু বকর(রা)কে সাথে নিয়ে তাঁর ঘরের দিকে গেল।
.
এ সময় আবু
বকর(রা) এর মৃত্যুর ব্যাপারে ঐসমস্ত লোক প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।আবু
বকর(রা) অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন।তাঁরা ফিরে মসজিদুল হারামে গেল এবং বললো,
“যদি আবু বকর মারা যায়, তাহলে আমরা অবশ্যই উতবাকে হত্যা করব।” অতঃপর তারা
আবার আবু বকর(রা) এর ঘরে আসলো। ইতোমধ্যে আবু বকর(রা) এর জ্ঞান ফিরে এলে বনু
তায়িমের লোকেরা এবং তাঁর পিতা আবু কুহাফা(রা) তাঁর সাথে কথা বলার চেষ্টা
করলেন।
.
তখন তিনি প্রথম যে কথা বললেন, তা হল— “রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর অবস্থা কী? ”
এটা শুনে বনু তায়িমের লোকেরা ক্রোধান্বিত হয়ে তাঁকে তিরস্কার করে চলে গেল এবং তাঁর আম্মাকে তাঁর দেখাশুনা করতে বলল।
এরপর আবু বকর(রা) নিজের আম্মাকেও একান্তে একই প্রশ্ন করলেন, “রাসুলুল্লাহ(ﷺ) কেমন আছেন?” কিন্তু তিনিও এ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
.
ইত্যবসরে উমার(রা) এর বোন উম্মু জামিল(রা) সেখানে এসে পৌঁছালেন এবং তাঁর
নিকট থেকে আবু বকর(রা) অবগত হলেন যে, রাসুলুল্লাহ(ﷺ) সুস্থ ও নিরাপদে আছেন
এবং আরকাম(রা) এর ঘরে অবস্থান করছেন, তখন তিনি শান্ত হলেন। কিন্তু সাথে
সাথে এ কথাও বললেন, “আল্লাহর শপথ, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজে গিয়ে স্বচক্ষে
রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে না দেখব, ততক্ষণ পর্যন্ত কোন পানাহার করব না।”
.
তাই আবু বকর(রা) উম্মু জামিল ও নিজের মাতার সহযোগিতায় তাঁদের উপর ভর করে
রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর কাছে উপস্থিত হন।রাসুলুল্লাহ(ﷺ) তাঁকে দেখেই এগিয়ে এসে
চুমু খেলেন। মুসলিমরাও সমবেদনা জানানোর জন্য তাঁর দিকে এগিয়ে এলেন।
রাসুলুল্লাহ(ﷺ) তাঁর এ অবস্থা দেখে অত্যন্ত দুঃখিত হলেন।এ সময় আবু বকর(রা) বললেন,
.
“হে আল্লাহর রাসুল, আমার কোন অসুবিধা হয়নি।দুরাচারী ব্যক্তিটি আমার
চেহারায় যা আঘাত করেছে তা ছাড়া।ইনি হলেন আমার স্নেহপরায়না মা। আপনি একজন
বরকতময় সত্তা। আপনি তাঁকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিন এবং তাঁর জন্য দু’আ
করুন।আশা করা যায় যে আল্লাহ তা’আলা তাঁকে আপনার মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন
থেকে রক্ষা করবেন।”
.
এরপর রাসুলুল্লাহ(ﷺ) তাঁর জন্য দু’আ করলেন
এবং তাঁকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন।ঐ দিনেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
এরপর আবু বকর(রা) এক মাস দারুল আরকামে রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর সাথে অবস্থান
করলেন। আবু বকর(রা) প্রহৃত হবার দিন রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর চাচা হামজাহ(রা)
ইসলাম গ্রহণ করেন।
.
[ইবন কাসির, সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩৯-৪৪১
আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪০
ইবন আসাকির, তারিখু দিমাশক, খণ্ড ৩০, পৃষ্ঠা ৪৬-৫৩
আস সলিহী আশ শামি, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩১৯-৩২০]
.
.
Collected from brother :
Muhammad Mushfiqur Rahman Minar
Showing posts with label আর্টিকেল. Show all posts
Showing posts with label আর্টিকেল. Show all posts
Saturday, August 13, 2016
আমাদের বীর
আমাদের বীরদেরকে চিনি- #KnowYourHeroes #AbuUbaidaRA -শেষ পর্ব
===================================
আবু বকর(রাঃ) যেমন নরম স্বভাবের ছিলেন তাঁর জন্য দরকার ছিল গরম স্বভাবের খালিদ(রাঃ), আর কড়া উমরের(রাঃ) জন্য দরকার ছিল একটু নরম স্বভাবের আবু উবাইদা(রাঃ) কে। আবু বকর(রাঃ) ছিলেন ম্যাক্রো ম্যানেজার আর উমর(রাঃ) ছিলেন উল্টা।
উমর(রাঃ) চাইতেন তাঁর নিযুক্ত গভর্নররা তাঁরই মত সাদাসিদা একটা জীবন যাপন করবেন। তাঁর গভর্নররা যতই যোগ্য আর সুখ্যাতি সম্পন্ন হোক না কেন, সময়ে সময়ে তিনি ঠিকই তাঁদের সরেজমিনে দেখে নিশ্চিত হতেন তাঁরা তাঁর গাইডলাইন মত চলছে কিনা।
জেরুজালেম বিজয়ের পথে; আবু উবাইদা(রাঃ) তখন সিরিয়ার গভর্নর; উমর(রাঃ) দেখতে চাইলেন উনি কি রকম থাকেন।
আবু উবাইদা(রাঃ) বললেন, কি দরকার যাওয়ার, আপনি কিন্তু আমার জন্য কাঁদবেন। বাড়িতে ঢুকে এদিক ওদিক সব ফাঁকা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ও আবু উবাইদা, আপনার সব আসবাবপত্র কই গেল? আমি তো এই ঘোড়ার জিন, এই থালা, পানি রাখার চামড়ার এই ব্যাগ ছাড়া আর কিছুই দেখি না! আপনি না গভর্নর! আপনার খাবার দাবার আছে তো?”
আবু উবাইদা(রাঃ) একটা বাক্স থেকে কিছু রুটির টুকরা বের করলেন। উমর(রাঃ) নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না। কেঁদে ফেললেন। আবু উবাইদা(রাঃ) বললেন, আমি বলেছিলাম আপনি আমার জন্য কাঁদবেন, ও আমিরুল মু’মিনীন, যতটুকু আপনার গন্তব্যে পৌঁছাই দেয় সেইটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট।“ সে সময়টায় মুসলিমদের অঢেল সম্পদ ছিল। উমর(রাঃ) বললেন, ও আবু উবাইদা, এই পৃথিবীটা আমাদের সবাইকে বদলে দিছে খালি আপনি ছাড়া।
এমনি করে যে আবু উবাইদা(রাঃ) খলিফা উমরের(রাঃ) আদেশ গুলো মেনে চলতেন বিনা তর্কে প্রতিটি ক্ষেত্রে, সারাজীবন উদাহরণ হয়ে; সেই তিনিই একটা আদেশ অমান্য করে বসলেন।
সিরিয়া জুড়ে তখন প্লেগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরেছে। উমর(রাঃ) একজন বার্তাবাহক পাঠালেন। লিখে দিলেন, “ আপনাকে আমার জরুরী প্রয়োজন। আমার এই চিঠি যদি রাতে পৌঁছায় তবে আমি চাই আপনি সকাল হওয়ার আগেই রওয়ানা দেন, আর এই চিঠি যদি দিনে পৌঁছায় আমি চাই আপনি সন্ধ্যার আগেই দ্রুত রওয়ানা দেন।“
যখন চিঠিটা পৌঁছল, আবু উবাইদা(রাঃ) বললেন, আমি জানি কেন আমিরুল মু’মিনীন আমাকে যেতে বলেছেন, তিনি একজন মানুষের বেঁচে থাকা চান যে কিনা আসলে চিরঞ্জীব না।“ তিনি উমর(রাঃ) কে লিখে দিলেন,
“আমি জানি আমাকে আপনার দরকার, কিন্তু আমি এখন মুসলিম আর্মির মাঝে আর যে মুসিবতে তাঁদের সবাই আক্রান্ত সেই মুসিবত থেকে আমাকে নিজেকে বাঁচানোর কামনা আমার নাই। যতক্ষণ না আল্লাহ্ চান ততক্ষণ আমি তাঁদের থেকে আমাকে আলাদা করতে চাই না। তাই এই চিঠি যখন আপনার হাতে পৌঁছবে তখন আমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দয়া করে আমাকে এখানে থেকে যাওয়ার অনুমতি দিন।“
চিঠিটা পড়ে উমরের(রাঃ) চোখ ভরে পানি আসল। আশেপাশের সবাই জানতে চাইল, আবু উবাইদা(রাঃ) কি মারা গেছেন। উমর(রাঃ) বললেন, না তবে মৃত্যু থেকে তিনি খুব দূরে না।
উমরের(রাঃ) এর অনুমান ভুল ছিল না। খুব বেশীদিন না, আবু উবাইদা(রাঃ) প্লেগে আক্রান্ত হলেন। মৃত্যু ঘনিয়ে এলে তিনি তাঁর আর্মির উদ্দেশ্যে বললেন, “ আমায় তোমাদেরকে কিছু উপদেশ দিতে দাও যা কিনা তোমাদের সব সময় সুপথে রাখতে সাহায্য করবে”। বললেন, “নামাজ কায়েম কর, রমযানের রোযা রাখ, সাদাকাহ দাও, হজ্ব আর উমরা পালন কর। একতাবদ্ধ থাক আর একে অন্যের সহায়ক হও। তোমাদের কমান্ডারের প্রতি আন্তরিক হও আর তাঁদের কাছ থেকে কোন কিছু গোপন কর না। আর এই দুনিয়াকে তোমাদের ধ্বংস করতে দিও না। কেউ যদি হাজার বছরও বাঁচে মৃত্যুর সময় তাঁর অবস্থা কিন্তু আমার এই অবস্থার মতই হবে। তোমাদের উপর শান্তি আর আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হোক”
এরপর তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালের(রাঃ) দিকে ঘুরলেন, বললেন, “ও মুয়াজ, সবাইকে নিয়ে নামাজ পড়।“
এমনি করে, তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলেন। মুয়াজ(রাঃ) দাঁড়ালেন আর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “তোমরা আজ এমন একজনের মৃত্যু দ্বারা জর্জরিত হলে, আল্লাহ্র কসম, আমি এমন কাউকে চিনি না যে কিনা তাঁর থেকে সত্যনিষ্ঠ হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন, যিনি কিনা সব ধরণের খারাপ থেকে যোজন যোজন দূরে ছিলেন, যিনি কিনা মানুষের প্রতি নিজের থেকেও বেশী আন্তরিক ছিলেন। আল্লাহ্র কাছে তাঁর রহমতের জন্য দোয়া কর, আল্লাহও তোমাদের প্রতি দয়াশীল হবেন।“
===================================
আবু বকর(রাঃ) যেমন নরম স্বভাবের ছিলেন তাঁর জন্য দরকার ছিল গরম স্বভাবের খালিদ(রাঃ), আর কড়া উমরের(রাঃ) জন্য দরকার ছিল একটু নরম স্বভাবের আবু উবাইদা(রাঃ) কে। আবু বকর(রাঃ) ছিলেন ম্যাক্রো ম্যানেজার আর উমর(রাঃ) ছিলেন উল্টা।
উমর(রাঃ) চাইতেন তাঁর নিযুক্ত গভর্নররা তাঁরই মত সাদাসিদা একটা জীবন যাপন করবেন। তাঁর গভর্নররা যতই যোগ্য আর সুখ্যাতি সম্পন্ন হোক না কেন, সময়ে সময়ে তিনি ঠিকই তাঁদের সরেজমিনে দেখে নিশ্চিত হতেন তাঁরা তাঁর গাইডলাইন মত চলছে কিনা।
জেরুজালেম বিজয়ের পথে; আবু উবাইদা(রাঃ) তখন সিরিয়ার গভর্নর; উমর(রাঃ) দেখতে চাইলেন উনি কি রকম থাকেন।
আবু উবাইদা(রাঃ) বললেন, কি দরকার যাওয়ার, আপনি কিন্তু আমার জন্য কাঁদবেন। বাড়িতে ঢুকে এদিক ওদিক সব ফাঁকা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ও আবু উবাইদা, আপনার সব আসবাবপত্র কই গেল? আমি তো এই ঘোড়ার জিন, এই থালা, পানি রাখার চামড়ার এই ব্যাগ ছাড়া আর কিছুই দেখি না! আপনি না গভর্নর! আপনার খাবার দাবার আছে তো?”
আবু উবাইদা(রাঃ) একটা বাক্স থেকে কিছু রুটির টুকরা বের করলেন। উমর(রাঃ) নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না। কেঁদে ফেললেন। আবু উবাইদা(রাঃ) বললেন, আমি বলেছিলাম আপনি আমার জন্য কাঁদবেন, ও আমিরুল মু’মিনীন, যতটুকু আপনার গন্তব্যে পৌঁছাই দেয় সেইটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট।“ সে সময়টায় মুসলিমদের অঢেল সম্পদ ছিল। উমর(রাঃ) বললেন, ও আবু উবাইদা, এই পৃথিবীটা আমাদের সবাইকে বদলে দিছে খালি আপনি ছাড়া।
এমনি করে যে আবু উবাইদা(রাঃ) খলিফা উমরের(রাঃ) আদেশ গুলো মেনে চলতেন বিনা তর্কে প্রতিটি ক্ষেত্রে, সারাজীবন উদাহরণ হয়ে; সেই তিনিই একটা আদেশ অমান্য করে বসলেন।
সিরিয়া জুড়ে তখন প্লেগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরেছে। উমর(রাঃ) একজন বার্তাবাহক পাঠালেন। লিখে দিলেন, “ আপনাকে আমার জরুরী প্রয়োজন। আমার এই চিঠি যদি রাতে পৌঁছায় তবে আমি চাই আপনি সকাল হওয়ার আগেই রওয়ানা দেন, আর এই চিঠি যদি দিনে পৌঁছায় আমি চাই আপনি সন্ধ্যার আগেই দ্রুত রওয়ানা দেন।“
যখন চিঠিটা পৌঁছল, আবু উবাইদা(রাঃ) বললেন, আমি জানি কেন আমিরুল মু’মিনীন আমাকে যেতে বলেছেন, তিনি একজন মানুষের বেঁচে থাকা চান যে কিনা আসলে চিরঞ্জীব না।“ তিনি উমর(রাঃ) কে লিখে দিলেন,
“আমি জানি আমাকে আপনার দরকার, কিন্তু আমি এখন মুসলিম আর্মির মাঝে আর যে মুসিবতে তাঁদের সবাই আক্রান্ত সেই মুসিবত থেকে আমাকে নিজেকে বাঁচানোর কামনা আমার নাই। যতক্ষণ না আল্লাহ্ চান ততক্ষণ আমি তাঁদের থেকে আমাকে আলাদা করতে চাই না। তাই এই চিঠি যখন আপনার হাতে পৌঁছবে তখন আমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দয়া করে আমাকে এখানে থেকে যাওয়ার অনুমতি দিন।“
চিঠিটা পড়ে উমরের(রাঃ) চোখ ভরে পানি আসল। আশেপাশের সবাই জানতে চাইল, আবু উবাইদা(রাঃ) কি মারা গেছেন। উমর(রাঃ) বললেন, না তবে মৃত্যু থেকে তিনি খুব দূরে না।
উমরের(রাঃ) এর অনুমান ভুল ছিল না। খুব বেশীদিন না, আবু উবাইদা(রাঃ) প্লেগে আক্রান্ত হলেন। মৃত্যু ঘনিয়ে এলে তিনি তাঁর আর্মির উদ্দেশ্যে বললেন, “ আমায় তোমাদেরকে কিছু উপদেশ দিতে দাও যা কিনা তোমাদের সব সময় সুপথে রাখতে সাহায্য করবে”। বললেন, “নামাজ কায়েম কর, রমযানের রোযা রাখ, সাদাকাহ দাও, হজ্ব আর উমরা পালন কর। একতাবদ্ধ থাক আর একে অন্যের সহায়ক হও। তোমাদের কমান্ডারের প্রতি আন্তরিক হও আর তাঁদের কাছ থেকে কোন কিছু গোপন কর না। আর এই দুনিয়াকে তোমাদের ধ্বংস করতে দিও না। কেউ যদি হাজার বছরও বাঁচে মৃত্যুর সময় তাঁর অবস্থা কিন্তু আমার এই অবস্থার মতই হবে। তোমাদের উপর শান্তি আর আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হোক”
এরপর তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালের(রাঃ) দিকে ঘুরলেন, বললেন, “ও মুয়াজ, সবাইকে নিয়ে নামাজ পড়।“
এমনি করে, তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলেন। মুয়াজ(রাঃ) দাঁড়ালেন আর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “তোমরা আজ এমন একজনের মৃত্যু দ্বারা জর্জরিত হলে, আল্লাহ্র কসম, আমি এমন কাউকে চিনি না যে কিনা তাঁর থেকে সত্যনিষ্ঠ হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন, যিনি কিনা সব ধরণের খারাপ থেকে যোজন যোজন দূরে ছিলেন, যিনি কিনা মানুষের প্রতি নিজের থেকেও বেশী আন্তরিক ছিলেন। আল্লাহ্র কাছে তাঁর রহমতের জন্য দোয়া কর, আল্লাহও তোমাদের প্রতি দয়াশীল হবেন।“
জ্ঞান
একজন তালিবুল ইলমের একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
একজন আলেম একটি সুন্দর ও শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তা হচ্ছে, কোন একজন ‘তালিবুল ইলম’, বা দ্বীনের ছাত্র দীর্ঘদিন তার উস্তাদের কাছে ইলম অর্জন করার পর যখন বিদায় নিয়ে দেশে চলে যাচ্ছিল তখন উস্তাদ ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি আমার কাছে কত বছর অবস্থান করেছ?” ছাত্রটি বললো, “৩৩ বছর!” উস্তাদ বললেন, “এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তুমি আমার কাছ থেকে কতটুকু উপকৃত হয়েছো?” ছাত্রটি বলল, “আমি আপনার নিকট থেকে মাত্র ছয়টি মাসআলা শিখেছি।” উস্তাদ বললেন, “এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তুমি মাত্র ছয়টি মাসআলা শিখেছো? ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউ’ন। আমি মনে করি, তোমার মধ্যে আল্লাহর ভয় বলতে কিছু নেই?” ছাত্র বলল, “আমি সত্য বলছি, মিথ্যা নয়।” উস্তাদ এবার বললেন, “আচ্ছা বলো তো শুনি, কী সেই ছয়টি মাসআলা?” এবার ছাত্রটি বলতে লাগলঃ
(১) আমি দেখলাম দুনিয়ার মানুষের মধ্যে শুধু হিংসা আর হিংসা। একজন আরেকজনের সাথে হিংসা করে। কেউ কাউকে ভালবাসেনা। আর আমি যখন আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলাম,
“আমি জান্নাতীদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ ও মনোমালিন্য সম্পূর্ণরূপে বের করে দেবো, তারা পরস্পর ভাই ভাইয়ে পরিণত হয়ে মুখোমুখি আসনে (আরাম করে) বসবে।” [সুরা হিজরঃ ৪৭]
তখন দুনিয়ার সুখ-সামগ্রী বর্জন করে আমি জান্নাত যাওয়াকেই প্রাধান্য দিলাম। উস্তাদ তখন জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন আমলের বিনিময়ে জান্নাতে যেতে চাও? ছাত্র বললঃ আমি আল্লাহ তাআ’লার এই বাণী পাঠ করেছি, “আর যারা তাদের রব্বের সামনে হাজির হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে তাদের প্রত্যেকের জন্যে (পুরষ্কার হিসেবে) দুইটি করে জান্নাত রয়েছে৷” [সুরা আর-রাহমানঃ ৪৬]
আল্লাহ তাআ’লা আরো বলেছেন, “আর যে ব্যক্তি নিজের রব্বের সামনে দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীত হলো এবং নিজের নফসকে খারাপ কামনা থেকে বিরত রাখলো, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।” [সুরা নাযিয়াতঃ ৪০-৪১]
সুতরাং, আমি আল্লাহকে ভয় করি। সেই সাথে জান্নাতের আশা নিয়ে আল্লাহর ভয়েই আমি নেক আমল করি। আর আমি আমার নফস থেকে খারাপ চিন্তা ও কুপ্রবৃত্তি বের করে ফেলেছি এবং নফসকে একদম সোজা করে ফেলেছি।
(২) আমি দেখলামঃ দুনিয়ার প্রত্যেকেই একজন করে খাস বন্ধু গ্রহণ করে। আমিও একজন বন্ধু খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু দেখলাম, সেই বন্ধুও এক সময় আলাদা হয়ে যাবে। কারণ মৃত্যুর সময় কারো বন্ধুই সাথে যায়না। একমাত্র তার আমলই সাথে যায়। তাই আমি দুনিয়ার কোন মানুষকে বন্ধু না বানিয়ে, শুধুমাত্র আখেরাতের জন্যে নেক আমলকেই বন্ধু বানালাম। উস্তাদ বললেন, “তুমি খুব ভাল করেছ।”
(৩) আমি দুনিয়ার মানুষের মধ্যে দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম, তাদের প্রত্যেকেরই এমন কিছু জিনিষ আছে, যা সে লুকিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু আমি দেখলাম, সেই লুকায়িত জিনিসটিও কখনো দুনিয়ার চোর-ডাকাতেরা নিয়ে চলে যায়। তাই আমি যখন দেখলাম, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নেক আমল করে, সেই আমল কখনো নষ্ট হয়না, কোন চোর-ডাকাত তা চুরি করতে পারেনা। আল্লাহ তাআ’লা তার বিনিময় পুরাপুরি দান করেন। তাই আল্লাহর জন্য আমল করাকেই সর্বাধিক প্রিয় মনে করলাম।
(৪) আমি যখন দেখলাম দুনিয়ার মানুষেরা রিযিকের জন্য মারামারি, কাটাকাটি করছে এবং পরস্পর হিংসা করছে। আর আমি যখন আল্লাহর এই বাণী পেলাম,
“তারা কি তোমার রব্বের রহমত (রিযিক) বণ্টন করে? দুনিয়ার জীবনে এদের মধ্যে জীবন যাপনের উপায় উপকরণ আমি বণ্টন করে দিয়েছি এবং এদের মধ্য থেকে কিছু লোককে অপর কিছু লোকের উপর অনেক বেশী মর্যাদা দিয়েছি।” [সুরা যুখরুফঃ ৩২]
তখন থেকে রিযিকের জন্য বেশি হাহুতাশ করা এবং দুঃশ্চিন্তা করা সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিয়েছি।
(৫) আমি যখন দেখলাম, দুনিয়ার মানুষেরা পরস্পরকে শত্রু মনে করে এবং তাদের কেউ অন্য কাউকে দেখতে পারেনা এবং যখন আল্লাহ তাআলার এই বাণী পাঠ করলাম, “আসলে শয়তান তোমাদের শত্রু, তাই তোমরাও তাকে নিজেদের শত্রু মনে করো। সেতো নিজের অনুসারীদেরকে নিজের পথে এজন্য ডাকছে, যাতে তারা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।” [সুরা ফাতিরঃ ৬]
আল্লাহর এই বাণী উপলব্ধি করার পর আমি মানুষের সাথে শত্রুতা পোষণ করা বাদ দিয়ে কেবল শয়তানকেই আমার একমাত্র শত্রু বলে মনে করলাম।
(৬) আমি দেখলাম দুনিয়ার মানুষেরা টাকা-পয়সা, গাড়ি-ঘোড়া, দুনিয়ার মানুষ ও অন্যান্য সম্পদের উপর নির্ভর করে এবং দুনিয়ার বিপদ-আপদকে ভয় করে। আর আমি যখন দেখলাম এগুলো চিরস্থায়ী নয় এবং যখন দেখলাম, “যে ব্যক্তিই আল্লাহকে ভয় করে চলবে আল্লাহ তার জন্য কঠিন অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন এবং এমন পন্থায় তাকে রিযিক দেবেন, যা সে কখনো কল্পনাও করতে পারে না৷ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ অবশ্যই তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করে থাকেন।” [সুরা তালাকঃ ২]
তখন আমি দুনিয়ার সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর উপরেই ভরসা করতে লাগলাম। তখন উস্তাদ বললেন, “সত্যিই তুমি অত্যন্ত উত্তম শিক্ষা গ্রহণ করেছ। আল্লাহই ভাল জানেন।”
কৃতজ্ঞতাঃ শায়খ আব্দুল্লাহ শাহেদ মাদানী।
একজন আলেম একটি সুন্দর ও শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তা হচ্ছে, কোন একজন ‘তালিবুল ইলম’, বা দ্বীনের ছাত্র দীর্ঘদিন তার উস্তাদের কাছে ইলম অর্জন করার পর যখন বিদায় নিয়ে দেশে চলে যাচ্ছিল তখন উস্তাদ ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি আমার কাছে কত বছর অবস্থান করেছ?” ছাত্রটি বললো, “৩৩ বছর!” উস্তাদ বললেন, “এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তুমি আমার কাছ থেকে কতটুকু উপকৃত হয়েছো?” ছাত্রটি বলল, “আমি আপনার নিকট থেকে মাত্র ছয়টি মাসআলা শিখেছি।” উস্তাদ বললেন, “এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তুমি মাত্র ছয়টি মাসআলা শিখেছো? ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউ’ন। আমি মনে করি, তোমার মধ্যে আল্লাহর ভয় বলতে কিছু নেই?” ছাত্র বলল, “আমি সত্য বলছি, মিথ্যা নয়।” উস্তাদ এবার বললেন, “আচ্ছা বলো তো শুনি, কী সেই ছয়টি মাসআলা?” এবার ছাত্রটি বলতে লাগলঃ
(১) আমি দেখলাম দুনিয়ার মানুষের মধ্যে শুধু হিংসা আর হিংসা। একজন আরেকজনের সাথে হিংসা করে। কেউ কাউকে ভালবাসেনা। আর আমি যখন আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলাম,
“আমি জান্নাতীদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ ও মনোমালিন্য সম্পূর্ণরূপে বের করে দেবো, তারা পরস্পর ভাই ভাইয়ে পরিণত হয়ে মুখোমুখি আসনে (আরাম করে) বসবে।” [সুরা হিজরঃ ৪৭]
তখন দুনিয়ার সুখ-সামগ্রী বর্জন করে আমি জান্নাত যাওয়াকেই প্রাধান্য দিলাম। উস্তাদ তখন জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন আমলের বিনিময়ে জান্নাতে যেতে চাও? ছাত্র বললঃ আমি আল্লাহ তাআ’লার এই বাণী পাঠ করেছি, “আর যারা তাদের রব্বের সামনে হাজির হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে তাদের প্রত্যেকের জন্যে (পুরষ্কার হিসেবে) দুইটি করে জান্নাত রয়েছে৷” [সুরা আর-রাহমানঃ ৪৬]
আল্লাহ তাআ’লা আরো বলেছেন, “আর যে ব্যক্তি নিজের রব্বের সামনে দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীত হলো এবং নিজের নফসকে খারাপ কামনা থেকে বিরত রাখলো, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।” [সুরা নাযিয়াতঃ ৪০-৪১]
সুতরাং, আমি আল্লাহকে ভয় করি। সেই সাথে জান্নাতের আশা নিয়ে আল্লাহর ভয়েই আমি নেক আমল করি। আর আমি আমার নফস থেকে খারাপ চিন্তা ও কুপ্রবৃত্তি বের করে ফেলেছি এবং নফসকে একদম সোজা করে ফেলেছি।
(২) আমি দেখলামঃ দুনিয়ার প্রত্যেকেই একজন করে খাস বন্ধু গ্রহণ করে। আমিও একজন বন্ধু খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু দেখলাম, সেই বন্ধুও এক সময় আলাদা হয়ে যাবে। কারণ মৃত্যুর সময় কারো বন্ধুই সাথে যায়না। একমাত্র তার আমলই সাথে যায়। তাই আমি দুনিয়ার কোন মানুষকে বন্ধু না বানিয়ে, শুধুমাত্র আখেরাতের জন্যে নেক আমলকেই বন্ধু বানালাম। উস্তাদ বললেন, “তুমি খুব ভাল করেছ।”
(৩) আমি দুনিয়ার মানুষের মধ্যে দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম, তাদের প্রত্যেকেরই এমন কিছু জিনিষ আছে, যা সে লুকিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু আমি দেখলাম, সেই লুকায়িত জিনিসটিও কখনো দুনিয়ার চোর-ডাকাতেরা নিয়ে চলে যায়। তাই আমি যখন দেখলাম, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নেক আমল করে, সেই আমল কখনো নষ্ট হয়না, কোন চোর-ডাকাত তা চুরি করতে পারেনা। আল্লাহ তাআ’লা তার বিনিময় পুরাপুরি দান করেন। তাই আল্লাহর জন্য আমল করাকেই সর্বাধিক প্রিয় মনে করলাম।
(৪) আমি যখন দেখলাম দুনিয়ার মানুষেরা রিযিকের জন্য মারামারি, কাটাকাটি করছে এবং পরস্পর হিংসা করছে। আর আমি যখন আল্লাহর এই বাণী পেলাম,
“তারা কি তোমার রব্বের রহমত (রিযিক) বণ্টন করে? দুনিয়ার জীবনে এদের মধ্যে জীবন যাপনের উপায় উপকরণ আমি বণ্টন করে দিয়েছি এবং এদের মধ্য থেকে কিছু লোককে অপর কিছু লোকের উপর অনেক বেশী মর্যাদা দিয়েছি।” [সুরা যুখরুফঃ ৩২]
তখন থেকে রিযিকের জন্য বেশি হাহুতাশ করা এবং দুঃশ্চিন্তা করা সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিয়েছি।
(৫) আমি যখন দেখলাম, দুনিয়ার মানুষেরা পরস্পরকে শত্রু মনে করে এবং তাদের কেউ অন্য কাউকে দেখতে পারেনা এবং যখন আল্লাহ তাআলার এই বাণী পাঠ করলাম, “আসলে শয়তান তোমাদের শত্রু, তাই তোমরাও তাকে নিজেদের শত্রু মনে করো। সেতো নিজের অনুসারীদেরকে নিজের পথে এজন্য ডাকছে, যাতে তারা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।” [সুরা ফাতিরঃ ৬]
আল্লাহর এই বাণী উপলব্ধি করার পর আমি মানুষের সাথে শত্রুতা পোষণ করা বাদ দিয়ে কেবল শয়তানকেই আমার একমাত্র শত্রু বলে মনে করলাম।
(৬) আমি দেখলাম দুনিয়ার মানুষেরা টাকা-পয়সা, গাড়ি-ঘোড়া, দুনিয়ার মানুষ ও অন্যান্য সম্পদের উপর নির্ভর করে এবং দুনিয়ার বিপদ-আপদকে ভয় করে। আর আমি যখন দেখলাম এগুলো চিরস্থায়ী নয় এবং যখন দেখলাম, “যে ব্যক্তিই আল্লাহকে ভয় করে চলবে আল্লাহ তার জন্য কঠিন অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন এবং এমন পন্থায় তাকে রিযিক দেবেন, যা সে কখনো কল্পনাও করতে পারে না৷ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ অবশ্যই তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করে থাকেন।” [সুরা তালাকঃ ২]
তখন আমি দুনিয়ার সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর উপরেই ভরসা করতে লাগলাম। তখন উস্তাদ বললেন, “সত্যিই তুমি অত্যন্ত উত্তম শিক্ষা গ্রহণ করেছ। আল্লাহই ভাল জানেন।”
কৃতজ্ঞতাঃ শায়খ আব্দুল্লাহ শাহেদ মাদানী।
শিশুপর্ন ও পেডোফাইলদের ভয়ংকর তথয!!!
১.
বিক্ষিপ্ত ভাবে এদিক ওদিক তাকাবার সময় খেয়াল হল বারান্দার পাশে পাহাড়ের খন্ডিত ছিটেফোটার অংশে দাড়ানো কেউ একজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বই থেকে পুরোপুরি মাথা না উঠিয়ে আড়চোখে তাকালাম। সমবয়েসী একটা ছেলে। জীর্ন-মলিন পোশাক। সম্ভবত পাতা কুড়োতে এই দিকে আসা। মনে হল আমার চাইতে হাতে ধরা বইয়ের প্রতিই দর্শনার্থীর মনোযোগ বেশি। আড়চোখে ছেলেটাকে বার দুয়েক দেখে নিয়ে কায়দা করে বইটাকে ঘুরিয়ে ধরলাম যাতে ছেলেটা পুরো প্রচ্ছদটা দেখতে পায়। মনে মনে এক গাল হেসে নিলাম। স্বাভাবিক। কেনার সময়ই বইটার প্রচ্ছদে চোখ আটকে গিয়েছিল। বইটার গল্প নিয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম। তবুও বলা যায় প্রচ্ছদের আকর্ষনেই অন্যান্য বইগুলোকে ফেলে এ বইটাকে বেছে নেওয়া। মনে মনে বারকয়েক নিজের পিঠ চাপড়ে দিলাম। কাজ ফেলে সমবয়েসী একটা ছেলে আমার বইয়ের প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে থাকা নিঃসন্দেহে আমার সিদ্ধান্তের যথার্থতার অকাট্য প্রমান।
.
বইটা ছিল সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় কিশোর হরর সিরিযের। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে এক্স-ফাইলস, গুসবাম্পস, রসওয়েল সহ হরর/থ্রিলার/সায়েন্স ফিকশান জাতীয় বিভিন ওয়েস্টার্ন টিভি সিরিয ও সিনেমার জনপ্রিয়তার সময়ে শুরু হয়েছিল “কিশোর হরর” সিরিযের। সেবা প্রকাশনীর নিয়মিত পাঠকদের কাছে, বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া “তিন গোয়েন্দা” পাঠকদের কাছে খুব দ্রুতই জনপ্রিয় ওঠে কিশোর হরর সিরিয। হরর সিরিযের জনপ্রিয়তার প্রভাবে কিছুদিন তিন গোয়েন্দা সিরিয থেকেও “কিশোর চিলার” নামে কিছু বই প্রকাশ করা হয়। আমার হাতে ধরা বইটার নাম ছিল বৃক্ষমানব। প্রচ্ছদে ছিল সবুজ রঙের বিকৃত বিকট এক মুখের ছবি। ৯৭ এ প্রকাশিত “বৃক্ষমানব” ছিল সেবা-র কিশোর হরর সিরিযের প্রথম দিকের বই এবং আমাদের (আমার ও আপুর জয়েন্ট ভেনচার) কেনা কিশোর হরর সিরিযের প্রথম বই। লেখকের নাম, টিপু কিবরিয়া।
.
.
অপ্রত্যাশিতভাবে অনির্ধারিত কালের জন্য ছুটি পাওয়া গেছে। নানা কারনে নজরদারী নেই, জবাবদিহিতা নেই। চিন্তাহীন এবং আনন্দময় একটা সময়। আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগের কথা। সকাল ন’টার মতো বাজছে। রোদ মাথায় নিয়ে হাকডাক করতে করতে ওয়ার্কাররা বাসার সামনের আন্ডার-কন্সট্রাকশান বিল্ডিং-এর ছাদ ঢালাই –এর কাজ করছে। নাস্তা শেষে এক তলার সামনের বারান্দাতে গল্পের বই নিয়ে বসলেও পুরোটা মনোযোগ বইয়ের দিকে নেই। পড়া ফেলে মাঝে মাঝেই এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। পাহাড়ী এলাকায় বাসা। কিংবা বলা যায় পাহাড় কেটে বানানো আবাসিক এলাকা। বারান্দার ডান দিক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের খন্ডিত ছিটেফোঁটা।
.
বিক্ষিপ্ত ভাবে এদিক ওদিক তাকাবার সময় খেয়াল হল বারান্দার পাশে পাহাড়ের খন্ডিত ছিটেফোটার অংশে দাড়ানো কেউ একজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বই থেকে পুরোপুরি মাথা না উঠিয়ে আড়চোখে তাকালাম। সমবয়েসী একটা ছেলে। জীর্ন-মলিন পোশাক। সম্ভবত পাতা কুড়োতে এই দিকে আসা। মনে হল আমার চাইতে হাতে ধরা বইয়ের প্রতিই দর্শনার্থীর মনোযোগ বেশি। আড়চোখে ছেলেটাকে বার দুয়েক দেখে নিয়ে কায়দা করে বইটাকে ঘুরিয়ে ধরলাম যাতে ছেলেটা পুরো প্রচ্ছদটা দেখতে পায়। মনে মনে এক গাল হেসে নিলাম। স্বাভাবিক। কেনার সময়ই বইটার প্রচ্ছদে চোখ আটকে গিয়েছিল। বইটার গল্প নিয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম। তবুও বলা যায় প্রচ্ছদের আকর্ষনেই অন্যান্য বইগুলোকে ফেলে এ বইটাকে বেছে নেওয়া। মনে মনে বারকয়েক নিজের পিঠ চাপড়ে দিলাম। কাজ ফেলে সমবয়েসী একটা ছেলে আমার বইয়ের প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে থাকা নিঃসন্দেহে আমার সিদ্ধান্তের যথার্থতার অকাট্য প্রমান।
.
বইটা ছিল সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় কিশোর হরর সিরিযের। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে এক্স-ফাইলস, গুসবাম্পস, রসওয়েল সহ হরর/থ্রিলার/সায়েন্স ফিকশান জাতীয় বিভিন ওয়েস্টার্ন টিভি সিরিয ও সিনেমার জনপ্রিয়তার সময়ে শুরু হয়েছিল “কিশোর হরর” সিরিযের। সেবা প্রকাশনীর নিয়মিত পাঠকদের কাছে, বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া “তিন গোয়েন্দা” পাঠকদের কাছে খুব দ্রুতই জনপ্রিয় ওঠে কিশোর হরর সিরিয। হরর সিরিযের জনপ্রিয়তার প্রভাবে কিছুদিন তিন গোয়েন্দা সিরিয থেকেও “কিশোর চিলার” নামে কিছু বই প্রকাশ করা হয়। আমার হাতে ধরা বইটার নাম ছিল বৃক্ষমানব। প্রচ্ছদে ছিল সবুজ রঙের বিকৃত বিকট এক মুখের ছবি। ৯৭ এ প্রকাশিত “বৃক্ষমানব” ছিল সেবা-র কিশোর হরর সিরিযের প্রথম দিকের বই এবং আমাদের (আমার ও আপুর জয়েন্ট ভেনচার) কেনা কিশোর হরর সিরিযের প্রথম বই। লেখকের নাম, টিপু কিবরিয়া।
.
.
২.
সেবার কিশোর হরর সিরিয আর সিরিযের লেখকের নাম নানা কারন প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। বই পড়ার নেশা দীর্ঘদিন ভোগালেও ইংরেজি গল্প আর টিভি-শোর মধ্যম মানের নকল পড়ার চাইতে সোর্স ম্যাটেরিয়াল পড়াটাই বেশি লজিকাল মনে হত। এছাড়া স্কুলের দিনগুলোতে সম্পূর্ণ অবসর সময়টা বইয়ের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সময়ের সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে বইয়ের জন্য বরাদ্দটা কমতে থাকে। টিপু কিবরিয়ার বিস্মৃতপ্রায় নামটা মনে করিয়ে দেয় ২০১৪ এর জুন থেকে অগাস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত বেশ কিছু নিউয রিপোর্ট। প্রায় দু’মাস ধরে প্রকাশিত এসব রিপোর্টের সারসংক্ষেপ পাঠকের জন্য এখানে তুলে ধরছি।
.
আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির ভয়ঙ্কর একটি চক্র বাংলাদেশে বসেই দীর্ঘ নয় বছর পথশিশুদের ব্যবহার করে পর্নো ভিডিও তৈরি করে আসছিল। আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২০১৪ এর ১০ জুন ইন্টারপোলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশু পর্ণোগ্রাফি তৈরির দায়ে সিআইডি গ্রেফতার করে টি আই এম ফখরুজ্জামান ও তার দুই সহযোগীকে। সিআইডির পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, এ চক্র আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ছেলেশিশুদের দিয়ে পর্নো ছবি তৈরি করতো। এ চক্রের মূল হোতা টি আই এম ফখরুজ্জামান টিপু কিবরিয়া নামে অধিক পরিচিত। তার বাইরের পরিচয় তিনি দেশের একটি খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থার কিশোর থ্রিলার ও হরর সিরিজের লেখক। এছাড়া তার বেশ কিছু শিশুতোষ গল্প উপন্যাসের বইও রয়েছে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে এখন তার অন্ধকার জগতের পরিচয়ই সামনে চলে এসেছে।
.
১৯৯১ সাল থেকে ১০ বছর টিপু সেবা প্রকাশনীর কিশোর পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে ফ্রি-ল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। গড়ে তোলেন একটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটিও। রাজধানীর মুগদায় তার একটি স্টুডিও রয়েছে। এ সময় তার তোলা ছেলে পথশিশুদের স্থির ছবি ইন্টারনেটে বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটারম ফ্লিকারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করতেন। এই ছবি দেখে সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির পর্নো ছবির ব্যবসায়ীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নগ্ন ছবি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে টাকারও প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবে রাজি হয় টিপু। ফুঁসলিয়ে ও টাকার বিনিময়ে পথশিশুদের সংগ্রহ করে নগ্ন ছবি তুলে পাঠাতে শুরু করেন।
.
কিছু ছবি পাঠানোর পরই পর্নো ছবি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়া হয় তাকে। শুরু হয় এই পর্নো ছবি (ভিডিও) তৈরির কাজ। সময়টা ২০০৫ সাল। নুরুল আমিন ওরফে নুরু মিয়া, নুরুল ইসলাম, সাহারুলসহ কয়েকজনের মাধ্যমে বস্তিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ছিন্নমূল ছেলে শিশুদের সংগ্রহ করেন টিপু। মুগদার মানিকনগরের ওয়াসা রোডের ৫৭/এল/২ নম্বর বাড়ির নিচতলায় দুই রুমের বাসা ভাড়া নিয়ে জমে ওঠে ফ্রি-ল্যান্স ফটোগ্রাফির আড়ালে পথশিশুদের দিয়ে পর্নো ছবি নির্মাণ ও ইন্টারনেটে বিদেশে পাঠানোর রমরমা ব্যবসা। নয় বছরে কমপক্ষে ৫০০ শিশুর পর্ণোগ্রাফিক ভিডিও তৈরি করে টিপু ও তার সহযোগীরা। ৮-১৩ বছরের এসব পথশিশুদের ৩০০-৪০০ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এ কাজে ব্যবহার করা হতো।
.
টিপু এবং তার ওই সহযোগীরা শিশুদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতেন। আর বেশির ভাগই এসব ভিডিও করতেন টিপু নিজেই। একপর্যায়ে এই জঘন্য অপরাধ টিপুর নেশা ও পেশায় পরিণত হয়ে যায়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে টিপু বলেছেন, তিনি পর্নো ছবি তৈরি করে জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের তিন ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। এঁদের একেকজনের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিনি ৫০ হাজার করে দেড় লাখ টাকা পেতেন। তবে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি জানিয়েছে, টিপু কিবরিয়া তাঁর তৈরি পর্নো ছবি ১৩টি দেশের ১৩ জন নাগরিকের কাছে পাঠাতেন। এসব দেশের মধ্যে আছে কানাডা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, মধ্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। তদন্তে আরো জানা গেছে বেশির ভাগ ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে। এরপর সেখানকার ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব পর্নো ছবি বিক্রি করতো। প্রতিটি সিডির জন্য ৩শ’ থেকে ৫শ’ ডলার পেতেন টিপু। এই টাকা অনলাইন ব্যাংকিং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টিপুর কাছে পাঠানো হতো।
.
টিপুর মাধ্যমে শিশু পর্নো ছবি বিক্রির দুই হোতা বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জার্মানির এক পর্নো ছবি বিক্রেতা বাংলাদেশে এসেছিলেন। আর ২০১২ সালে আসেন সুইজারল্যান্ডের আরেক পর্নো বিক্রেতা। তারা ওঠেন ঢাকার আবাসিক হোটেলে। সে সময় টিপু তাদের কাছে ছেলে শিশু পাঠান। তারা ওই শিশুদের নিয়ে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হন। এজন্য টিপু এবং তার সহযোগীরা পেয়েছেন ৮ হাজার ডলার।
.
ইন্টারপোলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ ও ১১ জুন খিলগাঁও, মুগদা এবং গোড়ানে অভিযান চালিয়ে টিপু কিবরিয়া এবং তার তিন সহযোগী নুরুল আমিন, নুরুল ইসলাম ও সাহারুলকে গ্রেফতার করে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম। স্টুডিওতে আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ১৩ বছরের এক শিশুর সাথে টিপুর সহযোগী নুরুল ইসলানকে। টিপুর খিলগাঁওয়ের তারাবাগের ১৫১/২/৪২ নম্বর বাড়ির বাসা ও স্টুডিও থেকে শতাধিক পর্নো সিডি, আপত্তিকর শতাধিক স্থির ছবি, ৭০টি লুব্রিকেটিং জেল, ৪৮ পিস আন্ডারওয়ার, স্টিল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, সিপিইউ, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
.
http://bit.ly/2atUZJi
http://bit.ly/2aQzPe9
http://bit.ly/2atZg5N
http://bit.ly/2aPjZjN
http://bit.ly/2aPjTsf
http://bit.ly/2aPkiuM
http://bit.ly/2auZpmn
http://bit.ly/2atZFVN
.
টিপু কিবরিয়ার ফ্লিকার লিঙ্ক - http://bit.ly/2b1ZXiu
টিপু কিবরিয়ার ব্লগ (সামওয়্যার ইন ব্লগ) লিঙ্ক - http://bit.ly/2aHYxuv
.
উপরের তথ্যগুলো ভয়ঙ্কর। তবে বাস্তব অবস্থা এর চেয়ে লক্ষগুন বেশি ভয়ঙ্কর। টিপু কিবরিয়ারা একটা বিশাল নেটওয়ার্কের ছোট একটা অংশ মাত্র। বিশ্বব্যাপী চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি ও পেডোফাইল নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি, ক্ষমতা ও অবিশ্বাস্য অসুস্থ অমানুষিক নৃশংসতার প্রকৃত চিত্র এতোটাই ভয়াবহ যে প্রথম প্রথম এটা বিশ্বাস করাটা একজন ব্যাক্তির জন্য কঠিন হয়ে যায়। আর একবার এ অসুস্থতা ও বিকৃতির বাস্তবতা, মাত্রা, প্রসার, ও নাগাল সম্পর্কে একবার জানার পর এ ভয়াবহতাকে মাথা থেকে দূর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের চারপাশের বিকৃত অসুস্থ পৃথিবীটার এ এমন এক বাস্তবতা যা সম্পর্কে জানাটাই একজন মানুষের মনকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এ এমন এক অন্ধকার জগত যাতে মূহুর্তের জন্য উকি দেওয়া একজন মানুষকে আমৃত্যু তাড়া করে বেড়াতে পারে।
.
টিপু কিবরিয়ার লেখা কিশোর হরর সিরিযের বইগুলোর ব্যাক কাভারে সবসময় দুটা লাইন দেয়া থাকতো – “পাঠক, সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!” এ লাইনদুটো কিশোর হরর সিরিযের ট্যাগলাইনের মতো ছিল। সেবার বইগুলোর পাতায় উঠে আসা অন্ধকারের কল্পিত গল্পগুলোর জন্য লাইনদুটোকে অতিশয়োক্তি মনে হলেও, যে অন্ধকারে বাস্তবর জগতের চিত্র তুলে ধরতে যাচ্ছি তার জন্য এ লাইনদুটোকে কোনক্রমেই অত্যুক্তি বলা যায় না। তাই টিপু কিবরিয়াকে দিয়ে যে গল্পের শুরু সে গল্পের গভীরে ঢোকার আগে টিপুর ভাষাতেই সতর্ক করছি–
.
“পাঠক, সাবধান!
ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”
.
.
৩.
টিপু কিবরিয়াকে যদি ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে চিন্তা করেন তবে তার বানানো শিশু পর্ণোগ্রাফির মূল ডিস্ট্রিবিউটার এবং ব্যবহারকারীরা হল পশ্চিমা বিশেষ করে ইউরোপিয়ানরা। শুধুমাত্র চোখের ক্ষুধা মেটানোয় তৃপ্ত না হয়ে টিপুর এ ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশে ঘুরে গেছে। কিছু ডলারের বিনিময়ে টিপু কিবরিয়া তার ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের জন্য তৃপ্তির ব্যবস্থা করেছে। দুঃখজনক সত্য হল, পেডোফিলিয়া নেটওয়ার্ক ও চাইল্ড পর্ণোগ্রাফির বিশ্বব্যাপী ধারা এটাই। ঠিক যেভাবে নাইকি-র মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো কম খরচে তাদের পোশাকের চাহিদা মেটানোর জন্য ম্যানুফাকচারিং এর কাজটা “তৃতীয় বিশ্বের” দেশগুলোর কাছে আউটসোর্স করে, ঠিক তেমনিভাবে পশ্চিমারা বিকৃতকামীরা শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি এবং শিশুকামের জন্য শিশু সংগ্রহের কাজটা আউটসোর্স করে। টিপু কিবরিয়ার মতো এরকম এ ইন্ডাস্ট্রির আরো অনেক ম্যানুফ্যাকচারার ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। তিনটি উদাহরন তুলে ধরছি-
.
.
রিচার্ড হাকল – ১৯৮৬ তে ব্রিটেনে জন্মানো হাকল তার “নেশা ও পেশার” বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেয় দক্ষিন পূর্ব এশিয়াকে। লাওস, ক্যাম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্ডিয়াতে পদচারনা থাকলেও হাকল তার মূল বেইস হিসেবে বেছে নেয় মালয়শিয়াকে। কুয়ালামপুরের আশেপাশে বিভিন্ন দারিদ্র দারিদ্রকবলিত অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর মাঝে সক্রিয় খ্রিষ্টান মিশনারীদের সাথে সম্পর্কের কারনে সহজেই হাকল মালয়শিয়াতে নিজের জন্য জায়গা করে নেয়। কখনো ফ্রি-ল্যান্সিং ফটোগ্রাফার, কখনো ডকুমেন্টারি পরিচালক, কখনো ইংরেজী শিক্ষক, আর কখনো নিছক খ্রিষ্টান মিশনারী হিসেবে মালয়শিয়া সহ দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের কাছাকাছি পৌছুতে সক্ষম হয় হাকল।
.
২০০৬ থেকে শুরু করে প্রায় ৮ বছরের বেশি সময় ধরে দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দরিদ্র শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন চালায় হাকল। তার নির্যাতনের শিকার হয় ৬ মাস থেকে ১৩ বছর বয়সী দুইশ’র বেশি শিশু। গ্রেফতারের সময় তার ল্যাপটপে পাওয়া যায় বিশ হাজারের বেশি পর্ণোগ্রাফিক ছবি। শিশু ধর্ষনের ভিডি এবং ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিক্রি করতো হাকল। ছবি ও ভিডিওর সাথে যোগ করতো বিভিন্ন মন্তব্য, ক্যাপশান। এরকম একটি ওয়েবপোষ্টে হাকল লেখে –
“পশ্চিমা মধ্যবিত্ত ঘরের শিশুদের চাইতে দরিদ্রদের শিশুদের পটানো অনেক, অনেক বেশি সহজ।“
.
তিন বছর বয়েসী একটি মেয়ে শিশুকে ধর্ষনরত অবস্থা ছবির নিচে গর্বিত হাকলের মন্তব্য ছিল – “আমি টেক্কা পেয়ে গেছি! আমার কাছে এখন একটা ৩ বছরের বাচ্চা আছে যে কুকুরের মতো আমার আনুগত্য করে। আর এ নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো কেউ এখানে নেই!”
.
অন্যান্য শিশুকামীদের জন্য পরামর্শ এবং বিভিন্ন গাইডলাইন সম্বলিত "Paedophiles And Poverty: Child Lover Guide"” নামে একটি বইও লিখেছিল রিচার্ড হাকল। হাকলের স্বপ্ন ছিল দক্ষিন এশীয় গরীব কোন মেয়েকে বিয়ে করে একটি অনাথ আশ্রম খোলা যাতে করে নিয়মিত নতুন দরিদ্র শিশুদের সাপ্লাই পাওয়া যায় কোন ঝামেলা ছাড়াই। ২০১৪ সালে রিচার্ড হাকলকে গ্রেফতার করা হয়।
.
http://bit.ly/2ahsaVd
http://bit.ly/2azfNjo
http://bit.ly/2aMBJeb
http://bit.ly/2auZWEM
http://bit.ly/2aAOeXx
.
.
ফ্রেডি পিটস – হাকলের জন্মের আগেই হাকলের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছিল ফ্রেডি পিটস। সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ১৯৯১ পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছর, গোয়াতে গুরুকুল নামে একটি অনাথ আশ্রম পরিচালনা করে ফ্রেডি। হাকলের মতো ফ্রেডিও ছিল ক্যাথলিক চার্চের সাথে যুক্ত। এলাকায় মানুষ তাকে চিনতো লায়ন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, নির্বিবাদী সমাজসেবক ‘ফাদার ফ্রেডি’ হিসেবে। টিপু কিবরিয়া এবং রিচার্ড হাকলের মতোই ফাদার ফ্রেডির আয়ের উৎস ছিল পেডোফিলিয়া এবং চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি। তার সাথে সম্পর্ক ছিল ব্রিটেন, হল্যান্ড, অ্যামেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের শিশুকামী সংগঠনের। ফাদার ফ্রেডি তার আশ্রমের শিশুদের ইউরোপিয়ান টুরিস্ট, বিশেষ করে সমকামী ইউরোপিয়ান পুরুষদের কাছে ভাড়া দিতেন। শিশুদের ধর্ষনের বিভিন্ন অবস্থার ছবি তুলে ইউরোপীয়ান ক্রেতাদের কাছে বিক্রিও করতো ফ্রেডি। নিজেও অংশগ্রহন করতো ধর্ষনে। বিশেষ “ক্লায়েন্টদের” মনমতো শিশু সংগ্রহ করে তাদের ইউরোপে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হতো ফ্রেডির “গুরুকুল” থেকে। এভাবে প্রায় দুই দশক ধরে ফাদার ফ্রেডি গোয়াতে গড়ে তোলে এক বিশাল ইন্ডাস্ট্রি।
.
ফ্রেডির এসব কার্যকলাপের সাথে বিভিন্ন বিদেশী ব্যাক্তি এবং আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত এমন প্রমান থাকা সত্ত্বেও গোয়ার রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকার সর্বাত্বক চেষ্টা করে এ বিষয়গুলো চাপা দেয়ার। এমনকি প্রথম পর্যায়ে চেষ্টা করা হয়েছিল দুর্বল মামলা দিয়ে ফ্রেডিকে খালাস দেয়ার। খোদ রাজ্যের এটর্নী জেনারেল এবং ট্রায়াল জাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ফ্রেডির বিরুদ্ধে পাওয়া প্রমান ও নথিপত্র ধ্বংস করার চেষ্টার।
.
উচু মহলের এসব কূটকৌশলের সামনে রুখে দাড়ায় কিছু শিশু অধিকার সংস্থার এবং কর্মী। তাদের একজন শিলা বারসি। রাজ্য সরকার, মন্ত্রী, বিচারবিভাগ এবং মিডিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে ফ্রেডি পিটসের মামলার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন শিলা। গ্রেফতারকালীন রেইডে ফাদার ফ্রেডির ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় ড্রাগস, পেইন কিলার, এবং সিরিঞ্জের এক বিশাল কালেকশান। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় ২৩০৫ টি পর্ণোগ্রাফিক ছবি। মামলার কারনে শিলা বাধ্য প্রতিটি ছবি খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে। ফাদার ফ্রেডির ফ্ল্যাটে পাওয়া ২৩০৫ টি ছবিতে যে অন্ধকার অমানুষিক পৈশাচিকতার জগতকে তিনি দেখেছিলেন তার ভয়াবহ স্মৃতি আমৃত্যু তাকে তাড়া করে বেড়াবে বলেই শিলার বিশ্বাস।
.
ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শিলা বলেন -
“সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছবিটি ছিলে আড়াই বছর বয়েসী একটি মেয়ের। মেয়েটিকে ছোট ছোট হাত আর পা গুলো ধরে তাকে চ্যাংদোলা করে অনেকটা হ্যামকের মতো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল...একটা বিশালদেহী লোক...লোকটাকে...লোকটার শরীরের আংশিক দেখা যাচ্ছিল...বাচ্চাটাকে ধর্ষন করছিল। বাচ্চাটার কুঁচকানো চেহারায় ফুটে ছিল প্রচন্ড ব্যাথা আর শকের ছাপ। ছবি দেখেও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল বাচ্চাটা সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করছিল। “
.
ছবিগুলো দেখার পর শিলা সিদ্ধান্ত নেন যেকোন মূল্যে ফ্রেডির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার। ১৯৯২ সালে ফ্রেডি পিটসের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়, এবং ৯৬ এর মার্চে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভগ্রত অবস্থায় ২০০- সালে ফ্রেডি পিটস মারা যায়।
.
http://bit.ly/2aQxJuW
http://ind.pn/2atVuD3
http://bit.ly/2atZDgG
http://bit.ly/2aN0QxZ
.
.
পিটার স্কালি – পিটার স্কালির গল্পের মতো এতো বিকৃত, নৃশংস, এতোটা বিশুদ্ধ পৈশাচিকতার কাহিনী খুব সম্ভবত আমাদের এ বিকৃতির যুগেও খুব বেশি খুজে পাওয়া যাবে না। স্কালি অস্ট্রেলিয়ান। নিজ দেশে ব্যাবসায়িক ফ্রডের পর নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে চলে আসে ফিলিপাইনে। কিছুদিন রিয়েল এস্টেট ব্যবসার চেষ্টার পর মনোযোগ দেয় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি বানানোয়। বেইস হিসেবে বেছে নেয় দারিদ্র কবলিত মিন্দানাওকে। গড়ে তোলে এক চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি সাম্রাজ্য।
.
টিপু কিবরিয়া, হাকল আর ফাদার ফ্রেডির মতো স্কালিও নিজেই ছিল, অভিনেতা, স্ক্রিপ্ট রাইটার ও পরিচালক। তবে বাকিরা শুধুমাত্র শিশুকামের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, স্কালির বিকৃতিকে নিজে যায় আরেকটি পর্যায়ে। সে শিশুকামের সাথে মিশ্রণ ঘটায় টর্চারের। স্ক্লাইরর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভিডিওতে ধর্ষনের পাশাপাশি মারাত্বক পর্যায়ের টর্চার করা হয়, ১৮ মাস বয়েসী একটি মেয়েশিশুকে। ১২ ও ৯ বছরের দুটি মেয়েকে বাধ্য করা হয় ধর্ষন ও নির্যাতনে অংশগ্রহন করতে। যখন ভিডিও বন্ধ থাকতো তখন বন্দী এ মেয়ে দুটিকে স্কালি তার বাসায় বিবস্ত্র অবস্থায় কুকুরের চেইন পড়িয়ে রাখতো এবং তাদের বাধ্য করতো বাসার আঙ্গিনাতে নিজেদের কবর খুড়তে। পরবর্তীতে এদের একজনকে স্কালি হত্যা করে, এবং নিজের রান্নাঘরের টাইলসের নিচে মেয়েটির লাশ লুকিয়ে রাখে। মেয়েটিকে হত্যা করার ভিডিও স্কালি ধারন করে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিওটি বিক্রি করা হয়।
.
স্ক্লালির ভিডিওগুলো দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপিয়ান পেডোফাইল এবং চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি নেটওয়ার্কে। রাতারাতি স্কালি এবং তার সাইট পরিণত হয় “সেলেব্রিটি কাল্ট-হিরোতে”। শুরুতে তার ভিডিওগুলোর জন্য Pay-Per View Streaming অফার করলেও, চাহিদা ওবং জনপ্রিয়তা বাড়ার ফলে এক পর্যায়ে স্কালি লাইভ স্ট্রিমিং করা শুরু করে। ২০১৫ এর ফেব্রুয়াত্রিতে স্ক্লালি ও তার সহযোগী দুই ফিলিপিনী তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী অস্ট্রেলিয়ান ও ফিলিপিনো পুলিশের ধারনা বিভিন্ন সময়ে পিটার কমপক্ষে ৮ জন শিশুর উপর যৌন ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর ভিডিও ধারন করেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যাটা আরো বেশি হতে পারে।
.
http://bit.ly/2ax6AuF
http://bit.ly/2ahqlHI
http://bit.ly/2aPkydq
http://bit.ly/2aMByzz
http://bit.ly/2azf9Co
.
.
.
৪.
টিপু কিবরিয়া, রিচার্ড হাকল, ফ্রেডি পিটস, পিটার স্কালি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে, তাদের অপরাধ এবং বিকৃতির মধ্যে বেশ কিছু যোগসূত্র বিদ্যমান। এরা সবাই শিকারের জন্য বেছে নিয়েছিল দারিদ্রপীড়িত এশিয়ান শিশুদের। এদের মূল অডিয়েন্স এবং ক্লায়েন্ট বেইস ছিল পশ্চিমা, বিশেষ করে ইউরোপিয়ান। আর এরা চারজনই চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি এবং গ্লোবাল পেডোফিলিয়া নেটওয়ার্কের সাপ্লাই চেইনের খুব ক্ষুদ্র একটা অংশ। খুব অল্প পুজিতে, এবং অল্প সময় এরা সক্ষম হয়েছিল বিশাল গ্লোবাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কিংবা এধরনের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হতে। এ দৃষ্টিকোন থেকে এ চারজনকে সফল উদ্যোক্তাও বলা যায়।
.
এ চার জন ধরা পড়েছে এটা মনে করে আমরা আত্বতৃপ্তি ভোগ করতেই পারি, কিন্তু বাস্তবতা হল একটা বিশাল মার্কেট, একটা বিপুল চাহিদা ছিল বলে, আছে বলেই এতো সহজে এ লোকগুলো তারা যা করেছে তা করতে সক্ষম হয়েছিল। আমাদের কাছে এ লোকগুলোর কাজ, তাদের বিকৃতি, তাদের পৈশাচিকতা যতোই অচিন্তনীয় মনে হোক না কেন বাস্তবতা হল পিটার স্কালি কিংবা টিপু কিবরিয়ারা এ অন্ধকার জগতের গডফাদার না, তারা বড়জোড় রাস্তার মোড়ের মাদকবিক্রেতা। একজন গ্রেফতার হলে তার জায়গায় আরেকজন আসবে।
.
২০১৪ তে রিচার্ড হাকলের গ্রেফতারের পর ২০১৫, সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা শিশুকামী ও শিশুনির্যাতনকারী নেটওয়ার্কের হোতা ৭ ব্রিটিশ । ভয়ঙ্কর অসুস্থতায় মেতে ওঠা এই লোকেরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিশুদের উপর তাদের পৈশাচিক নির্যাতনে লাইভ স্ট্রিমিং বা সরাসরি সম্প্রচার করতো। বিশেষ অফার হিসেবে তারা লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে অন্যান্য শিশুকামীদের সুযোগ দিতো ঠিক কিভাবে শিশুদেরকে নির্যাতন ও ধর্ষন করা হবে তার ইন্সট্রাকশান দেবার। এভাবে তারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের সহ-মুক্তচিন্তকদের আনন্দের ব্যবস্থা করতেন। ব্রিটেন জুড়ে এরকম আরো অনেক সক্রিয় নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের প্রমান মিলেছে।
http://bit.ly/26aoSXO।
.
ফ্রেডি পিটসের গ্রেফতারের পরও গোয়ার শিশুকাম ভিত্তিক টুরিস্ট ইন্ডাস্ট্রির প্রসার থেমে থাকেনি। ফাদার ফ্রেডির শূন্যস্থান পুরন করেছে অন্য আরো অনেক ফ্রেডি। তেহেলকা.কমের ২০০৪ এর একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ১০,০০০ পেডোফাইল গোয়া থেকে ঘুড়ে যায়। গোয়ায় অবস্থানকালীন সময়ে প্রতিটি পেডোফাইল গড়ে আটজন শিশুর উপর যৌন নির্যাতন চালায়।
http://bit.ly/2aPkH0u
http://bit.ly/2aQxpfC
.
২০১৫ তে অস্ট্রেলিয়াতে গ্রেফতার হয় ম্যাথিউ গ্র্যাহ্যাম। ২২ বছর বয়েসী ন্যানোটেকনোলজির ছাত্র ম্যাথিউ নিজের বাসা থেকে গড়ে তোলে এক অনলাইন চাইল্ড পর্ণগ্রাফি এবং পেডোফিলিয়া সাম্রাজ্য। ম্যাথিউ নিজে কখনো সরাসরি যৌন নির্যাতনে অংশগ্রহন না করলেও সক্রিয় পেডোফাইলদের জন্য সে অসংখ্যা সাইট এবং ফোরাম হোস্ট করত। বিশেষভাবে শিশুদের উপর ধর্ষনের সাথেসাথে চরম মাত্রার শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও প্রমোট করা ছিল ম্যাথিউর স্পেশালিটি। ম্যাথিউর নেটয়ার্কের সাথে সম্পর্ক ছিল আরেক অস্ট্রেলিয়ান পিটার স্কালির।
http://bit.ly/2aSy25e
.
১৫-তেই গ্রেফতার হয় আরেক অস্ট্রেলিয়ান শ্যানন ম্যাককুল। সরকারী কর্মচারী শ্যানন কাজ করত সরকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিলেইড চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে। এ সেন্টারের বিভিন্ন শিশুরা ছিল শ্যাননের ভিকটিম, এবং তাদের অধিকাংশ ছিল ৩-৪ বছর কিংবা বয়সী কিংবা তার চেয়েও ছোট। শ্যানন যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের ভিডিও নিজের সাইট ও ফোরামের মাধ্যমে আপলোড ও বিক্রি করতো। খুব কম সময়েই শ্যাননের সাইট ও ফোরাম কুখ্যাতি অর্জন করে।
.
http://bit.ly/2ax9gbW
http://bit.ly/2aSBdtP
http://ab.co/1UpMm3Q
.
এভাবে প্রতিটি শূন্যস্থানই কেউ না কেউ পূরন করে নিয়েছে। টিপু কিবরিয়ার রেখে যাওয়া স্থানও যে অন্য কেউ দখল করে নেয় নি এটা মনে করাটা বোকামি। আমরা জানতে পারছি না হয়তো, কিন্তু যতোক্ষন পর্যন্ত চাহিদা থাকবে ততোক্ষন যোগান আসবেই। সহজ সমীকরণ। ইকোনমিক্স ১০১। ২০০৬ এ প্রকাশিত ওয়ালস্ট্রীট জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী চাইল্ড পর্ণোগ্রাফিতে প্রতিবছর লেনদেন হয় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটা ২০০৬ এর তথ্য। গত দশ বছরে মার্কেটে এসেছে হাকল, স্কালি, শ্যানন, গ্র্যাহামের মতো আরো অনেক “উদ্যাোক্তা”, বেড়েছে মার্কেটের আকার। ২০১১ সালের একটি রিসার্চ অনুযায়ী ২০০৮ থেকে ২০১১, এ তিনবছরে অনলাইনে চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি সংক্রান্ত ইমেজ এবং ভিডিও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭৭৪%।
http://on.wsj.com/2aAOh5I
http://bit.ly/2aPkxpT
.
ইন্ডেক্সড ইন্টারনেট বা সাধারনভাবে ইন্টারনেট বলতে আমরা যা বুঝি তার তুলনায় ডিপওয়েব প্রায় ৫০০ গুন বড়। এ ডিপওয়েবের ৮০% বেশি ভিযিট হয় শিশুকাম, শিশু পর্ণোগ্রাফি এবং শিশুদের উপর টর্চারের ভিডিও ইমেজের খোজে।
http://bit.ly/2aQyq7p
.
.
বিষয়টার ব্যাপকতা একবার চিন্তা করুন। এ বিকৃতির প্রসারের মাত্রাটা অনুধাবনের চেষ্টা করুন। পৃথিবীতে আর কখনো এধরনের বিকৃতি দেখা যায় নি এটা বলাটা ভুল হবে। পম্পেই, বা গ্রীসের কামবিকৃতির কথা আমরা জানি, আমরা জানি সডোম আর গমোরাহর ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায় কওমে লূতের কথা। কিন্তু বর্তমানে আমর যা দেখছি এ মাত্রার বিকৃতি ও তার বিশ্বায়ন, এ মাত্রার ব্যবসায়ন, এ ব্যাপ্তি মানব ইতিহাসের আগে কখনো দেখা গেছে বলে আমার জানা নেই। কেন এতো মানুষ এতে আগ্রহী হচ্ছে? কেন জ্যামিতিক হারে এ ইন্ডাস্ট্রি প্রসারিত হচ্ছে? কেন এতোটা মৌলিক পর্যায়ে মানুষের অবিশ্বাস্য বিকৃতি ঘটছে এ হারে? কেন মানুষের ফিতরাতের বিকৃতি ঘটছে? আর কেনই এরকম পৈশাচিক ঘটনার পরও এধরনের ইন্ডাস্ট্রি শুধু টিকেই থাকছে না বরং আরো বড় হচ্ছে? শ্যানন-স্কালি-টিপু কিরিয়াদের এ নেটওয়ার্কের গডফাদার কারা? কোন খুঁটির জোরে তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে?
.
একে কি শুধুমাত্র বিচ্ছিন কোন ঘটনা, কিংবা অসুস্থতা বলে দায় এড়ানো সম্ভব? সমস্যাটা কি চিরাচরিত কাল থেকেই ছিল এবং বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগে এসে এর প্রসার বৃদ্ধি পেয়েছে? নাকি এর পেছনে ভূমিকা রয়েছে মিডিয়া ও পপুলার কালচারের? বিষয়টি কি মৌলিক ভাবে মানুষের যৌনতার মাঝে বিরাজমান কোন বিকৃতির সাথে যুক্ত? নাকি এ বিকৃতি আধুনিক পশ্চিমা দর্শনের যৌনচিন্তা এবং আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার মৌলিক অংশ?
[ইন শা আল্লাহ চলবে]
আসিফ আদনান
সেবার কিশোর হরর সিরিয আর সিরিযের লেখকের নাম নানা কারন প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। বই পড়ার নেশা দীর্ঘদিন ভোগালেও ইংরেজি গল্প আর টিভি-শোর মধ্যম মানের নকল পড়ার চাইতে সোর্স ম্যাটেরিয়াল পড়াটাই বেশি লজিকাল মনে হত। এছাড়া স্কুলের দিনগুলোতে সম্পূর্ণ অবসর সময়টা বইয়ের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সময়ের সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে বইয়ের জন্য বরাদ্দটা কমতে থাকে। টিপু কিবরিয়ার বিস্মৃতপ্রায় নামটা মনে করিয়ে দেয় ২০১৪ এর জুন থেকে অগাস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত বেশ কিছু নিউয রিপোর্ট। প্রায় দু’মাস ধরে প্রকাশিত এসব রিপোর্টের সারসংক্ষেপ পাঠকের জন্য এখানে তুলে ধরছি।
.
আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির ভয়ঙ্কর একটি চক্র বাংলাদেশে বসেই দীর্ঘ নয় বছর পথশিশুদের ব্যবহার করে পর্নো ভিডিও তৈরি করে আসছিল। আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২০১৪ এর ১০ জুন ইন্টারপোলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশু পর্ণোগ্রাফি তৈরির দায়ে সিআইডি গ্রেফতার করে টি আই এম ফখরুজ্জামান ও তার দুই সহযোগীকে। সিআইডির পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, এ চক্র আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ছেলেশিশুদের দিয়ে পর্নো ছবি তৈরি করতো। এ চক্রের মূল হোতা টি আই এম ফখরুজ্জামান টিপু কিবরিয়া নামে অধিক পরিচিত। তার বাইরের পরিচয় তিনি দেশের একটি খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থার কিশোর থ্রিলার ও হরর সিরিজের লেখক। এছাড়া তার বেশ কিছু শিশুতোষ গল্প উপন্যাসের বইও রয়েছে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে এখন তার অন্ধকার জগতের পরিচয়ই সামনে চলে এসেছে।
.
১৯৯১ সাল থেকে ১০ বছর টিপু সেবা প্রকাশনীর কিশোর পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে ফ্রি-ল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। গড়ে তোলেন একটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটিও। রাজধানীর মুগদায় তার একটি স্টুডিও রয়েছে। এ সময় তার তোলা ছেলে পথশিশুদের স্থির ছবি ইন্টারনেটে বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটারম ফ্লিকারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করতেন। এই ছবি দেখে সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির পর্নো ছবির ব্যবসায়ীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নগ্ন ছবি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে টাকারও প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবে রাজি হয় টিপু। ফুঁসলিয়ে ও টাকার বিনিময়ে পথশিশুদের সংগ্রহ করে নগ্ন ছবি তুলে পাঠাতে শুরু করেন।
.
কিছু ছবি পাঠানোর পরই পর্নো ছবি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়া হয় তাকে। শুরু হয় এই পর্নো ছবি (ভিডিও) তৈরির কাজ। সময়টা ২০০৫ সাল। নুরুল আমিন ওরফে নুরু মিয়া, নুরুল ইসলাম, সাহারুলসহ কয়েকজনের মাধ্যমে বস্তিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ছিন্নমূল ছেলে শিশুদের সংগ্রহ করেন টিপু। মুগদার মানিকনগরের ওয়াসা রোডের ৫৭/এল/২ নম্বর বাড়ির নিচতলায় দুই রুমের বাসা ভাড়া নিয়ে জমে ওঠে ফ্রি-ল্যান্স ফটোগ্রাফির আড়ালে পথশিশুদের দিয়ে পর্নো ছবি নির্মাণ ও ইন্টারনেটে বিদেশে পাঠানোর রমরমা ব্যবসা। নয় বছরে কমপক্ষে ৫০০ শিশুর পর্ণোগ্রাফিক ভিডিও তৈরি করে টিপু ও তার সহযোগীরা। ৮-১৩ বছরের এসব পথশিশুদের ৩০০-৪০০ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এ কাজে ব্যবহার করা হতো।
.
টিপু এবং তার ওই সহযোগীরা শিশুদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতেন। আর বেশির ভাগই এসব ভিডিও করতেন টিপু নিজেই। একপর্যায়ে এই জঘন্য অপরাধ টিপুর নেশা ও পেশায় পরিণত হয়ে যায়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে টিপু বলেছেন, তিনি পর্নো ছবি তৈরি করে জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের তিন ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। এঁদের একেকজনের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিনি ৫০ হাজার করে দেড় লাখ টাকা পেতেন। তবে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি জানিয়েছে, টিপু কিবরিয়া তাঁর তৈরি পর্নো ছবি ১৩টি দেশের ১৩ জন নাগরিকের কাছে পাঠাতেন। এসব দেশের মধ্যে আছে কানাডা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, মধ্য ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। তদন্তে আরো জানা গেছে বেশির ভাগ ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে। এরপর সেখানকার ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব পর্নো ছবি বিক্রি করতো। প্রতিটি সিডির জন্য ৩শ’ থেকে ৫শ’ ডলার পেতেন টিপু। এই টাকা অনলাইন ব্যাংকিং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টিপুর কাছে পাঠানো হতো।
.
টিপুর মাধ্যমে শিশু পর্নো ছবি বিক্রির দুই হোতা বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জার্মানির এক পর্নো ছবি বিক্রেতা বাংলাদেশে এসেছিলেন। আর ২০১২ সালে আসেন সুইজারল্যান্ডের আরেক পর্নো বিক্রেতা। তারা ওঠেন ঢাকার আবাসিক হোটেলে। সে সময় টিপু তাদের কাছে ছেলে শিশু পাঠান। তারা ওই শিশুদের নিয়ে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হন। এজন্য টিপু এবং তার সহযোগীরা পেয়েছেন ৮ হাজার ডলার।
.
ইন্টারপোলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ ও ১১ জুন খিলগাঁও, মুগদা এবং গোড়ানে অভিযান চালিয়ে টিপু কিবরিয়া এবং তার তিন সহযোগী নুরুল আমিন, নুরুল ইসলাম ও সাহারুলকে গ্রেফতার করে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম। স্টুডিওতে আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ১৩ বছরের এক শিশুর সাথে টিপুর সহযোগী নুরুল ইসলানকে। টিপুর খিলগাঁওয়ের তারাবাগের ১৫১/২/৪২ নম্বর বাড়ির বাসা ও স্টুডিও থেকে শতাধিক পর্নো সিডি, আপত্তিকর শতাধিক স্থির ছবি, ৭০টি লুব্রিকেটিং জেল, ৪৮ পিস আন্ডারওয়ার, স্টিল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, সিপিইউ, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
.
http://bit.ly/2atUZJi
http://bit.ly/2aQzPe9
http://bit.ly/2atZg5N
http://bit.ly/2aPjZjN
http://bit.ly/2aPjTsf
http://bit.ly/2aPkiuM
http://bit.ly/2auZpmn
http://bit.ly/2atZFVN
.
টিপু কিবরিয়ার ফ্লিকার লিঙ্ক - http://bit.ly/2b1ZXiu
টিপু কিবরিয়ার ব্লগ (সামওয়্যার ইন ব্লগ) লিঙ্ক - http://bit.ly/2aHYxuv
.
উপরের তথ্যগুলো ভয়ঙ্কর। তবে বাস্তব অবস্থা এর চেয়ে লক্ষগুন বেশি ভয়ঙ্কর। টিপু কিবরিয়ারা একটা বিশাল নেটওয়ার্কের ছোট একটা অংশ মাত্র। বিশ্বব্যাপী চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি ও পেডোফাইল নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি, ক্ষমতা ও অবিশ্বাস্য অসুস্থ অমানুষিক নৃশংসতার প্রকৃত চিত্র এতোটাই ভয়াবহ যে প্রথম প্রথম এটা বিশ্বাস করাটা একজন ব্যাক্তির জন্য কঠিন হয়ে যায়। আর একবার এ অসুস্থতা ও বিকৃতির বাস্তবতা, মাত্রা, প্রসার, ও নাগাল সম্পর্কে একবার জানার পর এ ভয়াবহতাকে মাথা থেকে দূর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের চারপাশের বিকৃত অসুস্থ পৃথিবীটার এ এমন এক বাস্তবতা যা সম্পর্কে জানাটাই একজন মানুষের মনকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এ এমন এক অন্ধকার জগত যাতে মূহুর্তের জন্য উকি দেওয়া একজন মানুষকে আমৃত্যু তাড়া করে বেড়াতে পারে।
.
টিপু কিবরিয়ার লেখা কিশোর হরর সিরিযের বইগুলোর ব্যাক কাভারে সবসময় দুটা লাইন দেয়া থাকতো – “পাঠক, সাবধান! ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!” এ লাইনদুটো কিশোর হরর সিরিযের ট্যাগলাইনের মতো ছিল। সেবার বইগুলোর পাতায় উঠে আসা অন্ধকারের কল্পিত গল্পগুলোর জন্য লাইনদুটোকে অতিশয়োক্তি মনে হলেও, যে অন্ধকারে বাস্তবর জগতের চিত্র তুলে ধরতে যাচ্ছি তার জন্য এ লাইনদুটোকে কোনক্রমেই অত্যুক্তি বলা যায় না। তাই টিপু কিবরিয়াকে দিয়ে যে গল্পের শুরু সে গল্পের গভীরে ঢোকার আগে টিপুর ভাষাতেই সতর্ক করছি–
.
“পাঠক, সাবধান!
ভয়ের জগতে প্রবেশ করছ তুমি!!”
.
.
৩.
টিপু কিবরিয়াকে যদি ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে চিন্তা করেন তবে তার বানানো শিশু পর্ণোগ্রাফির মূল ডিস্ট্রিবিউটার এবং ব্যবহারকারীরা হল পশ্চিমা বিশেষ করে ইউরোপিয়ানরা। শুধুমাত্র চোখের ক্ষুধা মেটানোয় তৃপ্ত না হয়ে টিপুর এ ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশে ঘুরে গেছে। কিছু ডলারের বিনিময়ে টিপু কিবরিয়া তার ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের জন্য তৃপ্তির ব্যবস্থা করেছে। দুঃখজনক সত্য হল, পেডোফিলিয়া নেটওয়ার্ক ও চাইল্ড পর্ণোগ্রাফির বিশ্বব্যাপী ধারা এটাই। ঠিক যেভাবে নাইকি-র মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো কম খরচে তাদের পোশাকের চাহিদা মেটানোর জন্য ম্যানুফাকচারিং এর কাজটা “তৃতীয় বিশ্বের” দেশগুলোর কাছে আউটসোর্স করে, ঠিক তেমনিভাবে পশ্চিমারা বিকৃতকামীরা শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি এবং শিশুকামের জন্য শিশু সংগ্রহের কাজটা আউটসোর্স করে। টিপু কিবরিয়ার মতো এরকম এ ইন্ডাস্ট্রির আরো অনেক ম্যানুফ্যাকচারার ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। তিনটি উদাহরন তুলে ধরছি-
.
.
রিচার্ড হাকল – ১৯৮৬ তে ব্রিটেনে জন্মানো হাকল তার “নেশা ও পেশার” বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেয় দক্ষিন পূর্ব এশিয়াকে। লাওস, ক্যাম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্ডিয়াতে পদচারনা থাকলেও হাকল তার মূল বেইস হিসেবে বেছে নেয় মালয়শিয়াকে। কুয়ালামপুরের আশেপাশে বিভিন্ন দারিদ্র দারিদ্রকবলিত অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর মাঝে সক্রিয় খ্রিষ্টান মিশনারীদের সাথে সম্পর্কের কারনে সহজেই হাকল মালয়শিয়াতে নিজের জন্য জায়গা করে নেয়। কখনো ফ্রি-ল্যান্সিং ফটোগ্রাফার, কখনো ডকুমেন্টারি পরিচালক, কখনো ইংরেজী শিক্ষক, আর কখনো নিছক খ্রিষ্টান মিশনারী হিসেবে মালয়শিয়া সহ দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের কাছাকাছি পৌছুতে সক্ষম হয় হাকল।
.
২০০৬ থেকে শুরু করে প্রায় ৮ বছরের বেশি সময় ধরে দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দরিদ্র শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন চালায় হাকল। তার নির্যাতনের শিকার হয় ৬ মাস থেকে ১৩ বছর বয়সী দুইশ’র বেশি শিশু। গ্রেফতারের সময় তার ল্যাপটপে পাওয়া যায় বিশ হাজারের বেশি পর্ণোগ্রাফিক ছবি। শিশু ধর্ষনের ভিডি এবং ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিক্রি করতো হাকল। ছবি ও ভিডিওর সাথে যোগ করতো বিভিন্ন মন্তব্য, ক্যাপশান। এরকম একটি ওয়েবপোষ্টে হাকল লেখে –
“পশ্চিমা মধ্যবিত্ত ঘরের শিশুদের চাইতে দরিদ্রদের শিশুদের পটানো অনেক, অনেক বেশি সহজ।“
.
তিন বছর বয়েসী একটি মেয়ে শিশুকে ধর্ষনরত অবস্থা ছবির নিচে গর্বিত হাকলের মন্তব্য ছিল – “আমি টেক্কা পেয়ে গেছি! আমার কাছে এখন একটা ৩ বছরের বাচ্চা আছে যে কুকুরের মতো আমার আনুগত্য করে। আর এ নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো কেউ এখানে নেই!”
.
অন্যান্য শিশুকামীদের জন্য পরামর্শ এবং বিভিন্ন গাইডলাইন সম্বলিত "Paedophiles And Poverty: Child Lover Guide"” নামে একটি বইও লিখেছিল রিচার্ড হাকল। হাকলের স্বপ্ন ছিল দক্ষিন এশীয় গরীব কোন মেয়েকে বিয়ে করে একটি অনাথ আশ্রম খোলা যাতে করে নিয়মিত নতুন দরিদ্র শিশুদের সাপ্লাই পাওয়া যায় কোন ঝামেলা ছাড়াই। ২০১৪ সালে রিচার্ড হাকলকে গ্রেফতার করা হয়।
.
http://bit.ly/2ahsaVd
http://bit.ly/2azfNjo
http://bit.ly/2aMBJeb
http://bit.ly/2auZWEM
http://bit.ly/2aAOeXx
.
.
ফ্রেডি পিটস – হাকলের জন্মের আগেই হাকলের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছিল ফ্রেডি পিটস। সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ১৯৯১ পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছর, গোয়াতে গুরুকুল নামে একটি অনাথ আশ্রম পরিচালনা করে ফ্রেডি। হাকলের মতো ফ্রেডিও ছিল ক্যাথলিক চার্চের সাথে যুক্ত। এলাকায় মানুষ তাকে চিনতো লায়ন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, নির্বিবাদী সমাজসেবক ‘ফাদার ফ্রেডি’ হিসেবে। টিপু কিবরিয়া এবং রিচার্ড হাকলের মতোই ফাদার ফ্রেডির আয়ের উৎস ছিল পেডোফিলিয়া এবং চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি। তার সাথে সম্পর্ক ছিল ব্রিটেন, হল্যান্ড, অ্যামেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের শিশুকামী সংগঠনের। ফাদার ফ্রেডি তার আশ্রমের শিশুদের ইউরোপিয়ান টুরিস্ট, বিশেষ করে সমকামী ইউরোপিয়ান পুরুষদের কাছে ভাড়া দিতেন। শিশুদের ধর্ষনের বিভিন্ন অবস্থার ছবি তুলে ইউরোপীয়ান ক্রেতাদের কাছে বিক্রিও করতো ফ্রেডি। নিজেও অংশগ্রহন করতো ধর্ষনে। বিশেষ “ক্লায়েন্টদের” মনমতো শিশু সংগ্রহ করে তাদের ইউরোপে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হতো ফ্রেডির “গুরুকুল” থেকে। এভাবে প্রায় দুই দশক ধরে ফাদার ফ্রেডি গোয়াতে গড়ে তোলে এক বিশাল ইন্ডাস্ট্রি।
.
ফ্রেডির এসব কার্যকলাপের সাথে বিভিন্ন বিদেশী ব্যাক্তি এবং আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত এমন প্রমান থাকা সত্ত্বেও গোয়ার রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকার সর্বাত্বক চেষ্টা করে এ বিষয়গুলো চাপা দেয়ার। এমনকি প্রথম পর্যায়ে চেষ্টা করা হয়েছিল দুর্বল মামলা দিয়ে ফ্রেডিকে খালাস দেয়ার। খোদ রাজ্যের এটর্নী জেনারেল এবং ট্রায়াল জাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ফ্রেডির বিরুদ্ধে পাওয়া প্রমান ও নথিপত্র ধ্বংস করার চেষ্টার।
.
উচু মহলের এসব কূটকৌশলের সামনে রুখে দাড়ায় কিছু শিশু অধিকার সংস্থার এবং কর্মী। তাদের একজন শিলা বারসি। রাজ্য সরকার, মন্ত্রী, বিচারবিভাগ এবং মিডিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে ফ্রেডি পিটসের মামলার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন শিলা। গ্রেফতারকালীন রেইডে ফাদার ফ্রেডির ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় ড্রাগস, পেইন কিলার, এবং সিরিঞ্জের এক বিশাল কালেকশান। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় ২৩০৫ টি পর্ণোগ্রাফিক ছবি। মামলার কারনে শিলা বাধ্য প্রতিটি ছবি খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে। ফাদার ফ্রেডির ফ্ল্যাটে পাওয়া ২৩০৫ টি ছবিতে যে অন্ধকার অমানুষিক পৈশাচিকতার জগতকে তিনি দেখেছিলেন তার ভয়াবহ স্মৃতি আমৃত্যু তাকে তাড়া করে বেড়াবে বলেই শিলার বিশ্বাস।
.
ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শিলা বলেন -
“সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছবিটি ছিলে আড়াই বছর বয়েসী একটি মেয়ের। মেয়েটিকে ছোট ছোট হাত আর পা গুলো ধরে তাকে চ্যাংদোলা করে অনেকটা হ্যামকের মতো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল...একটা বিশালদেহী লোক...লোকটাকে...লোকটার শরীরের আংশিক দেখা যাচ্ছিল...বাচ্চাটাকে ধর্ষন করছিল। বাচ্চাটার কুঁচকানো চেহারায় ফুটে ছিল প্রচন্ড ব্যাথা আর শকের ছাপ। ছবি দেখেও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল বাচ্চাটা সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করছিল। “
.
ছবিগুলো দেখার পর শিলা সিদ্ধান্ত নেন যেকোন মূল্যে ফ্রেডির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার। ১৯৯২ সালে ফ্রেডি পিটসের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়, এবং ৯৬ এর মার্চে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভগ্রত অবস্থায় ২০০- সালে ফ্রেডি পিটস মারা যায়।
.
http://bit.ly/2aQxJuW
http://ind.pn/2atVuD3
http://bit.ly/2atZDgG
http://bit.ly/2aN0QxZ
.
.
পিটার স্কালি – পিটার স্কালির গল্পের মতো এতো বিকৃত, নৃশংস, এতোটা বিশুদ্ধ পৈশাচিকতার কাহিনী খুব সম্ভবত আমাদের এ বিকৃতির যুগেও খুব বেশি খুজে পাওয়া যাবে না। স্কালি অস্ট্রেলিয়ান। নিজ দেশে ব্যাবসায়িক ফ্রডের পর নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে চলে আসে ফিলিপাইনে। কিছুদিন রিয়েল এস্টেট ব্যবসার চেষ্টার পর মনোযোগ দেয় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি বানানোয়। বেইস হিসেবে বেছে নেয় দারিদ্র কবলিত মিন্দানাওকে। গড়ে তোলে এক চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি সাম্রাজ্য।
.
টিপু কিবরিয়া, হাকল আর ফাদার ফ্রেডির মতো স্কালিও নিজেই ছিল, অভিনেতা, স্ক্রিপ্ট রাইটার ও পরিচালক। তবে বাকিরা শুধুমাত্র শিশুকামের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, স্কালির বিকৃতিকে নিজে যায় আরেকটি পর্যায়ে। সে শিশুকামের সাথে মিশ্রণ ঘটায় টর্চারের। স্ক্লাইরর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভিডিওতে ধর্ষনের পাশাপাশি মারাত্বক পর্যায়ের টর্চার করা হয়, ১৮ মাস বয়েসী একটি মেয়েশিশুকে। ১২ ও ৯ বছরের দুটি মেয়েকে বাধ্য করা হয় ধর্ষন ও নির্যাতনে অংশগ্রহন করতে। যখন ভিডিও বন্ধ থাকতো তখন বন্দী এ মেয়ে দুটিকে স্কালি তার বাসায় বিবস্ত্র অবস্থায় কুকুরের চেইন পড়িয়ে রাখতো এবং তাদের বাধ্য করতো বাসার আঙ্গিনাতে নিজেদের কবর খুড়তে। পরবর্তীতে এদের একজনকে স্কালি হত্যা করে, এবং নিজের রান্নাঘরের টাইলসের নিচে মেয়েটির লাশ লুকিয়ে রাখে। মেয়েটিকে হত্যা করার ভিডিও স্কালি ধারন করে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিওটি বিক্রি করা হয়।
.
স্ক্লালির ভিডিওগুলো দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপিয়ান পেডোফাইল এবং চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি নেটওয়ার্কে। রাতারাতি স্কালি এবং তার সাইট পরিণত হয় “সেলেব্রিটি কাল্ট-হিরোতে”। শুরুতে তার ভিডিওগুলোর জন্য Pay-Per View Streaming অফার করলেও, চাহিদা ওবং জনপ্রিয়তা বাড়ার ফলে এক পর্যায়ে স্কালি লাইভ স্ট্রিমিং করা শুরু করে। ২০১৫ এর ফেব্রুয়াত্রিতে স্ক্লালি ও তার সহযোগী দুই ফিলিপিনী তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী অস্ট্রেলিয়ান ও ফিলিপিনো পুলিশের ধারনা বিভিন্ন সময়ে পিটার কমপক্ষে ৮ জন শিশুর উপর যৌন ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর ভিডিও ধারন করেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যাটা আরো বেশি হতে পারে।
.
http://bit.ly/2ax6AuF
http://bit.ly/2ahqlHI
http://bit.ly/2aPkydq
http://bit.ly/2aMByzz
http://bit.ly/2azf9Co
.
.
.
৪.
টিপু কিবরিয়া, রিচার্ড হাকল, ফ্রেডি পিটস, পিটার স্কালি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে, তাদের অপরাধ এবং বিকৃতির মধ্যে বেশ কিছু যোগসূত্র বিদ্যমান। এরা সবাই শিকারের জন্য বেছে নিয়েছিল দারিদ্রপীড়িত এশিয়ান শিশুদের। এদের মূল অডিয়েন্স এবং ক্লায়েন্ট বেইস ছিল পশ্চিমা, বিশেষ করে ইউরোপিয়ান। আর এরা চারজনই চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি এবং গ্লোবাল পেডোফিলিয়া নেটওয়ার্কের সাপ্লাই চেইনের খুব ক্ষুদ্র একটা অংশ। খুব অল্প পুজিতে, এবং অল্প সময় এরা সক্ষম হয়েছিল বিশাল গ্লোবাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কিংবা এধরনের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হতে। এ দৃষ্টিকোন থেকে এ চারজনকে সফল উদ্যোক্তাও বলা যায়।
.
এ চার জন ধরা পড়েছে এটা মনে করে আমরা আত্বতৃপ্তি ভোগ করতেই পারি, কিন্তু বাস্তবতা হল একটা বিশাল মার্কেট, একটা বিপুল চাহিদা ছিল বলে, আছে বলেই এতো সহজে এ লোকগুলো তারা যা করেছে তা করতে সক্ষম হয়েছিল। আমাদের কাছে এ লোকগুলোর কাজ, তাদের বিকৃতি, তাদের পৈশাচিকতা যতোই অচিন্তনীয় মনে হোক না কেন বাস্তবতা হল পিটার স্কালি কিংবা টিপু কিবরিয়ারা এ অন্ধকার জগতের গডফাদার না, তারা বড়জোড় রাস্তার মোড়ের মাদকবিক্রেতা। একজন গ্রেফতার হলে তার জায়গায় আরেকজন আসবে।
.
২০১৪ তে রিচার্ড হাকলের গ্রেফতারের পর ২০১৫, সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা শিশুকামী ও শিশুনির্যাতনকারী নেটওয়ার্কের হোতা ৭ ব্রিটিশ । ভয়ঙ্কর অসুস্থতায় মেতে ওঠা এই লোকেরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিশুদের উপর তাদের পৈশাচিক নির্যাতনে লাইভ স্ট্রিমিং বা সরাসরি সম্প্রচার করতো। বিশেষ অফার হিসেবে তারা লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে অন্যান্য শিশুকামীদের সুযোগ দিতো ঠিক কিভাবে শিশুদেরকে নির্যাতন ও ধর্ষন করা হবে তার ইন্সট্রাকশান দেবার। এভাবে তারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের সহ-মুক্তচিন্তকদের আনন্দের ব্যবস্থা করতেন। ব্রিটেন জুড়ে এরকম আরো অনেক সক্রিয় নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের প্রমান মিলেছে।
http://bit.ly/26aoSXO।
.
ফ্রেডি পিটসের গ্রেফতারের পরও গোয়ার শিশুকাম ভিত্তিক টুরিস্ট ইন্ডাস্ট্রির প্রসার থেমে থাকেনি। ফাদার ফ্রেডির শূন্যস্থান পুরন করেছে অন্য আরো অনেক ফ্রেডি। তেহেলকা.কমের ২০০৪ এর একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ১০,০০০ পেডোফাইল গোয়া থেকে ঘুড়ে যায়। গোয়ায় অবস্থানকালীন সময়ে প্রতিটি পেডোফাইল গড়ে আটজন শিশুর উপর যৌন নির্যাতন চালায়।
http://bit.ly/2aPkH0u
http://bit.ly/2aQxpfC
.
২০১৫ তে অস্ট্রেলিয়াতে গ্রেফতার হয় ম্যাথিউ গ্র্যাহ্যাম। ২২ বছর বয়েসী ন্যানোটেকনোলজির ছাত্র ম্যাথিউ নিজের বাসা থেকে গড়ে তোলে এক অনলাইন চাইল্ড পর্ণগ্রাফি এবং পেডোফিলিয়া সাম্রাজ্য। ম্যাথিউ নিজে কখনো সরাসরি যৌন নির্যাতনে অংশগ্রহন না করলেও সক্রিয় পেডোফাইলদের জন্য সে অসংখ্যা সাইট এবং ফোরাম হোস্ট করত। বিশেষভাবে শিশুদের উপর ধর্ষনের সাথেসাথে চরম মাত্রার শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও প্রমোট করা ছিল ম্যাথিউর স্পেশালিটি। ম্যাথিউর নেটয়ার্কের সাথে সম্পর্ক ছিল আরেক অস্ট্রেলিয়ান পিটার স্কালির।
http://bit.ly/2aSy25e
.
১৫-তেই গ্রেফতার হয় আরেক অস্ট্রেলিয়ান শ্যানন ম্যাককুল। সরকারী কর্মচারী শ্যানন কাজ করত সরকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিলেইড চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে। এ সেন্টারের বিভিন্ন শিশুরা ছিল শ্যাননের ভিকটিম, এবং তাদের অধিকাংশ ছিল ৩-৪ বছর কিংবা বয়সী কিংবা তার চেয়েও ছোট। শ্যানন যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের ভিডিও নিজের সাইট ও ফোরামের মাধ্যমে আপলোড ও বিক্রি করতো। খুব কম সময়েই শ্যাননের সাইট ও ফোরাম কুখ্যাতি অর্জন করে।
.
http://bit.ly/2ax9gbW
http://bit.ly/2aSBdtP
http://ab.co/1UpMm3Q
.
এভাবে প্রতিটি শূন্যস্থানই কেউ না কেউ পূরন করে নিয়েছে। টিপু কিবরিয়ার রেখে যাওয়া স্থানও যে অন্য কেউ দখল করে নেয় নি এটা মনে করাটা বোকামি। আমরা জানতে পারছি না হয়তো, কিন্তু যতোক্ষন পর্যন্ত চাহিদা থাকবে ততোক্ষন যোগান আসবেই। সহজ সমীকরণ। ইকোনমিক্স ১০১। ২০০৬ এ প্রকাশিত ওয়ালস্ট্রীট জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী চাইল্ড পর্ণোগ্রাফিতে প্রতিবছর লেনদেন হয় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটা ২০০৬ এর তথ্য। গত দশ বছরে মার্কেটে এসেছে হাকল, স্কালি, শ্যানন, গ্র্যাহামের মতো আরো অনেক “উদ্যাোক্তা”, বেড়েছে মার্কেটের আকার। ২০১১ সালের একটি রিসার্চ অনুযায়ী ২০০৮ থেকে ২০১১, এ তিনবছরে অনলাইনে চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি সংক্রান্ত ইমেজ এবং ভিডিও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭৭৪%।
http://on.wsj.com/2aAOh5I
http://bit.ly/2aPkxpT
.
ইন্ডেক্সড ইন্টারনেট বা সাধারনভাবে ইন্টারনেট বলতে আমরা যা বুঝি তার তুলনায় ডিপওয়েব প্রায় ৫০০ গুন বড়। এ ডিপওয়েবের ৮০% বেশি ভিযিট হয় শিশুকাম, শিশু পর্ণোগ্রাফি এবং শিশুদের উপর টর্চারের ভিডিও ইমেজের খোজে।
http://bit.ly/2aQyq7p
.
.
বিষয়টার ব্যাপকতা একবার চিন্তা করুন। এ বিকৃতির প্রসারের মাত্রাটা অনুধাবনের চেষ্টা করুন। পৃথিবীতে আর কখনো এধরনের বিকৃতি দেখা যায় নি এটা বলাটা ভুল হবে। পম্পেই, বা গ্রীসের কামবিকৃতির কথা আমরা জানি, আমরা জানি সডোম আর গমোরাহর ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায় কওমে লূতের কথা। কিন্তু বর্তমানে আমর যা দেখছি এ মাত্রার বিকৃতি ও তার বিশ্বায়ন, এ মাত্রার ব্যবসায়ন, এ ব্যাপ্তি মানব ইতিহাসের আগে কখনো দেখা গেছে বলে আমার জানা নেই। কেন এতো মানুষ এতে আগ্রহী হচ্ছে? কেন জ্যামিতিক হারে এ ইন্ডাস্ট্রি প্রসারিত হচ্ছে? কেন এতোটা মৌলিক পর্যায়ে মানুষের অবিশ্বাস্য বিকৃতি ঘটছে এ হারে? কেন মানুষের ফিতরাতের বিকৃতি ঘটছে? আর কেনই এরকম পৈশাচিক ঘটনার পরও এধরনের ইন্ডাস্ট্রি শুধু টিকেই থাকছে না বরং আরো বড় হচ্ছে? শ্যানন-স্কালি-টিপু কিরিয়াদের এ নেটওয়ার্কের গডফাদার কারা? কোন খুঁটির জোরে তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে?
.
একে কি শুধুমাত্র বিচ্ছিন কোন ঘটনা, কিংবা অসুস্থতা বলে দায় এড়ানো সম্ভব? সমস্যাটা কি চিরাচরিত কাল থেকেই ছিল এবং বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগে এসে এর প্রসার বৃদ্ধি পেয়েছে? নাকি এর পেছনে ভূমিকা রয়েছে মিডিয়া ও পপুলার কালচারের? বিষয়টি কি মৌলিক ভাবে মানুষের যৌনতার মাঝে বিরাজমান কোন বিকৃতির সাথে যুক্ত? নাকি এ বিকৃতি আধুনিক পশ্চিমা দর্শনের যৌনচিন্তা এবং আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার মৌলিক অংশ?
[ইন শা আল্লাহ চলবে]
আসিফ আদনান
দায়িত্বজ্ঞান
একবার একটা লঞ্চ দূর্ঘটনায় পড়লো। লঞ্চের এক দম্পত্তি একটা লাইফবোট পেল।
কিন্তু স্বামীটা বুঝে ফেললো সেখানে একজনের বেশি উঠতে পারবে না। লোকটা তার
স্ত্রীকে পিছনে ঠেলে দিয়ে নিজে লাফিয়ে উঠে পড়লো। ডুবন্ত লঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে
মহিলা স্বামীর উদ্দেশ্যে একটাই মাত্র বাক্য চিৎকার করে বলেছিলো।
শিক্ষক এটুকু বলে থামলেন, চারদিকে তাকিয়ে ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে চাইলেন, “তোমাদের কি মনে হয়? কি বলেছিলো মহিলা!”
-“তুমি একটা ইতর, আমি কি অন্ধই না ছিলাম!” অধিকাংশ ছাত্রই এ ধরনের জবাব দিলো।
শিক্ষক এটুকু বলে থামলেন, চারদিকে তাকিয়ে ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে চাইলেন, “তোমাদের কি মনে হয়? কি বলেছিলো মহিলা!”
-“তুমি একটা ইতর, আমি কি অন্ধই না ছিলাম!” অধিকাংশ ছাত্রই এ ধরনের জবাব দিলো।
শিক্ষক খেয়াল করলেন একটা ছেলে পুরোটা সময় ধরেই চুপ, তার মতামত জানতে চাইলে
সে বললো, “স্যার, আমার বিশ্বাস, মহিলাটি বলেছিল, আমাদের বাচ্চাটার যত্ন
নিও, ওকে দেখে রেখ।”
বিস্মিত হয়ে শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি এই গল্প আগে শুনেছ, তাই না!”
ছেলেটি মাথা নেড়ে জবাব দিলো, “ আমার মাও অসুখে মারা যাওয়ার পূর্বমূহূর্তে বাবাকে একথাই বলেছিলো।”
শিক্ষক একমত হলেন, তুমিই ঠিক।
লঞ্চটা ডুবে গেলো এবং বাড়ি ফিরে লোকটা একাকী মেয়েকে যত্ন করে বড় করলো।
লোকটি মারা যাওয়ার বেশ কয়েক বছর পরে তাদের কন্যা বাবার একটি ডায়েরী পেল। সেখানে সে আবিষ্কার করলো, লঞ্চযাত্রায় যাওয়ার আগেই মায়ের দুরারোগ্য অসুখ ধরা পড়েছিলো, চরম মূহূর্তে তার বাবা তাই বাঁচার একমাত্র উপায়ের সদ্ব্যবহার করেছে।
ডায়েরীতে তার বাবা লিখেছে, “আমারও তোমার সাথে সাগরের তলে ডুবে যেতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, কিন্তু শুধু মেয়ের কথা ভেবে তোমাকে একাই সাগর তলে চিরদিনের জন্য ছেড়ে আসতে হলো।”
গল্প শেষ হলো, ক্লাস একদম চুপ।
শিক্ষক বুঝলেন, ছাত্রেরা গল্পের শিক্ষাটা ধরতে পেরেছে। ভালো এবং মন্দ, পৃথিবীর সব কিছুর পেছনেই অনেক জটিলতা আছে যা সব সময় বোঝা যায় না।
-----------------------------------------------
আমাদের কখনোই শুধুমাত্র উপরের তল দেখেই যাচাই করা উচিত না, অন্যকে না বুঝেই বিচার করে ফেলাটা বেশ বোকামি।
#যারা খাবারের বিলটা সবসময়ই নিজে দিতে চায়, তার মানে এই নয় যে তার টাকা উপচে পড়ছে, এর কারন সে টাকার চেয়ে বন্ধুত্বকে বড় করে দেখে।
যারা আগে ভাগেই কাজ করে ফেলে, এর মানে সে বোকা না, আসলে তার দায়িত্বজ্ঞান রয়েছে।
যারা ঝগড়া বা বাকবিতন্ডার পরে আগে মাফ চেয়ে নেয়, সেই ভুল ছিলো এমনটা নয়, বরঞ্চ সে চারপাশের মানুষকে মূল্যায়ন করে।
তোমাকে যে সাহায্য করতে চায় সে তোমার কাছে কোন কিছু আশা করে না, বরং একজন প্রকৃত বন্ধু মনে করে...
সংগৃহিত
বিস্মিত হয়ে শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি এই গল্প আগে শুনেছ, তাই না!”
ছেলেটি মাথা নেড়ে জবাব দিলো, “ আমার মাও অসুখে মারা যাওয়ার পূর্বমূহূর্তে বাবাকে একথাই বলেছিলো।”
শিক্ষক একমত হলেন, তুমিই ঠিক।
লঞ্চটা ডুবে গেলো এবং বাড়ি ফিরে লোকটা একাকী মেয়েকে যত্ন করে বড় করলো।
লোকটি মারা যাওয়ার বেশ কয়েক বছর পরে তাদের কন্যা বাবার একটি ডায়েরী পেল। সেখানে সে আবিষ্কার করলো, লঞ্চযাত্রায় যাওয়ার আগেই মায়ের দুরারোগ্য অসুখ ধরা পড়েছিলো, চরম মূহূর্তে তার বাবা তাই বাঁচার একমাত্র উপায়ের সদ্ব্যবহার করেছে।
ডায়েরীতে তার বাবা লিখেছে, “আমারও তোমার সাথে সাগরের তলে ডুবে যেতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, কিন্তু শুধু মেয়ের কথা ভেবে তোমাকে একাই সাগর তলে চিরদিনের জন্য ছেড়ে আসতে হলো।”
গল্প শেষ হলো, ক্লাস একদম চুপ।
শিক্ষক বুঝলেন, ছাত্রেরা গল্পের শিক্ষাটা ধরতে পেরেছে। ভালো এবং মন্দ, পৃথিবীর সব কিছুর পেছনেই অনেক জটিলতা আছে যা সব সময় বোঝা যায় না।
-----------------------------------------------
আমাদের কখনোই শুধুমাত্র উপরের তল দেখেই যাচাই করা উচিত না, অন্যকে না বুঝেই বিচার করে ফেলাটা বেশ বোকামি।
#যারা খাবারের বিলটা সবসময়ই নিজে দিতে চায়, তার মানে এই নয় যে তার টাকা উপচে পড়ছে, এর কারন সে টাকার চেয়ে বন্ধুত্বকে বড় করে দেখে।
যারা আগে ভাগেই কাজ করে ফেলে, এর মানে সে বোকা না, আসলে তার দায়িত্বজ্ঞান রয়েছে।
যারা ঝগড়া বা বাকবিতন্ডার পরে আগে মাফ চেয়ে নেয়, সেই ভুল ছিলো এমনটা নয়, বরঞ্চ সে চারপাশের মানুষকে মূল্যায়ন করে।
তোমাকে যে সাহায্য করতে চায় সে তোমার কাছে কোন কিছু আশা করে না, বরং একজন প্রকৃত বন্ধু মনে করে...
সংগৃহিত
সুউচ্চ বিল্ডিং নির্মান বনাম কিয়ামাতের আলামত
নগ্নপদ নগ্নদেহ রাখালদের সুউচ্চ বিল্ডিং নির্মান ।
এই নগ্নপদ নগ্নদেহ রাখাল কারা জানেন ?
আরবরা । নবী করীম সা. কেয়ামতের নিদর্শন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-
নগ্নপদ নগ্নদেহ রাখালদের -সুউচ্চ বাড়ীঘর নির্মাণে প্রতিযোগিতায় মত্ত দেখবে।-” (মুসলিম)
এই নগ্নপদ নগ্নদেহ রাখাল কারা জানেন ?
আরবরা । নবী করীম সা. কেয়ামতের নিদর্শন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-
নগ্নপদ নগ্নদেহ রাখালদের -সুউচ্চ বাড়ীঘর নির্মাণে প্রতিযোগিতায় মত্ত দেখবে।-” (মুসলিম)
হাদিসে উদ্দেশ্য হচ্ছে, পাহাড় পর্বত এবং সুদূর মরু প্রান্তরের রাখালেরা
ছাগলের রাখালি ছেড়ে উঁচু উঁচু টাওয়ার নির্মাণে মত্ত হয়ে উঠবে। সকলেই চাইবে
আমার-টা সবার চেয়ে উঁচুতে থাকুক!
বর্তমান আরব দেশগুলোতে এটা ব্যাপক মহামারীর আকার ধারণ করেছে।
প্রত্যেকটি দেশ-ই চাইছে, বিশ্বের সবচে’ দীর্ঘতম টাওয়ারটি তার দেশে হোক! এর জন্য যত টাকা দরকার হয়, খরচ করতে রাজী।
কে কার চেয়ে উচু করে বিল্ডিং নির্মাণ করতে পারে.. কে কার চেয়ে বেশি ডিজাইন/ষ্টাইল করে বাংলো বানাতে পারে আজ সেই প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত আরবরা । অথচ এইতো কিছুদিন পূর্বেই তারা ছিল মেষপালের রাখাল। গায়ে ছিল না বস্ত্র, পায়ে ছিল না জুতো।
আমরা হাদিসের প্রমান আজ বাস্তবেই দেখতে পাচ্ছি দুবাই এর বিল্ডিং গুলো আজ মেঘের সাথে মিশে যাচ্ছে !
পৃথিবীর সবচেয়ে উচু বিল্ডিং হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এর বুর্জ আল খলিফা । ১৬০ তলা বিশিষ্ট এই টাওয়ারটির উচ্চতা ৮২৮ মিটার বা ২৭১৬ ফিট ।
সৌদি আরব ইতিমধ্যেই এটাকে চ্যালেঞ্জ করে কিংডম টাওয়ার বানানো শুরু করে দিয়েছে যেটি হবে ৩০০ তলা বিশিষ্ট যার উচ্চতা হবে ১০০০ মিটার বা ৩২৮০ ফিট ।
এবার বুঝুন মুসলমানরা কেন আজ পরাজিত ? কেন আজ নির্যাতিত ?
কেননা যারা তাদের নেতৃত্ব দিবে সেই আরবরাই আজ আখেরাতের প্রতিযোগীতা
না করে দুনিয়ার প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত !
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক,আমিন।
-Rashed Ibn Adam
বর্তমান আরব দেশগুলোতে এটা ব্যাপক মহামারীর আকার ধারণ করেছে।
প্রত্যেকটি দেশ-ই চাইছে, বিশ্বের সবচে’ দীর্ঘতম টাওয়ারটি তার দেশে হোক! এর জন্য যত টাকা দরকার হয়, খরচ করতে রাজী।
কে কার চেয়ে উচু করে বিল্ডিং নির্মাণ করতে পারে.. কে কার চেয়ে বেশি ডিজাইন/ষ্টাইল করে বাংলো বানাতে পারে আজ সেই প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত আরবরা । অথচ এইতো কিছুদিন পূর্বেই তারা ছিল মেষপালের রাখাল। গায়ে ছিল না বস্ত্র, পায়ে ছিল না জুতো।
আমরা হাদিসের প্রমান আজ বাস্তবেই দেখতে পাচ্ছি দুবাই এর বিল্ডিং গুলো আজ মেঘের সাথে মিশে যাচ্ছে !
পৃথিবীর সবচেয়ে উচু বিল্ডিং হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এর বুর্জ আল খলিফা । ১৬০ তলা বিশিষ্ট এই টাওয়ারটির উচ্চতা ৮২৮ মিটার বা ২৭১৬ ফিট ।
সৌদি আরব ইতিমধ্যেই এটাকে চ্যালেঞ্জ করে কিংডম টাওয়ার বানানো শুরু করে দিয়েছে যেটি হবে ৩০০ তলা বিশিষ্ট যার উচ্চতা হবে ১০০০ মিটার বা ৩২৮০ ফিট ।
এবার বুঝুন মুসলমানরা কেন আজ পরাজিত ? কেন আজ নির্যাতিত ?
কেননা যারা তাদের নেতৃত্ব দিবে সেই আরবরাই আজ আখেরাতের প্রতিযোগীতা
না করে দুনিয়ার প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত !
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক,আমিন।
-Rashed Ibn Adam
Thursday, July 28, 2016
ক্ষতিগ্রস্ত ও লাভবান!
✔ " নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর
সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করেছে। এমনকি, যখন কিয়ামত তাদের কাছে অকস্মাৎ এসে
যাবে, তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এর ব্যাপারে আমরা কতই না ক্রটি করেছি। তার
স্বীয় বোঝা স্বীয় পৃষ্ঠে বহন করবে। শুনে রাখ, তারা যে বোঝা বহন করবে, তা
নিকৃষ্টতর বোঝা।পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালের
আবাস পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্ঠতর।তোমরা কি বোঝ না ? "
(কুরআন, আন'আম ৬:৩১-৩২)
.
✔ " নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয়; এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, অতঃপর নামায আদায় করে। বস্তুতঃ তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও,
অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। নিশ্চয়ই এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববতী কিতাবগুলোতে; ইব্রাহীম এবং মূসার কিতাবে।"
(কুরআন, আ'লা ৮৭:১৪-১৯)
.
✔ " যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।"
(কুরআন, রা'দ ১৩:২৮ )
.
✔ " এবং অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই কাছে ফিরে যাবো। তারাই হচ্ছে সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই সুপথপ্রাপ্ত। "
(কুরআন, বাকারাহ ২:১৫৫-১৫৭)
.
✔ " নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।অবশ্যই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।"
(কুরআন, ইনশিরাহ ৩৪:৫-৬)
(কুরআন, আন'আম ৬:৩১-৩২)
.
✔ " নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয়; এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, অতঃপর নামায আদায় করে। বস্তুতঃ তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও,
অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। নিশ্চয়ই এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববতী কিতাবগুলোতে; ইব্রাহীম এবং মূসার কিতাবে।"
(কুরআন, আ'লা ৮৭:১৪-১৯)
.
✔ " যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।"
(কুরআন, রা'দ ১৩:২৮ )
.
✔ " এবং অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই কাছে ফিরে যাবো। তারাই হচ্ছে সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই সুপথপ্রাপ্ত। "
(কুরআন, বাকারাহ ২:১৫৫-১৫৭)
.
✔ " নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।অবশ্যই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।"
(কুরআন, ইনশিরাহ ৩৪:৫-৬)
Monday, July 18, 2016
পরীক্ষা!!!
এ বছরের রমাদ্বানে আহমাদ ইবন হানবাল পরীক্ষিত হয়েছেন। তাকে বন্দী করা হয়
এবং আল-মু’তাসিমের উপস্থিতিতে তাকে চাবুক মারা হয় । ইমাম আহমাদ সত্যের
উপর মৃত্যুর ইস্পাতকঠিন সংকল্প করেছিলেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ মৃত্যুর
মুখোমুখি করা হলে খালিফাহ যা চাচ্ছেন তার স্বীকৃতি কি আপনি দেবেন?
.
তিনি জবাবে বলেছিলেনঃ না।
.
২১৯ হিজরি, ইবনুল জাওযী [আল মুনতাযিম – সুমা দাখালাত সানাহ তিস’আ আশারাহ ওয়া মা’আতাইন, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৪২]
.
.
খালিফাহ মু’তাসিম চাচ্ছিলেন ইমাম আহমাদ যেন আক্বীদ্বার ব্যাপারে, বিশেষ করে ক্বুর’আনের ব্যাপারে মু’তাযিলাদের অবস্থান গ্রহন করেন। যেন তিনি স্বীকার করে নেন যে ক্বুর’আন হল সৃষ্ট। খালিফাহ মু’তাসিমের পূর্বসুরী সপ্তম আব্বাসি খালিফাহ, আল-মামুনের সময় থেকেই “ক্বুর’আন সৃষ্ট” - মু’তাযিলাদের এ কুফরি অবস্থান স্বীকার করা এবং সঠিক অবস্থান হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ইমামগনের উপর রাস্ট্রীয়ভাবে চাপ প্রয়োগ করা শুরু হয়। আল-মামুনের পর, আল-মু’তাসিম এবং আল-ওয়াসিকও এই অবস্থান গ্রহন করেন। ইতিহাসে এ ঘটনাটি পরিচিত মিহ্নাহ বা পরীক্ষা হিসেবে। সুদীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে চলে মিহ্নাহ।
.
২১৯ হিজরির দিকে একে একে অধিকাংশ ‘আলিমগণ চাপ, বন্দীত্ব, নির্যাতন, ও প্রাণভয়ে নতি স্বীকার করে নেন। ইমাম আহমাদ ইবন হানবাল জানতেন এক সময় না এক সময় তাকে এ পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। তার সামনে কঠিন এক সিদ্ধান্ত। যদি তিনি সত্যের উপর অবিচল থাকেন তাহলে শাসক বন্দি করবেন, তার উপর নির্যাতন চালাবেন, হয়তো তাকে হত্যা করা হবে। শাসক যা চাচ্ছেন যদি বাহ্যিকভাবে তিনি তার ঘোষণা দেন তাহলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাকিয়্যাহ (নিজের প্রকৃত বিশ্বাস গোপন করা) ইমাম আহমাদের জন্য হারাম ছিল না। বরং আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল এটিই অধিক হিকমাহপূর্ণ সিদ্ধান্ত, অধিক বিচক্ষনতাপুর্ণ অবস্থান। কারন যদি তিনি বেঁচে থাকেন থাকেন তাহলে হয়তো এক সময় সত্যকে তিনি প্রকাশ করতে পারবেন।
.
ইমাম আহমাদ ইবন হানবাল আমাদের মতই রক্তমাংশের মানুষ ছিলেন। আসমানবাসি ফেরেশতা ছিলেন না। তিনি ক্ষুরধার বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছিলেন, নির্বোধ ছিলেন না। ইমাম আহমাদ অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন, অর্থ-সম্পদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ক্ষমতা তার ছিল না। আবার তিনি ছিলেন সুপরিচিত মুখ, আত্বগোপন করা, কিংবা নিজেকে লুকিয়ে রাখার অবস্থাও তার ছিল না। নিশ্চয় প্রতিটি সম্ভাবনাই, প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি ও ফলাফলের কথা বিবেচনা করেই তিনি তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছিলেন।
.
ইমাম আদ্ব-দ্বাহাবি বলেন, আব্বাস আদ-দুরি আমাদের বলেছেন আবু জাফার আল-আনবারি আমাদের কাছে বর্ননা করেছেনঃ
“যখন আহমদ ইবন হানবালকে আল-মামুনের দরবারে তলব করার খবর পেলাম, আমি (আবু জাফর আল-আনবারি) ইমাম আহমাদের সাথে দেখা করতে গেলাম। আমাকে দেখে ইমাম আহমাদ বললেন – “আপনি নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন” (কষ্ট করে আসার প্রয়োজন ছিল না)
.
আমি ইমাম আহমাদকে বললামঃ আজ অনেক মানুষ আপনাকে অনুসরণ করে। যদি আপনি খালিফাহর কথামতো সাক্ষ্য দেন যে ক্বুর’আন সৃষ্ট, তাহলে তারা আপনার এ কথার অনুসরণ করবে। আর যদি আপনি খালিফাহকে প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে মানুষ (মু’তাযিলাদের) এ বিশ্বাস গ্রহণ করবে না। মনে রাখুন, খালিফাহ যদি আপনাকে হত্যা না-ও করে, তবুও একদিন দিন না একদিন আপনাকে মরতেই হবে। মৃত্যু সকলকেই স্পর্শ করবে। সুতরাং মহান আল্লাহকে ভয় করুন, এবং খালিফাহর এ অবস্থানের স্বীকৃতি দেয়া থেকে বিরত থাকুন।‘
.
আমার কথা শুনে ইমাম আহমাদ কাঁদতে শুরু করলেন। এবং বললেন – সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। হে আবু জাফর, আপনি যা বললেন আবার তা আমাকে বলুন।
.
আমি বললাম। আর ইমাম আহমাদ বার বার বলতে থাকলেন – আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ...”
.
.
মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-বুশানজি বলেনঃ কিছু লোক আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম আহমাদ) সাথে তর্ক করছিল যাতে করে তিনি তাকিয়্যাহ করেন। ইমাম আহমাদ তাদেরকে বলেছিলেনঃ খাব্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নাবী ﷺ এর যে হাদিস বর্ননা করেছেন আপনারা তা স্মরণ করুন - তোমাদের পূর্ববর্তী অনেক লোককে ধরে লোহার চিরুনী দিয়ে তাদের হাড় থেকে গোশত ছড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবুও তাদের দ্বীন থেকে তারা বিন্দুমাত্র টলেনি।“
[সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা, আহমাদ ইবন হানবান, আল মিহ্নাহ খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৩৮,২৩৯, তাহযীব আল কামাল বাব আল আলিফ, মিন আসমুহ আহমাদ, খন্ড১, পৃষ্ঠা ৪৬০,৪৬১, তাবাক্বাত আল-শাফি’ইয়াহ আল কুবরা, তর্জমা নং ৭, আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হানবাল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৬, ৩৭]
.
.
ইমাম আহমাদের ছেলে সালিহ বর্ননা করেন – আমার পিতা এবং মুহাম্মাদ ইবন নুহকে শেকলে বেধে বাগদাদ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা আনবার পর্যন্ত তাদের অনুসরণ করেছিলাম। আবু বাকর আল-আহওয়াল আমার পিতাকে প্রশ্ন করেছিলেনঃ হে আবু আব্দুল্লাহ, যদি আপনার মাথার উপর তলোয়ারের ছায়া দেখতে পান, তখন কি আপনি খালিফাহ্র মত স্বীকার করে নেবেন”?
আমার পিতা জবাব দিয়েছিলেন – না।
[সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা, আহমাদ ইবন হানবান, আল মিহ্নাহ খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৪১, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ড ১০, সিরাত আহমাদ ইবন হানবাল]
.
মুহাম্মাদ ইবন নুহের ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বলেন – আমি মুহাম্মাদ ইবন নুহের মত অধিক দৃঢ়সংকল্প ব্যক্তি আর দেখি নি, যদিও তিনি ছিলেন বয়সে তরুণ, এবং আলিম হিসেবে অত্যন্ত উচ্চমার্গের ছিলেন না। আমি আশা করি তার অন্তিম গন্তব্য কল্যাণময় হয়েছে। একদিন তিনি আমাকে বললেন –
.
‘আবু আব্দুল্লাহ, আপনি আমার মতো নন। আপনি মানুষের কাছে আদর্শস্বরূপ। সবাই তাকিয়ে আছে আপনি করবেন, আপনি কি বলবেন তা জানার জন্য। আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সত্যের সমর্থনে অবিচল থাকুন।‘ [সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা, আহমাদ ইবন হানবান, আল মিহ্নাহ খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৪২]
.
ইব্রাহিম বিন হারিস আল-আবাদি ইমাম আহমদ ও আবু মুহাম্মাদ আল তাফাউয়ির মধ্যে কথোপকথন বর্ণনা করেছেন। আবু মুহাম্মাদ আল তাফাউয়ি আহমদ ইবন হানবালের সাথে দেখা করেন এবং তার সামনে একটি হাদিস বর্ননা করেন। অতঃপর ইমাম আহমাদ তাকে বলেন –
.
‘যখন আমাদের শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হল, আমি আমাদের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তাগ্রস্থ ছিলাম। আর-রাহবাহ্তে পৌছানোর পর আমরা কিছু সময়ের জন্য যাত্রা থেকে বিরতি নিলাম। আমি দিগন্তের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। দেখলাম একজন বেদুইন আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। সে আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো:
.
আপনি কি আহমাদ ইবন হানবাল? আমি হ্যা-সূচক জবাব দিলাম। সে কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো। তাকে দেখে মনে হচ্ছিলো সে অভিভূত। তারপর সে আবার একই প্রশ্ন করলো এবং আবার চুপ হয়ে গেলো। অতঃপর সে মাটিতে হাটু গেড়ে বসলো এবং প্রশ্ন করলো – আপনি কি আহমাদ ইবন হানবাল? আমি হ্যা-সূচক জবাব দিলাম। তখন বেদুইন বললো:
.
“সহ্য করুন, ধৈর্য ধারন করুন এবং সুসংবাদের জন্য অপেক্ষা করুন। একটাই মাত্র আঘাত, তারপর আপনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন।“
.
তারপর বেদুইনটি চলে গেল।‘
.
আল-তাফাউয়ি প্রশ্ন করলেন- তারা আপনার সাথে কিরূপ আচরন করেছিল?
.
ইমাম আহমাদ জবাব দিলেন – “যখন আমাকে চাবুক মারা হচ্ছিল, আমার তখন বেদুইনের এ কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। উযাইফ নামের লম্বা দাড়িওয়ালা লোকটি তার তলোয়ারের চওড়া দিক দিয়ে আমাকে আঘাত করলো। আমি নিজেকে বললাম – এই তো, মুক্তি সন্নিকটে! এখন সে আমার গলা কেটে ফেলবে আর আমি বিশ্রাম নিতে পারবো।
.
এসময় ইবন সামা’আহ বললো – হে আমীরুল মু’মিনীন, আমাকে অনুমতি দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই, এবং আমার হাত তার রক্তে রঞ্জিত হোক। কিন্তু ইবন আবু দাউদ বললো – না, আমিরুল মু’মিনীন। এমন কাজ করবেন না। যদি আপনি তাকে হত্যা করেন কিংবা আপনার উপস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়, মানুষ বলবে সে আমৃত্যু নিজের অবস্থান অটল ছিল এবং তারা তাকে ইমাম গণ্য করবে, তাকে অনুসরণ করবে, এবং তাদের বিশ্বাসে অটল থাকবে। বরং উত্তম হল আপনি তাকে এখন ছেড়ে দিন। যদি সে আপনার দরবারের বাইরে নারা যায়, তাহলে মানুষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হবে। কেউ বলবে সে খালিফাহর কথা মেনে নিয়েছিল, কেউ বলবে উল্টোটা।“
.
আলা-তাফাউয়ি প্রশ্ন করলেন – যদি আপনি খালিফাহ্র কথা মেনেন নিতেন তাহলে কি হতো?
.
ইমাম আহমাদ জবাব দিলেন – তাহলে আমি কাফিরে পরিণত হতাম।
[সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা, আহমাদ ইবন হানবান, আল মিহ্নাহ খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৫৮,২৫৯]
.
.
ইবন হিব্বান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আহমাদ ইবন হানবাল ক্বুর’আন অন্তঃস্থ করেছিলেন, এবং নির্ভুল ভাবে তিলাওয়াত করতেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ফাক্বীহ, যিনি নির্জনে মুত্তাক্বী ছিলেন...আল্লাহ তাকে উম্মাতে মুহাম্মাদী ﷺ প্রতি সাহায্য হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। নির্যাতনের মুখে তিনি অবিচল ছিলেন এবং যহনব তাকে চাবুক মারা হচ্ছিল তখন (আল্লাহর দ্বীনের জন্য) মৃত্যুবরনের জন্য সম্পূর্ণ ভাবে আল্লাহর প্রতি নিজেকে নিবেদন করেছিলেন। আল্লাহ তাকে কুফর থেকে সুরক্ষিত করেছেন, এবং মু’মিনদের জন্য এক অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত তার মাধ্যমে স্থাপন করেছেন।“ [আস সুকাত, মান ইবতাদা’হ আমুহ আলা আল-আলিফ, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৮, তাহযিব আল তাহযিব, হারফ আল আলিফ, দ্বিকর মিন আসমুহ আহমাদ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৫]
.
.
আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হানবাল বর্ননা করেন, আমি প্রায়ই আমার পিতাকে বলতে শুনতাম, আবুল হাইসামের উপর আল্লাহ রহম করুন, তার গুনাহ সমূহ আলাহ মাফ করে দিন। আমি একদিন প্রশ্ন করলাম – বাবা, আবুল হাইসাম কে?
তিনি বললেন – যখন আমাকে চাবুক মারার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, একজন যুবক এসে পেছন থেকে আমার কাপড় টেনে ধরলো, এবং প্রশ্ন করলো – তুমি কি জানো আমি কে?
আমি বললাম – না।
সে বললো – ‘আমি আবুল হাইসাম আল-আইয়্যার। চুরির অপরাধে বিভিন্ন সময়ে আমাকে ১৮,০০০ বার চাবুক মারা হয়েছে। শয়তানের প্রতি আনুগত্য করে, দুনিয়ার লোভে আমি ১৮,০০০ আঘাত সহ্য করতে পেরেছি। সুতরাং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য করে, এবং দ্বীনের জন্য সকল আঘাত তুমি সহ্য করো।‘
অতঃপর আমার পিতা বললেন – আবুল হাইসামকে ১৮,০০০ বার চাবুক মারা হয়েছিল, আমাকে ১৮ বার চাবুক দ্বারা আঘাত করা হয়েছিল।“ [সাফওয়াত আল-সাফওয়াহ – দ্বিকর আল মুস্তাফিন আহল বাগদাদ –আহমাদ ইবন হানবাল, খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৩৫১ ]
.
.
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আর ইমাম, শায়খুল ইসলাম আবু আবদুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হানবাল বিন বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শায়বানী সিদ্ধান্ত নেন সাহাবাদের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন জামা’আর বিশ্বাসের অবিচল থাকার। ক্বুর’আন ও সুন্নাহ আমৃত্যু আকড়ে থাকার, বাতিলের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার, দুনিয়াকে তুচ্ছ করে আখিরাতকে গ্রহন করার। ভূখণ্ডের শাসকের বদলে আসমান ও যমীনের শাসকের সামনে মাথা নত করার। সৃষ্টিকে উপেক্ষা করে স্রষ্টার আনুগত্য করার।
.
.
ইমাম আহমাদ নিজের দারিদ্র্যকে অজুহাত বানাননি, নিজের পরিবারকে অজুহাত বানাননি, অজুহাত বানাননি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, কিংবা জাগতিক দুর্দশা। কারন ‘আলিমগণ নবীদের ওয়ারিশ শুধুমাত্র ‘ইলমের ধারন ও প্রচারণার দিক থেকে না, শুধুমাত্র দাওয়াহ এবং নাসীহাহর দিক থেকে না। বরং হাক্ব ও বাতিলের লড়াইয়ে সত্যকে সুস্পষ্টকে ব্যক্ত করা, সত্যের উপর অবস্থানের কারন পরীক্ষিত হওয়া, কুফফার-ত্বগুত-যালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করা, অবিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিশ্বাসীদের নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্বের দিক দিয়েও উলামা নবীদের ওয়ারিশ। জাহিলিয়্যাহর জীবন ছেড়ে দ্বীনে আসা যুবক আর নবীদের একজন ওয়ারিশের কাজকে তাই একই স্কেইলে হিসেব করা হবে না। যদি করা হয় তবে সেটা দুজনের উপরই যুলুম। তারা সাধারণ না, তাদেরকে সাধারণের মানদণ্ডে পরিমাপ করা হবে না। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণরা এ অসাধারন মানুষগুলোর জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেন। যেমন একজন অবিস্মরণীয় ইমাম আহমাদের উপর প্রভাব ফেলেছিলেন একজন আবুল হাইসাম, একজন নাম না জানা বেদুইন।
.
.
ইমাম আহমাদ আজ নেই। নেই মু’তাসিম। কিন্তু নতুন এক মিহ্নাহ আজ শুরু হয়েছে। মিম্বার থেকে মিম্বারে তা ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আজ, এখানে কে আছেন যিনি আহমাদ ইবন হানবালের উত্তরসূরী হবার যোগ্য? যিনি অনুসরন করবেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহর ইমামের দৃষ্টান্ত? এ প্রশ্নের কোন সঙ্গত উত্তর দিতে পারছি না। তাহলে কেন এ লেখা? নিজের হতাশা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য?
.
না। অনেক সময় মাথা নিচু করে থাকতে থাকতে মানুষ আকাশ দেখতে ভুলে যায়। বালুতে মুখ গুজে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে,মানুষ ভুলে যায় ইচ্ছে করলেই আকাশ দেখার ক্ষমতা তার আছে। কূয়োতে আবদ্ধ ব্যাঙ কুয়োকেই সমগ্র বিশ্ব মনে করার কারনে তার চিন্তা কখনো কুয়োর বাইরে যেতে পারে না। কোন জাতির কাছে সর্বোচ্চ সংখ্যা যদি এক হাজার হয় তাহলে এক কোটি কি, এ ধারনাটাই তারা কখনো স্পর্শ করতে পারবে না।
.
আমাদের বর্তমান অবস্থা, বালুতে গুজে রাখা আমাদের লক্ষ লক্ষ মাথা যেন আমাদের ইতিহাস আমাদেরকে ভুলিয়ে না দেয়। আমাদের আতংক, আমাদের ভীতি যেন আমাদের চিন্তাকে আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে সংকুচিত করে না দেয়। কোনক্রমে টিকে থাকার জন্য না, অনেকের মধ্যে এক হয়ে পরিচিত হবার জন্য না, এই দ্বীন এসেছে বিশ্বের উপর কতৃত্ব করার জন্য এ সত্য যেন আমরা ভুলে না যাই। কুফফার যে এই উম্মাহর পদাবনত হবে এ সত্য প্রতিশ্রুতি যেন আমরা ভুলে না যাই। সে বিজয়ের অংশীদার হবার স্বপ্ন যেন আমরা ছেড়ে না দেই।
.
ভীতি যেন আমাদের জড়তায় না নিয়ে যায়। যুগে যুগে ইমাম আহমাদরা হয়তো আসেন না, কিন্তু একজন মুহাম্মাদ ইবন নুহের ব্যাপারে আমরা আশা করা বন্ধ করে দেব, এমন যেন না হয়।
#আমরাসেইজাতি
.
তিনি জবাবে বলেছিলেনঃ না।
.
২১৯ হিজরি, ইবনুল জাওযী [আল মুনতাযিম – সুমা দাখালাত সানাহ তিস’আ আশারাহ ওয়া মা’আতাইন, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৪২]
.
.
খালিফাহ মু’তাসিম চাচ্ছিলেন ইমাম আহমাদ যেন আক্বীদ্বার ব্যাপারে, বিশেষ করে ক্বুর’আনের ব্যাপারে মু’তাযিলাদের অবস্থান গ্রহন করেন। যেন তিনি স্বীকার করে নেন যে ক্বুর’আন হল সৃষ্ট। খালিফাহ মু’তাসিমের পূর্বসুরী সপ্তম আব্বাসি খালিফাহ, আল-মামুনের সময় থেকেই “ক্বুর’আন সৃষ্ট” - মু’তাযিলাদের এ কুফরি অবস্থান স্বীকার করা এবং সঠিক অবস্থান হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ইমামগনের উপর রাস্ট্রীয়ভাবে চাপ প্রয়োগ করা শুরু হয়। আল-মামুনের পর, আল-মু’তাসিম এবং আল-ওয়াসিকও এই অবস্থান গ্রহন করেন। ইতিহাসে এ ঘটনাটি পরিচিত মিহ্নাহ বা পরীক্ষা হিসেবে। সুদীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে চলে মিহ্নাহ।
.
২১৯ হিজরির দিকে একে একে অধিকাংশ ‘আলিমগণ চাপ, বন্দীত্ব, নির্যাতন, ও প্রাণভয়ে নতি স্বীকার করে নেন। ইমাম আহমাদ ইবন হানবাল জানতেন এক সময় না এক সময় তাকে এ পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। তার সামনে কঠিন এক সিদ্ধান্ত। যদি তিনি সত্যের উপর অবিচল থাকেন তাহলে শাসক বন্দি করবেন, তার উপর নির্যাতন চালাবেন, হয়তো তাকে হত্যা করা হবে। শাসক যা চাচ্ছেন যদি বাহ্যিকভাবে তিনি তার ঘোষণা দেন তাহলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাকিয়্যাহ (নিজের প্রকৃত বিশ্বাস গোপন করা) ইমাম আহমাদের জন্য হারাম ছিল না। বরং আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল এটিই অধিক হিকমাহপূর্ণ সিদ্ধান্ত, অধিক বিচক্ষনতাপুর্ণ অবস্থান। কারন যদি তিনি বেঁচে থাকেন থাকেন তাহলে হয়তো এক সময় সত্যকে তিনি প্রকাশ করতে পারবেন।
.
ইমাম আহমাদ ইবন হানবাল আমাদের মতই রক্তমাংশের মানুষ ছিলেন। আসমানবাসি ফেরেশতা ছিলেন না। তিনি ক্ষুরধার বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছিলেন, নির্বোধ ছিলেন না। ইমাম আহমাদ অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন, অর্থ-সম্পদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ক্ষমতা তার ছিল না। আবার তিনি ছিলেন সুপরিচিত মুখ, আত্বগোপন করা, কিংবা নিজেকে লুকিয়ে রাখার অবস্থাও তার ছিল না। নিশ্চয় প্রতিটি সম্ভাবনাই, প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি ও ফলাফলের কথা বিবেচনা করেই তিনি তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছিলেন।
.
ইমাম আদ্ব-দ্বাহাবি বলেন, আব্বাস আদ-দুরি আমাদের বলেছেন আবু জাফার আল-আনবারি আমাদের কাছে বর্ননা করেছেনঃ
“যখন আহমদ ইবন হানবালকে আল-মামুনের দরবারে তলব করার খবর পেলাম, আমি (আবু জাফর আল-আনবারি) ইমাম আহমাদের সাথে দেখা করতে গেলাম। আমাকে দেখে ইমাম আহমাদ বললেন – “আপনি নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন” (কষ্ট করে আসার প্রয়োজন ছিল না)
.
আমি ইমাম আহমাদকে বললামঃ আজ অনেক মানুষ আপনাকে অনুসরণ করে। যদি আপনি খালিফাহর কথামতো সাক্ষ্য দেন যে ক্বুর’আন সৃষ্ট, তাহলে তারা আপনার এ কথার অনুসরণ করবে। আর যদি আপনি খালিফাহকে প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে মানুষ (মু’তাযিলাদের) এ বিশ্বাস গ্রহণ করবে না। মনে রাখুন, খালিফাহ যদি আপনাকে হত্যা না-ও করে, তবুও একদিন দিন না একদিন আপনাকে মরতেই হবে। মৃত্যু সকলকেই স্পর্শ করবে। সুতরাং মহান আল্লাহকে ভয় করুন, এবং খালিফাহর এ অবস্থানের স্বীকৃতি দেয়া থেকে বিরত থাকুন।‘
.
আমার কথা শুনে ইমাম আহমাদ কাঁদতে শুরু করলেন। এবং বললেন – সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। হে আবু জাফর, আপনি যা বললেন আবার তা আমাকে বলুন।
.
আমি বললাম। আর ইমাম আহমাদ বার বার বলতে থাকলেন – আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ...”
.
.
মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-বুশানজি বলেনঃ কিছু লোক আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম আহমাদ) সাথে তর্ক করছিল যাতে করে তিনি তাকিয়্যাহ করেন। ইমাম আহমাদ তাদেরকে বলেছিলেনঃ খাব্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নাবী ﷺ এর যে হাদিস বর্ননা করেছেন আপনারা তা স্মরণ করুন - তোমাদের পূর্ববর্তী অনেক লোককে ধরে লোহার চিরুনী দিয়ে তাদের হাড় থেকে গোশত ছড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবুও তাদের দ্বীন থেকে তারা বিন্দুমাত্র টলেনি।“
[সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা, আহমাদ ইবন হানবান, আল মিহ্নাহ খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৩৮,২৩৯, তাহযীব আল কামাল বাব আল আলিফ, মিন আসমুহ আহমাদ, খন্ড১, পৃষ্ঠা ৪৬০,৪৬১, তাবাক্বাত আল-শাফি’ইয়াহ আল কুবরা, তর্জমা নং ৭, আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হানবাল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৬, ৩৭]
.
.
ইমাম আহমাদের ছেলে সালিহ বর্ননা করেন – আমার পিতা এবং মুহাম্মাদ ইবন নুহকে শেকলে বেধে বাগদাদ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা আনবার পর্যন্ত তাদের অনুসরণ করেছিলাম। আবু বাকর আল-আহওয়াল আমার পিতাকে প্রশ্ন করেছিলেনঃ হে আবু আব্দুল্লাহ, যদি আপনার মাথার উপর তলোয়ারের ছায়া দেখতে পান, তখন কি আপনি খালিফাহ্র মত স্বীকার করে নেবেন”?
আমার পিতা জবাব দিয়েছিলেন – না।
[সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা, আহমাদ ইবন হানবান, আল মিহ্নাহ খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৪১, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ড ১০, সিরাত আহমাদ ইবন হানবাল]
.
মুহাম্মাদ ইবন নুহের ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বলেন – আমি মুহাম্মাদ ইবন নুহের মত অধিক দৃঢ়সংকল্প ব্যক্তি আর দেখি নি, যদিও তিনি ছিলেন বয়সে তরুণ, এবং আলিম হিসেবে অত্যন্ত উচ্চমার্গের ছিলেন না। আমি আশা করি তার অন্তিম গন্তব্য কল্যাণময় হয়েছে। একদিন তিনি আমাকে বললেন –
.
‘আবু আব্দুল্লাহ, আপনি আমার মতো নন। আপনি মানুষের কাছে আদর্শস্বরূপ। সবাই তাকিয়ে আছে আপনি করবেন, আপনি কি বলবেন তা জানার জন্য। আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সত্যের সমর্থনে অবিচল থাকুন।‘ [সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা, আহমাদ ইবন হানবান, আল মিহ্নাহ খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৪২]
.
ইব্রাহিম বিন হারিস আল-আবাদি ইমাম আহমদ ও আবু মুহাম্মাদ আল তাফাউয়ির মধ্যে কথোপকথন বর্ণনা করেছেন। আবু মুহাম্মাদ আল তাফাউয়ি আহমদ ইবন হানবালের সাথে দেখা করেন এবং তার সামনে একটি হাদিস বর্ননা করেন। অতঃপর ইমাম আহমাদ তাকে বলেন –
.
‘যখন আমাদের শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হল, আমি আমাদের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তাগ্রস্থ ছিলাম। আর-রাহবাহ্তে পৌছানোর পর আমরা কিছু সময়ের জন্য যাত্রা থেকে বিরতি নিলাম। আমি দিগন্তের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। দেখলাম একজন বেদুইন আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। সে আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো:
.
আপনি কি আহমাদ ইবন হানবাল? আমি হ্যা-সূচক জবাব দিলাম। সে কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো। তাকে দেখে মনে হচ্ছিলো সে অভিভূত। তারপর সে আবার একই প্রশ্ন করলো এবং আবার চুপ হয়ে গেলো। অতঃপর সে মাটিতে হাটু গেড়ে বসলো এবং প্রশ্ন করলো – আপনি কি আহমাদ ইবন হানবাল? আমি হ্যা-সূচক জবাব দিলাম। তখন বেদুইন বললো:
.
“সহ্য করুন, ধৈর্য ধারন করুন এবং সুসংবাদের জন্য অপেক্ষা করুন। একটাই মাত্র আঘাত, তারপর আপনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন।“
.
তারপর বেদুইনটি চলে গেল।‘
.
আল-তাফাউয়ি প্রশ্ন করলেন- তারা আপনার সাথে কিরূপ আচরন করেছিল?
.
ইমাম আহমাদ জবাব দিলেন – “যখন আমাকে চাবুক মারা হচ্ছিল, আমার তখন বেদুইনের এ কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। উযাইফ নামের লম্বা দাড়িওয়ালা লোকটি তার তলোয়ারের চওড়া দিক দিয়ে আমাকে আঘাত করলো। আমি নিজেকে বললাম – এই তো, মুক্তি সন্নিকটে! এখন সে আমার গলা কেটে ফেলবে আর আমি বিশ্রাম নিতে পারবো।
.
এসময় ইবন সামা’আহ বললো – হে আমীরুল মু’মিনীন, আমাকে অনুমতি দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই, এবং আমার হাত তার রক্তে রঞ্জিত হোক। কিন্তু ইবন আবু দাউদ বললো – না, আমিরুল মু’মিনীন। এমন কাজ করবেন না। যদি আপনি তাকে হত্যা করেন কিংবা আপনার উপস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়, মানুষ বলবে সে আমৃত্যু নিজের অবস্থান অটল ছিল এবং তারা তাকে ইমাম গণ্য করবে, তাকে অনুসরণ করবে, এবং তাদের বিশ্বাসে অটল থাকবে। বরং উত্তম হল আপনি তাকে এখন ছেড়ে দিন। যদি সে আপনার দরবারের বাইরে নারা যায়, তাহলে মানুষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হবে। কেউ বলবে সে খালিফাহর কথা মেনে নিয়েছিল, কেউ বলবে উল্টোটা।“
.
আলা-তাফাউয়ি প্রশ্ন করলেন – যদি আপনি খালিফাহ্র কথা মেনেন নিতেন তাহলে কি হতো?
.
ইমাম আহমাদ জবাব দিলেন – তাহলে আমি কাফিরে পরিণত হতাম।
[সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা, আহমাদ ইবন হানবান, আল মিহ্নাহ খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৫৮,২৫৯]
.
.
ইবন হিব্বান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আহমাদ ইবন হানবাল ক্বুর’আন অন্তঃস্থ করেছিলেন, এবং নির্ভুল ভাবে তিলাওয়াত করতেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ফাক্বীহ, যিনি নির্জনে মুত্তাক্বী ছিলেন...আল্লাহ তাকে উম্মাতে মুহাম্মাদী ﷺ প্রতি সাহায্য হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। নির্যাতনের মুখে তিনি অবিচল ছিলেন এবং যহনব তাকে চাবুক মারা হচ্ছিল তখন (আল্লাহর দ্বীনের জন্য) মৃত্যুবরনের জন্য সম্পূর্ণ ভাবে আল্লাহর প্রতি নিজেকে নিবেদন করেছিলেন। আল্লাহ তাকে কুফর থেকে সুরক্ষিত করেছেন, এবং মু’মিনদের জন্য এক অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত তার মাধ্যমে স্থাপন করেছেন।“ [আস সুকাত, মান ইবতাদা’হ আমুহ আলা আল-আলিফ, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৮, তাহযিব আল তাহযিব, হারফ আল আলিফ, দ্বিকর মিন আসমুহ আহমাদ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৫]
.
.
আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হানবাল বর্ননা করেন, আমি প্রায়ই আমার পিতাকে বলতে শুনতাম, আবুল হাইসামের উপর আল্লাহ রহম করুন, তার গুনাহ সমূহ আলাহ মাফ করে দিন। আমি একদিন প্রশ্ন করলাম – বাবা, আবুল হাইসাম কে?
তিনি বললেন – যখন আমাকে চাবুক মারার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, একজন যুবক এসে পেছন থেকে আমার কাপড় টেনে ধরলো, এবং প্রশ্ন করলো – তুমি কি জানো আমি কে?
আমি বললাম – না।
সে বললো – ‘আমি আবুল হাইসাম আল-আইয়্যার। চুরির অপরাধে বিভিন্ন সময়ে আমাকে ১৮,০০০ বার চাবুক মারা হয়েছে। শয়তানের প্রতি আনুগত্য করে, দুনিয়ার লোভে আমি ১৮,০০০ আঘাত সহ্য করতে পেরেছি। সুতরাং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য করে, এবং দ্বীনের জন্য সকল আঘাত তুমি সহ্য করো।‘
অতঃপর আমার পিতা বললেন – আবুল হাইসামকে ১৮,০০০ বার চাবুক মারা হয়েছিল, আমাকে ১৮ বার চাবুক দ্বারা আঘাত করা হয়েছিল।“ [সাফওয়াত আল-সাফওয়াহ – দ্বিকর আল মুস্তাফিন আহল বাগদাদ –আহমাদ ইবন হানবাল, খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৩৫১ ]
.
.
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আর ইমাম, শায়খুল ইসলাম আবু আবদুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হানবাল বিন বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শায়বানী সিদ্ধান্ত নেন সাহাবাদের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন জামা’আর বিশ্বাসের অবিচল থাকার। ক্বুর’আন ও সুন্নাহ আমৃত্যু আকড়ে থাকার, বাতিলের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার, দুনিয়াকে তুচ্ছ করে আখিরাতকে গ্রহন করার। ভূখণ্ডের শাসকের বদলে আসমান ও যমীনের শাসকের সামনে মাথা নত করার। সৃষ্টিকে উপেক্ষা করে স্রষ্টার আনুগত্য করার।
.
.
ইমাম আহমাদ নিজের দারিদ্র্যকে অজুহাত বানাননি, নিজের পরিবারকে অজুহাত বানাননি, অজুহাত বানাননি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, কিংবা জাগতিক দুর্দশা। কারন ‘আলিমগণ নবীদের ওয়ারিশ শুধুমাত্র ‘ইলমের ধারন ও প্রচারণার দিক থেকে না, শুধুমাত্র দাওয়াহ এবং নাসীহাহর দিক থেকে না। বরং হাক্ব ও বাতিলের লড়াইয়ে সত্যকে সুস্পষ্টকে ব্যক্ত করা, সত্যের উপর অবস্থানের কারন পরীক্ষিত হওয়া, কুফফার-ত্বগুত-যালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করা, অবিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিশ্বাসীদের নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্বের দিক দিয়েও উলামা নবীদের ওয়ারিশ। জাহিলিয়্যাহর জীবন ছেড়ে দ্বীনে আসা যুবক আর নবীদের একজন ওয়ারিশের কাজকে তাই একই স্কেইলে হিসেব করা হবে না। যদি করা হয় তবে সেটা দুজনের উপরই যুলুম। তারা সাধারণ না, তাদেরকে সাধারণের মানদণ্ডে পরিমাপ করা হবে না। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণরা এ অসাধারন মানুষগুলোর জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেন। যেমন একজন অবিস্মরণীয় ইমাম আহমাদের উপর প্রভাব ফেলেছিলেন একজন আবুল হাইসাম, একজন নাম না জানা বেদুইন।
.
.
ইমাম আহমাদ আজ নেই। নেই মু’তাসিম। কিন্তু নতুন এক মিহ্নাহ আজ শুরু হয়েছে। মিম্বার থেকে মিম্বারে তা ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আজ, এখানে কে আছেন যিনি আহমাদ ইবন হানবালের উত্তরসূরী হবার যোগ্য? যিনি অনুসরন করবেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহর ইমামের দৃষ্টান্ত? এ প্রশ্নের কোন সঙ্গত উত্তর দিতে পারছি না। তাহলে কেন এ লেখা? নিজের হতাশা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য?
.
না। অনেক সময় মাথা নিচু করে থাকতে থাকতে মানুষ আকাশ দেখতে ভুলে যায়। বালুতে মুখ গুজে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে,মানুষ ভুলে যায় ইচ্ছে করলেই আকাশ দেখার ক্ষমতা তার আছে। কূয়োতে আবদ্ধ ব্যাঙ কুয়োকেই সমগ্র বিশ্ব মনে করার কারনে তার চিন্তা কখনো কুয়োর বাইরে যেতে পারে না। কোন জাতির কাছে সর্বোচ্চ সংখ্যা যদি এক হাজার হয় তাহলে এক কোটি কি, এ ধারনাটাই তারা কখনো স্পর্শ করতে পারবে না।
.
আমাদের বর্তমান অবস্থা, বালুতে গুজে রাখা আমাদের লক্ষ লক্ষ মাথা যেন আমাদের ইতিহাস আমাদেরকে ভুলিয়ে না দেয়। আমাদের আতংক, আমাদের ভীতি যেন আমাদের চিন্তাকে আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে সংকুচিত করে না দেয়। কোনক্রমে টিকে থাকার জন্য না, অনেকের মধ্যে এক হয়ে পরিচিত হবার জন্য না, এই দ্বীন এসেছে বিশ্বের উপর কতৃত্ব করার জন্য এ সত্য যেন আমরা ভুলে না যাই। কুফফার যে এই উম্মাহর পদাবনত হবে এ সত্য প্রতিশ্রুতি যেন আমরা ভুলে না যাই। সে বিজয়ের অংশীদার হবার স্বপ্ন যেন আমরা ছেড়ে না দেই।
.
ভীতি যেন আমাদের জড়তায় না নিয়ে যায়। যুগে যুগে ইমাম আহমাদরা হয়তো আসেন না, কিন্তু একজন মুহাম্মাদ ইবন নুহের ব্যাপারে আমরা আশা করা বন্ধ করে দেব, এমন যেন না হয়।
#আমরাসেইজাতি
Wednesday, July 6, 2016
তাওবা ও বিলম্বের পরিনাম।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি এখনও আমাদেরকে জীবিত রেখেছেন। তাওবা
করার ও সৎপথে ফিরে আসার আরেকটা সুযোগ দিয়েছেন।তবে এই সুযোগ আর একবার আসবে
কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
.. أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ
أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ
তোমরা কি নিশ্চিত আছো যে যিনি আকাশের উপরে রয়েছেন, তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমিকে ধ্বসিয়ে দেবেন না আর ওটা হঠাৎ করে থর থর করে কাঁপতে থাকবে?
না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপরে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করবেন? এরপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী!
(কুরআন, মুলক ৬৭:১৬-১৭)
.
أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَىٰ أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَائِمُونَ
أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَىٰ أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ
أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ ۚ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
তবে কি জনপদগুলোর অধিবাসীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছে, তাদের উপর আমার কঠোর আযাব রাতে আসবে যখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে? নাকি জনপদগুলোর অধিবাসীরা নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছে, তাদের উপর আমার কঠোর আযাব দিনের বেলায় আসবে যখন তারা খেলায় মগ্ন থাকবে? তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর কৌশল থেকে আর কেউ (নিজেদেরকে) নিরাপদ মনে করে না।
(কুরআন, আরাফ ৭:৯৭-৯৯)
.
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান।যাতে তারা ফিরে আসে।
(কুরআন, রুম ৩০:৪১)
.
مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ ۚ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন বিপদ আসে না এবং যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তিনি তাঁর অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।
(কুরআন, তাগাবুন ৬৪:১১)
.
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
أُولَٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
এবং অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্য ধারণকারীদের।
যখন তারা বিপদে পড়ে, তখন বলে— “ নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহরই জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই কাছে ফিরে যাবো।“
তারাই সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই সুপথপ্রাপ্ত।“
(কুরআন, বাকারাহ ২:১৫৫-১৫৭)
.
فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তাঁর তরফ থেকে তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
(কুরআন, যারিয়াত ৫১:৫০)
গুরাবা সমাজের সাথে মানিয়ে চলা ....
সমাজের সাথে মানিয়ে চলা ......
(গুরাবা)
.
জাহেলিয়্যাত এবং পাপ পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত একটা সমাজে কোন মানুষ যখন বুঝতে পারে তার একদিন মরতে হবে, বিচারের মাঠে প্রত্যেকটা বাজে কথা, কুদৃষ্টি আর গীবতের জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে - তখন সে আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হতে থাকে।
.
(গুরাবা)
.
জাহেলিয়্যাত এবং পাপ পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত একটা সমাজে কোন মানুষ যখন বুঝতে পারে তার একদিন মরতে হবে, বিচারের মাঠে প্রত্যেকটা বাজে কথা, কুদৃষ্টি আর গীবতের জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে - তখন সে আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হতে থাকে।
.
তার আচার আচরনে পরিবর্তন আসে, সে বন্ধুদের সাথে সব আলোচনায় বসতে পারে না,
কাজিনদের সাথে সব পার্টিতে অ্যাটেন্ড করতে পারে না। তাই বলে সে পারফেক্ট
না, তার ভুল আছে, সীমাবদ্ধতা আছে।
.
কিন্তু তখন সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সমাজ। তারা সাহায্য তো দূরে থাক, বরং নানা ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে বাঁধা দেয়।
.
ছেলে দাঁড়ি রাখতে চাইলে তখন তাকে বলা হয় - দাঁড়িই কি সব? আরো তো কত খারাপ কাজ করিস?
.
মেয়ে হিজাব পড়তে চাইলে বলা হয় - কেন তুই কি এখন খারাপ আছিস? আমরা কি সব নষ্ট মেয়ে? মনের পর্দাই প্রকৃত পর্দা।
.
বন্ধুদের সাথে বাজে আড্ডাতে যোগ না দিলে, লজ্জা পেলে - তাকে অতীত নিয়ে খোটা দেয়া হয়। বলা হয় - খুব হুজুর হইছো না? এই তোমরাই তলে তলে সবচেয়ে বড় শয়তান।
.
কাজিনদের সাথে আড্ডা মারা অপছন্দ করলে, গায়ে হলুদ, বিয়েতে নাচানাচি, ঢলাঢলি পছন্দ না করলে --- তাকে তখন সামাজিকতার কথা বলা হয়, মানিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়।
.
সামাজিক সবকিছুতে তাকে মানিয়ে নিতে বলা হয়। কিন্তু তার জন্য কেউ মানিয়ে নেয় না।
.
কেউ তার জন্য লাউড স্পিকারে মিউজিক শোনা বন্ধ করবে না। এটা বুঝেও যে - এটা হারাম কাজ আর ইসলাম প্রাকটিস করতে চাওয়া একটা মানুষের জন্য এটা কষ্টকর।
.
বন্ধুরা তার সামনে সিগারেট খাওয়া কিংবা ছেলেমেয়ে নিয়ে বাজে কথা বলা বন্ধ করবে না। ইচ্ছা করেই হয়তো আরো বেশি করবে।
.
সে যদি তখন রিঅ্যাক্ট করে, তখন সেটা হবে অহংকার। সে যদি তখন লজ্জাতে চুপ করে থাকে, তবে সেটা হবে দুর্বলতা।
.
এই সমাজটা ধীরে ধীরে তার কাছে বিষময় হয়ে যায়। মানুষের সাথে মুখে হাসি নিয়ে কথা বলা ছেলেটা আস্তে আস্তে অসামাজিক হয়ে যায়।
.
একটা মানসিক দ্বন্দের মাঝে বসবাস করা ছেলেটা একসময় তার পরিচয় খুঁজে পায়। তার পরিচয় সে অপরিচিত, সে ভিন্ন।
.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
" ইসলামের শুরু হয়েছে যখন তা ছিল গারীব (আগন্তুক, অচেনা, অদ্ভুত, অপরিচিত) অবস্থায়।। এটা আবার ফিরে যাবে সে গারীব অবস্থায়। আর সুসংবাদ হচ্ছে গুরাবাদের (অচেনা, অদ্ভুত, অপরিচিতদের) জন্য।" [মুসলিম]
.
গুরাবাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মত কোন স্যাক্রিফাইস এখনও আমরা করি নাই, এখনো হয়তো যেদিকে স্রোত সেদিকেই আমাদের ঝোঁক বেশি। তবুও আল্লাহর কাছে দুয়া করি আল্লাহ তা'আলা যেন - আমাদের গুরাবাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মত তাওফিক দান করেন। আর আমাদের ভুল, ত্রুটি, সীমাবদ্ধতাকে মাফ করেন।
.
#গুরাবা
#অসামাজিক
#অদ্ভুত
.
কিন্তু তখন সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সমাজ। তারা সাহায্য তো দূরে থাক, বরং নানা ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে বাঁধা দেয়।
.
ছেলে দাঁড়ি রাখতে চাইলে তখন তাকে বলা হয় - দাঁড়িই কি সব? আরো তো কত খারাপ কাজ করিস?
.
মেয়ে হিজাব পড়তে চাইলে বলা হয় - কেন তুই কি এখন খারাপ আছিস? আমরা কি সব নষ্ট মেয়ে? মনের পর্দাই প্রকৃত পর্দা।
.
বন্ধুদের সাথে বাজে আড্ডাতে যোগ না দিলে, লজ্জা পেলে - তাকে অতীত নিয়ে খোটা দেয়া হয়। বলা হয় - খুব হুজুর হইছো না? এই তোমরাই তলে তলে সবচেয়ে বড় শয়তান।
.
কাজিনদের সাথে আড্ডা মারা অপছন্দ করলে, গায়ে হলুদ, বিয়েতে নাচানাচি, ঢলাঢলি পছন্দ না করলে --- তাকে তখন সামাজিকতার কথা বলা হয়, মানিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়।
.
সামাজিক সবকিছুতে তাকে মানিয়ে নিতে বলা হয়। কিন্তু তার জন্য কেউ মানিয়ে নেয় না।
.
কেউ তার জন্য লাউড স্পিকারে মিউজিক শোনা বন্ধ করবে না। এটা বুঝেও যে - এটা হারাম কাজ আর ইসলাম প্রাকটিস করতে চাওয়া একটা মানুষের জন্য এটা কষ্টকর।
.
বন্ধুরা তার সামনে সিগারেট খাওয়া কিংবা ছেলেমেয়ে নিয়ে বাজে কথা বলা বন্ধ করবে না। ইচ্ছা করেই হয়তো আরো বেশি করবে।
.
সে যদি তখন রিঅ্যাক্ট করে, তখন সেটা হবে অহংকার। সে যদি তখন লজ্জাতে চুপ করে থাকে, তবে সেটা হবে দুর্বলতা।
.
এই সমাজটা ধীরে ধীরে তার কাছে বিষময় হয়ে যায়। মানুষের সাথে মুখে হাসি নিয়ে কথা বলা ছেলেটা আস্তে আস্তে অসামাজিক হয়ে যায়।
.
একটা মানসিক দ্বন্দের মাঝে বসবাস করা ছেলেটা একসময় তার পরিচয় খুঁজে পায়। তার পরিচয় সে অপরিচিত, সে ভিন্ন।
.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
" ইসলামের শুরু হয়েছে যখন তা ছিল গারীব (আগন্তুক, অচেনা, অদ্ভুত, অপরিচিত) অবস্থায়।। এটা আবার ফিরে যাবে সে গারীব অবস্থায়। আর সুসংবাদ হচ্ছে গুরাবাদের (অচেনা, অদ্ভুত, অপরিচিতদের) জন্য।" [মুসলিম]
.
গুরাবাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মত কোন স্যাক্রিফাইস এখনও আমরা করি নাই, এখনো হয়তো যেদিকে স্রোত সেদিকেই আমাদের ঝোঁক বেশি। তবুও আল্লাহর কাছে দুয়া করি আল্লাহ তা'আলা যেন - আমাদের গুরাবাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মত তাওফিক দান করেন। আর আমাদের ভুল, ত্রুটি, সীমাবদ্ধতাকে মাফ করেন।
.
#গুরাবা
#অসামাজিক
#অদ্ভুত
জ্ঞান
আমরা জানি যে কুরআন ও হাদিসে বিভিন্ন সময়ে ‘ইলম’ বা ‘জ্ঞান’ এর কথা বলা হয়েছে। জ্ঞানার্জন বলতে আমরা আসলে কী বুঝি? অনেক সময়ে গুরুজনরা কিছু কিছু আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করে ছোটদেরকে বলেন— ভালো করে পড়াশুনা কর।এটা কুরআন-হাদিসে বলা আছে।
“জ্ঞানার্জনের জন্য প্রয়োজনে চীনদেশে যাও”— এমন জাল হাদিসও অনেক সময়ে ব্যবহার হয়।ইসলাম আসলে কোন জ্ঞানটির প্রতি জোর দিয়েছে? কোন বিষয়ে জানবার জন্য কুরআন-হাদিসে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে?
.
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল(র) বলেছেনঃ- “আবশ্যক হল এমন জ্ঞান অর্জন করা যার উপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত এবং যা পরিত্যাগ করা তার[একজন মুসলিমের] জন্য উচিত না।” তাঁকে বলা হল— “দ্বীন তো সকল জ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত”। তিনি বললেনঃ- “ফরয, যেগুলো তার উপর ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক – এসব ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন ফরয হবার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।”[আল আদাবুশ শারিয়াহ (২/৩৩-৩৪), ইবন মুকলিফ]
.
ইবন রজব হাম্বলী(র) আরো বিস্তারিত বলেছেন— “নিশ্চয়ই প্রত্যেক মুসলিমের উপর দ্বীনের ঐসব ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন ফরয—যেগুলো তার প্রয়োজন।যেমনঃ পবিত্রতা, নামায, রোজা।আর যার সম্পদ আছে তার জন্য ঐ জ্ঞান অর্জন ফরয যা ঐ সম্পদের কারণে তার উপর দায়িত্ব তৈরি করে যেমনঃ যাকাত, সদকাহ, হজ এবং জিহাদ।এ কারণে যারা বেচা-কেনা করেন, তাদের উপরে ক্রয়-বিক্রয়ে হালাল-হারাম শিক্ষা করা ফরয।”
[মাজমু আর রাসাইল, অধ্যায়” ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া, শারহু হাদিস আবি দারদা, পৃষ্ঠা ২২-২৩]
.
পূর্বযুগের এই উলামাগণের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল মানুষের জন্য কোন জ্ঞান অর্জন করা সর্বাপেক্ষা জরুরী এবং কোন কোন দিকে এই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দুনিয়াবী জ্ঞান অর্জন করা অবশ্যই জায়েজ, বরং প্রয়োজনের জন্য উপকারী দুনিয়াবী জ্ঞান [যেমন লেখাপড়া, বৈজ্ঞানিক গবেষণা] চর্চা করা উত্তম। তবে এর আগে অবশ্যই আমাদেরকে প্রয়োজনীয় ইসলামী জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
.
যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করার জন্য পথ অতিক্রম করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে যাবার পথ সহজ করে দেন। আর ফেরেশতারা তালিবে ইলমদের(জ্ঞান অর্জনরত ছাত্রদের) জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে এমনকি পানির মাছও আলিমের মাগফিরাতের জন্য দু’আ করে। আর আবিদের (ইবাদতকারীর) ওপর আলিমের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে সমগ্র তারকামণ্ডলীর ওপর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো। অবশ্য আলিমগণ হচ্ছেন, নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীগণ তাঁদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে দিরহাম ও দীনার রেখে যান না। তাঁদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ইলম (জ্ঞান) রেখে যান। কাজেই যে ব্যক্তি তা আহরণ করেছে সে পুরো অংশই লাভ করেছে।
[আবু দাউদ ও তিরমিজী; রিয়াদুস সলিহীন, বই ১৩, ইলম-জ্ঞান-প্রজ্ঞার মর্যাদা ও গুরুত্ব অধ্যায়, হাদিস ১৩৮৮]
.
“ দৃষ্টিবান আর দৃষ্টিহীন সমান নয়।সমান নয় অন্ধকার ও আলো। সমান নয় ছায়া ও তপ্তরোদ।আরও সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ শ্রবণ করান যাকে ইচ্ছা। তুমি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নও।তুমি তো কেবল একজন সতর্ককারী। আমি তোমাকে[মুহাম্মাদ(ﷺ)] সত্য ধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি। তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যারোপ করে—তাদের পূর্ববর্তীরাও তো মিথ্যারোপ করেছিল। তাদের কাছে তাদের রাসুলগণ স্পষ্ট নিদর্শন, সহীফা এবং উজ্জল কিতাবসহ এসেছিলেন।অতঃপর আমি অবিশ্বাসীদের পাকড়াও করেছিলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি!
তুমি কি দেখোনি, আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টিবর্ষণ করেন, অতঃপর এর দ্বারা আমি বিভিন্ন বর্ণের ফল-মূল উদগত করি। পর্বতসমূহের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বর্ণের গিরিপথ-সাদা, লাল ও নিকষ কালো।অনুরূপভাবে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ, জন্তু, চতুস্পদ প্রাণী রয়েছে।
আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।“
(কুরআন, ফাতির ৩৫:১৯-২৮)
Subscribe to:
Posts (Atom)