------------- লূত্ব আঃ এর সম্প্রদায় ও বর্তমান জাহিলিয়্যাত -------------
#লূত্ব_আঃ_এর_সম্প্রদায়
মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেনঃ
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْعَالَمِينَ ** إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ** ----
আমি লূত্বকেও পাঠিয়েছিলাম, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা এমন কুকর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি। তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে পুরুষের নিকট গমন কর .........। (সূরাঃ আ’রাফ, আয়াতঃ৮০-৮১)
এই সম্প্রদায়ের মূল অপরাধ ছিল ২টি ---
এক, তাউহিদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করা। দুই, সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
‘সমকামিতা’ ছিল এমন এক জঘন্য অপরাধ, এ সম্প্রদায়ের পূর্বে বিশ্ব জগতের কেউ যে অপরাধে লিপ্ত হয়নি। যেমনটি কুরআন বলছে – ‘তোমরা এমন কুকর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি।’
লূত্ব আঃ তাঁর সম্প্রদায়কে বারণ করলেন, তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল না। তাঁর নিষেধ মানল না। যার ফলে আল্লাহ্ তায়ালার শাস্তির উপযুক্ত হল। আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে শাস্তি দিলেন।
কি ছিল সেই শাস্তি –
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ (82) مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ
“অতঃপর যখন আমার ফরমান জারি হলো তখন ভূ-খন্ডটির উপরিভাগকে নিচু করে দিলাম এবং ওর উপর ঝামা পাথর বর্ষণ করতে লাগলাম, যা ছিলো একাধারে এবং যা বিশেষভাবে চিহ্নিত ছিলো তোমার প্রভূর ভান্ডারে। আর উক্ত জনপদটি এ যালিমদের থেকে বেশি দূরে নয়”। (হূদঃ ৮২-৮৩)
কতইনা ভয়ানক ছিল সেই শাস্তি।!!! পুরো সম্প্রদায়কে জমিন সহ উল্টিয়ে দেয়া, তাঁর উপর একাধারে ঝামা পাথর বর্ষণ। অপরাধ ছিল, তাউহিদকে না মানা। সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
#বর্তমান_জাহিলিয়্যাত
আমরা এক নব্য জাহিলিয়্যাতের মধ্য দিয়ে সময় পার করছি। এমন এক জাহিলিয়্যাহ, ইতিহাসে যার কোন দৃষ্টান্ত নেই। পূর্বের উম্মতদের অনেক জাহিলী সমাজকে আল্লাহ্ তায়ালা নিঃশেষ করে দিয়েছেন। এই সকল জাহিলিয়্যাতের সমন্বয়ে সৃষ্ট আমাদের এই অত্যাধুনিক (!) জাহিলিয়্যাত।
আমরা এই জাহিলী সমাজের একটা অপকর্ম নিয়ে আলোচনা করি -
লূত্ব এর সম্প্রদায় ছিল এক জাহিলিয়্যাতের মধ্যে। নব আবিষ্কৃত যে অপকর্মের মধ্যে তারা লিপ্ত ছিল, তা হচ্ছে সমকামিতা। আচ্ছা! বর্তমান সমাজে কি এই অপকর্মটি বিদ্যমান নেই?! হ্যাঁ আছে।
তবে নব্য জাহিলিয়্যাত এই অপকর্মের মধ্যে যে আধুনিকায়ন করেছে, তা হচ্ছে, তাদের সমকামিতা ছিল শুধু পুরুষ-পুরুষ। কিন্তু এই নব্য জাহিলিয়্যাত এটাকে মেয়ে-মেয়ে গণ্ডিতে উন্নতি (!) করেছে। তাদের মাঝে সমকামিতা ছিল, কিন্তু পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এমন কোন দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু এই জাহিলিয়্যাতের মধ্যে পুরুষ-পুরুষ, নারী-নারী বিবাহকে রাষ্ট্রীয় ভাবে বৈধতা প্রদান করা হয়েছে। এই হচ্ছে আধুনিক জাহিলিয়্যাত।
#তবে_প্রশ্ন_জাগে –
এত জঘন্য পর্যায়ে পৌঁছার পরও কেন আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে ধ্বংস করছেন না।? কেন তাদেরকে তল-উপর করে দিচ্ছেন না।? কেনইবা তাদের উপর ঝামা পাথর বর্ষণ করছেন না।? অথচ এরা তাদের চেয়ে হাজারগুণ বেশী সীমালঙ্ঘন করেছে।
এর উত্তর আল্লাহ্ তায়ালা দিচ্ছেনঃ-
قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ ............
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। আল্লাহ্ তায়ালা তোমাদের হাত দিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেবেন ...। (সূরাঃ তাওবা,আয়াতঃ ১৪)
এরা আল্লাহ্ তায়ালার শাস্তির পূর্ণ উপযুক্ত হয়ে আছে। পূর্বের সম্প্রদায় সমূহকে আল্লাহ্ তায়ালা যে অপরাধ সমূহের ফলে ধ্বংস করেছেন, সেগুলোর এমন কোন ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া জাবেনা যাতে এদের বিচারণ ঘটেনি। কিন্তু ঐ সম্প্রদায় সমূহকে আল্লাহ্ তায়ালা ধ্বংস করেছেন, তার ফিরিশতাদের মাধ্যমে, আর এই আধুনিক জাহিলিয়্যাতকে ধ্বংসের দায়িত্ব দিয়েছেন আমাদের কাঁধে।
তাই আল্লাহ্ তায়ালার বান্দারা যদি এই সমস্ত সমকামী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, তাহলে আল্লাহ্ তায়লা তাদেরকে সাহায্য করবেন। তারা কোন ভাবেই আল্লাহ্ তায়ালার বান্দাদের সামনে টিকতে পারবে না। কেননা তারা তো শাস্তির উপযুক্ত হয়ে আছে।
আল্লাহ্ তায়ালা বলেন –
وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ
আর মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। (সূরাঃ রুম, আয়াতঃ ৪৭)
Saturday, August 6, 2016
প্রানপ্রিয় শ্রেষ্ঠ সুন্দর মানুষটি হলেন প্রপেট মুহাম্মাদ (সা:) ! আব্দুল্লাহ ও ইসাবেলার প্যারিসে ঘটে যাওয়া হৃদয় বিদারক গল্প অবল্মনে
১২ই জানুয়ারি ২০১৫, প্যারিস!!!
.
ক্লাসের ছোট ছেলে মেয়ে গুলোর হাতে একটা করে সাদা কাগজ দেয়া হয়েছে।
.
সবাই কাগজ পেয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্যে শিক্ষিকা ইসাবেলা, পুরো ক্লাসটা ঘুরে একবার দেখলেন, তারপর ধীর পায়ে সামনে এগোলেন। ব্ল্যাক বোর্ডের সামনে এসে দাঁড়িয়ে তিনি ছাত্র ছাত্রিদের উদ্দেশ্য করে বললেনঃ
"আশা করছি তোমরা সবাই গতকাল ‘প্লাস দো লা রেপুবলিক চত্বরের’ জঙ্গিবাদ বিরোধী সংহতি সমাবেশে যোগ দিয়েছিলে। আজকের ক্লাসে তাই তোমাদেরকে একটা নতুন এসাইনমেন্ট দিচ্ছি। আজকে তোমাদেরকে প্রফেট মোহাম্মাদকে আঁকতে হবে।
মনে কর, শার্লিহেবদোর আগামী সংখ্যার প্রথম পাতায় তোমাদের আঁকা প্রফেট মোহাম্মাদ এর এই ছবিটা ছাপা হবে, ঠিক আছে।"
.
ইসাবেলা এই বলে ঘড়ির দিকে তাকালেন। ছেলে মেয়েরা যার যার মত আঁকতে শুরু করেছে। শুধু শেষ বেঞ্চের কোনায় বসে থাকা ছেলেটা অপ্রস্তুতভাবে ইতি উতি তাকাচ্ছে ।
.
ইসাবেলা আড় চোখে ছেলেটিকে দেখল। তার এমন অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়ার কারণটা ইসাবেলা জানেন, কারন ছেলেটার নাম আব্দুল্লাহ।
.
.
আব্দুল্লাহ বড় বড় চোখ করে ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু একটা বলতে চায় সে,
ইসাবেলা প্রথমে দেখেও না দেখার ভান করল। কিন্তু কিছু পরে আব্দুল্লাহ হাত তুলল।
.
নাহ আজকে জঙ্গিবাদের পক্ষে কথা বলার সুযোগ কাউকেই দেয়া হবে না। ইসাবেলা আব্দুল্লাহকে হাত নামিয়ে নেয়ার ইশারা দিলেন এবং ছবি আকা শুরু করতে বললেন।
.
.
আব্দুল্লাহ বিমর্স মুখে মাথা নিচু করে রইল। এই ভাবে কেটে গেল অনেকটা সময় , এরপর চারিপাশে একবার চোখ বুলাল সে, তারপর দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে তার পেন্সিলের নিবটা ছোয়ালো কাগজে।
.
.
ম্যাডাম ইসাবেলা এতক্ষণ গম্ভীর মুখে লক্ষ করছিলেন আব্দুল্লাহকে। এখন তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন ।
.
প্রফেট মুহাম্মাদকে নিয়ে তোমাদের গোঁড়ামিকে আজ মাটির সাথে পিষে দেব , ভাবলেন ইসাবেলা। আর ঠিক তখনই ইসাবেলার অজান্তেই তার ঠোটের কোনে ভেসে উঠলো বিদ্রূপের তীর্যক হাসি।
.
.
.
২,
ক্লাস শেষ হয়েছে অনেক আগে। জমা পড়া এসাইনমেন্ট গুলো সামনে নিয়ে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে ইসাবেলা।
.
.
আব্দুল্লাহ কি এঁকেছে সেটা দেখার কৌতহল ধরে রাখা কঠিন। তবে ইসাবেলা ঠিক করে রেখেছে , আব্দুল্লাহ যেমনই আঁকুক না কেন হাইস্ট মার্কটা তাকেই দেয়া হবে এবং ক্লাসে সবার সামনে তার এই ছবির জন্যে তাকেই পুরস্কৃত করা হবে।
.
.
কফির কাপটা সরিয়ে রেখে জমা পড়া এসাইনমেন্ট গুলোর মধ্য থেকে ম্যাডাম আব্দুল্লাহর কাগজটা বের করল। আব্দুল্লাহর জমা দেয়া কাগজটায় চোখ পরতেই ইসাবেলার ভ্রু কুচকে গেল।
.
তার কাগজে কোন ছবি নেই । আছে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা একটা চিঠি।
.
.
ইসাবেলা গম্ভীর মুখে পড়তে শুরু করল।
.
.
প্রিয় প্রফেট (সাঃ)
.
আজকে আমাদের ক্লাসটিচার আমাদেরকে আপনার ছবি আঁকতে বলেছিল। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে আপনাকে আঁকতে চাচ্ছিলাম কিন্তু আঁকতে পারিনি , আমি তো আপনাকে কখনওই দেখিনি। তাই আমি আমার চোখ বন্ধ করে ফেললাম।
.
জানেন ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ), তখন আমি কি দেখলাম , আমি আমার মাকে আপনার জীবনী পড়ে ব্যকুল হয়ে কাঁদতে দেখলাম। বাবাকে দেখলাম সারা রাত আল্লাহর ইবাদাত করতে। আমার বড় বোনটাকে দেখলাম রাস্তা ঘাটে শত অপমানিত হওয়ার পরও হাশি মুখে নিকাব করতে। আমার মুসলমান বুন্ধুদেরকে দেখলাম আমাকে বুকে জড়িয়ে ক্ষমা চাইতে যদিও দোষটা হয়ত আমারি ছিল। আমি আজকে এই ছবি গুলোই আঁকতে চেয়েছিলাম।
.
এই অঞ্চলের মানুষ গুলো অদ্ভুত! এরা সব কিছুই দেখতে চায়, সবকিছুই এদের চোখের সামনে রাখতে চায়।
.
তাই আমি আমার চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলাম, আর আমি দেখেছিলাম আপনি মুচকি হেসে আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। আমাদের সবার দিকে এগিয়ে আসছেন। ইয়া রাসুলাল্লাহ পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর সব থেকে নিখুঁত আপনার সেই হাশি। আমি কি করে এত নিখুঁত এত সুন্দর হাশিটাকে এই কাগজে আঁকব ?
.
.
আমি আমার টিচারকে এগুলো সবই বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে ক্লাসে কোণ কথা বলতে দেয় নি।
.
অবশ্য এখানে হয়ত তার কোণ দোষ নেই। সে হয়ত কখনও কাউকে না দেখে ভালো বাসতেই শেখেনি।
.
কাউকে না দেখেও যে ভালোবাসা যায় সেটা হয়ত এরা কখনও বুঝবেই না। কিন্তু আমি , আমি আপনাকে ভালোবাসি । অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। কখনও না দেখেই ভালোবাসি।
.
.
আমি খুব ভালো ছবি আঁকতে পারি না। কিন্তু আমি লিখতে পারি। আর তাই আমি আপনার কাছে এই চিঠিটা লিখলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ(সাঃ),
.
.
যদি আপনি আমাদের মাঝে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক সেকেন্ড বা এক মুহুর্তের জন্যেও ফিরে আসতেন, তাহলে তারা ঠিকই বুঝতে পারত, আপনাকে আমরা কেন এতটা ভালোবাসি।
.
.
আব্দুল্লাহ।
১২ জানুয়ারি প্যারিস।
.
.
ইসাবেলা আব্দুল্লাহর লেখা চিঠিটা হাতে নিয়ে বসে আছে, আর কারও এসাইনমেন্ট আর চেক করতে ইচ্ছা করছে না। সরিয়ে রাখা কফিটাও ঠাণ্ডা হচ্ছে। হোক , ইসাবেলার কিছুই যায় আসে না।
.
.
.
.
[বিঃদ্রঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে নিয়ে তৈরি করা একটা শর্টফিল্ম চোখে পড়েছিল ফেইসবুকে। যতবার দেখেছি ততবার চোখ ভিজে গিয়েছে , কিন্তু শেয়ার করতে পারছিলাম না তাই সেই শর্ট ফিল্মটার বিষয় বস্তু নিয়েই এই গল্পটা লিখেছিলাম। সেই লেখাটা আবারও চোখে পরলো ... জানি হয়ত পুরোই ছাইপাঁশ হয়েছে... তাতে কি...
.
.
.
.
আল্লাহ্ আমাদেরকে প্রকৃত ইমান দান করুক । আল্লাহ্ এবং তার রাসুল (সাঃ) কে আমাদের জীবনের চেয়েও অধিক ভালোবাসার তৌফিক দেক... আমিন ]
.
ক্লাসের ছোট ছেলে মেয়ে গুলোর হাতে একটা করে সাদা কাগজ দেয়া হয়েছে।
.
সবাই কাগজ পেয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্যে শিক্ষিকা ইসাবেলা, পুরো ক্লাসটা ঘুরে একবার দেখলেন, তারপর ধীর পায়ে সামনে এগোলেন। ব্ল্যাক বোর্ডের সামনে এসে দাঁড়িয়ে তিনি ছাত্র ছাত্রিদের উদ্দেশ্য করে বললেনঃ
"আশা করছি তোমরা সবাই গতকাল ‘প্লাস দো লা রেপুবলিক চত্বরের’ জঙ্গিবাদ বিরোধী সংহতি সমাবেশে যোগ দিয়েছিলে। আজকের ক্লাসে তাই তোমাদেরকে একটা নতুন এসাইনমেন্ট দিচ্ছি। আজকে তোমাদেরকে প্রফেট মোহাম্মাদকে আঁকতে হবে।
মনে কর, শার্লিহেবদোর আগামী সংখ্যার প্রথম পাতায় তোমাদের আঁকা প্রফেট মোহাম্মাদ এর এই ছবিটা ছাপা হবে, ঠিক আছে।"
.
ইসাবেলা এই বলে ঘড়ির দিকে তাকালেন। ছেলে মেয়েরা যার যার মত আঁকতে শুরু করেছে। শুধু শেষ বেঞ্চের কোনায় বসে থাকা ছেলেটা অপ্রস্তুতভাবে ইতি উতি তাকাচ্ছে ।
.
ইসাবেলা আড় চোখে ছেলেটিকে দেখল। তার এমন অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়ার কারণটা ইসাবেলা জানেন, কারন ছেলেটার নাম আব্দুল্লাহ।
.
.
আব্দুল্লাহ বড় বড় চোখ করে ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু একটা বলতে চায় সে,
ইসাবেলা প্রথমে দেখেও না দেখার ভান করল। কিন্তু কিছু পরে আব্দুল্লাহ হাত তুলল।
.
নাহ আজকে জঙ্গিবাদের পক্ষে কথা বলার সুযোগ কাউকেই দেয়া হবে না। ইসাবেলা আব্দুল্লাহকে হাত নামিয়ে নেয়ার ইশারা দিলেন এবং ছবি আকা শুরু করতে বললেন।
.
.
আব্দুল্লাহ বিমর্স মুখে মাথা নিচু করে রইল। এই ভাবে কেটে গেল অনেকটা সময় , এরপর চারিপাশে একবার চোখ বুলাল সে, তারপর দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে তার পেন্সিলের নিবটা ছোয়ালো কাগজে।
.
.
ম্যাডাম ইসাবেলা এতক্ষণ গম্ভীর মুখে লক্ষ করছিলেন আব্দুল্লাহকে। এখন তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন ।
.
প্রফেট মুহাম্মাদকে নিয়ে তোমাদের গোঁড়ামিকে আজ মাটির সাথে পিষে দেব , ভাবলেন ইসাবেলা। আর ঠিক তখনই ইসাবেলার অজান্তেই তার ঠোটের কোনে ভেসে উঠলো বিদ্রূপের তীর্যক হাসি।
.
.
.
২,
ক্লাস শেষ হয়েছে অনেক আগে। জমা পড়া এসাইনমেন্ট গুলো সামনে নিয়ে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে ইসাবেলা।
.
.
আব্দুল্লাহ কি এঁকেছে সেটা দেখার কৌতহল ধরে রাখা কঠিন। তবে ইসাবেলা ঠিক করে রেখেছে , আব্দুল্লাহ যেমনই আঁকুক না কেন হাইস্ট মার্কটা তাকেই দেয়া হবে এবং ক্লাসে সবার সামনে তার এই ছবির জন্যে তাকেই পুরস্কৃত করা হবে।
.
.
কফির কাপটা সরিয়ে রেখে জমা পড়া এসাইনমেন্ট গুলোর মধ্য থেকে ম্যাডাম আব্দুল্লাহর কাগজটা বের করল। আব্দুল্লাহর জমা দেয়া কাগজটায় চোখ পরতেই ইসাবেলার ভ্রু কুচকে গেল।
.
তার কাগজে কোন ছবি নেই । আছে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা একটা চিঠি।
.
.
ইসাবেলা গম্ভীর মুখে পড়তে শুরু করল।
.
.
প্রিয় প্রফেট (সাঃ)
.
আজকে আমাদের ক্লাসটিচার আমাদেরকে আপনার ছবি আঁকতে বলেছিল। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে আপনাকে আঁকতে চাচ্ছিলাম কিন্তু আঁকতে পারিনি , আমি তো আপনাকে কখনওই দেখিনি। তাই আমি আমার চোখ বন্ধ করে ফেললাম।
.
জানেন ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ), তখন আমি কি দেখলাম , আমি আমার মাকে আপনার জীবনী পড়ে ব্যকুল হয়ে কাঁদতে দেখলাম। বাবাকে দেখলাম সারা রাত আল্লাহর ইবাদাত করতে। আমার বড় বোনটাকে দেখলাম রাস্তা ঘাটে শত অপমানিত হওয়ার পরও হাশি মুখে নিকাব করতে। আমার মুসলমান বুন্ধুদেরকে দেখলাম আমাকে বুকে জড়িয়ে ক্ষমা চাইতে যদিও দোষটা হয়ত আমারি ছিল। আমি আজকে এই ছবি গুলোই আঁকতে চেয়েছিলাম।
.
এই অঞ্চলের মানুষ গুলো অদ্ভুত! এরা সব কিছুই দেখতে চায়, সবকিছুই এদের চোখের সামনে রাখতে চায়।
.
তাই আমি আমার চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলাম, আর আমি দেখেছিলাম আপনি মুচকি হেসে আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। আমাদের সবার দিকে এগিয়ে আসছেন। ইয়া রাসুলাল্লাহ পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর সব থেকে নিখুঁত আপনার সেই হাশি। আমি কি করে এত নিখুঁত এত সুন্দর হাশিটাকে এই কাগজে আঁকব ?
.
.
আমি আমার টিচারকে এগুলো সবই বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে ক্লাসে কোণ কথা বলতে দেয় নি।
.
অবশ্য এখানে হয়ত তার কোণ দোষ নেই। সে হয়ত কখনও কাউকে না দেখে ভালো বাসতেই শেখেনি।
.
কাউকে না দেখেও যে ভালোবাসা যায় সেটা হয়ত এরা কখনও বুঝবেই না। কিন্তু আমি , আমি আপনাকে ভালোবাসি । অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। কখনও না দেখেই ভালোবাসি।
.
.
আমি খুব ভালো ছবি আঁকতে পারি না। কিন্তু আমি লিখতে পারি। আর তাই আমি আপনার কাছে এই চিঠিটা লিখলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ(সাঃ),
.
.
যদি আপনি আমাদের মাঝে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক সেকেন্ড বা এক মুহুর্তের জন্যেও ফিরে আসতেন, তাহলে তারা ঠিকই বুঝতে পারত, আপনাকে আমরা কেন এতটা ভালোবাসি।
.
.
আব্দুল্লাহ।
১২ জানুয়ারি প্যারিস।
.
.
ইসাবেলা আব্দুল্লাহর লেখা চিঠিটা হাতে নিয়ে বসে আছে, আর কারও এসাইনমেন্ট আর চেক করতে ইচ্ছা করছে না। সরিয়ে রাখা কফিটাও ঠাণ্ডা হচ্ছে। হোক , ইসাবেলার কিছুই যায় আসে না।
.
.
.
.
[বিঃদ্রঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে নিয়ে তৈরি করা একটা শর্টফিল্ম চোখে পড়েছিল ফেইসবুকে। যতবার দেখেছি ততবার চোখ ভিজে গিয়েছে , কিন্তু শেয়ার করতে পারছিলাম না তাই সেই শর্ট ফিল্মটার বিষয় বস্তু নিয়েই এই গল্পটা লিখেছিলাম। সেই লেখাটা আবারও চোখে পরলো ... জানি হয়ত পুরোই ছাইপাঁশ হয়েছে... তাতে কি...
.
.
.
.
আল্লাহ্ আমাদেরকে প্রকৃত ইমান দান করুক । আল্লাহ্ এবং তার রাসুল (সাঃ) কে আমাদের জীবনের চেয়েও অধিক ভালোবাসার তৌফিক দেক... আমিন ]
Friday, August 5, 2016
কট্টর হিন্দু থেকে মুসলিম ধর্মে ফেরা একজন নওমুসলিম !
***** লেখাটি বেশ বড়, তাও সবাই কে পড়ার অনুরোধ করছি, কি কারণে আমার মত একজন উগ্র হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলো*******
আমায় অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন যে, আব্দুল্লাহ ভাই কি জন্যে আপনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন?
যেখানে ইসলাম ধর্ম কে মানুষ এত ভুল বোঝে আবার কেউ কেউ ইসলাম ধর্ম কে টেরোরিস্ট এর ধর্ম বলে।
আজ আমি তাদের আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এর কারণ বলতে চাই, তবে তার আগে যখন আমি বুধাদিত্য গাংুলী ছিলাম তখন আমি কেমন ছিলাম তা বলতে চাই।
------------------------------------------------------------------------------------
সত্যি বলতে আমি একদা খুব উগ্র / বখাটে / স্বেচ্ছাচারী / চন্ডাল প্রকৃতির আর মারাত্মক বদ মেজাজী ছিলাম।
আমার রাগ উঠলে কোন জ্ঞান থাকতোই না, আর রাগ কে দমানোর জন্য আমি অনেক বার দেওয়ালে নিজের মাথা ঠুকেছি আমার অনেকবার হাত এর কাছে যা পেয়েছি তাই ভেংে দিয়েছিলাম।
আর বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরতে গেলে মদ পান ও করতাম আবার সিগারেট ও খেয়েছি।
তবে মজার বিশয় আমি আমার অতীত জীবনে স্বেচ্ছাচারী হলেও/ মদ্যপ হলে আমার চরিত্র তখনও আর আজও কোন দাগ বা কালী লাগেনি বা লাগাতে দিওনি।
কেন না আমি বরাবর আমার মা কে ভালবাসতাম।
আর তাই আমার মাথাই এই বিষয়টা ইন্সটল করা ছিল, যদি আমি কোন মেয়ের সাথে কোন অশ্লীল কাজ করি, মানে সেক্স / শারীরিক সম্পর্ক বা অন্য কিছু, তখন আমি ইন্ডায়েরেক্টলি আমি আমার মা কো অসন্মান করবো। কেন না একটা যুবতীর শরীরে যে যে অরগান আছে ঠিক সেই রকম আমার মায়ের শরীরেও সেই সেই অরগান আছে, তাই আমার চরিত্র এর মধ্যে কোন দিন আচড় লাগতে দেইনি আর ইনশাল্লাহ দেবোও না।
যাই হোক,
এটাও বলে রাখি, আমি একদা মারাত্মক কট্টর ইসলাম বিরোধী ও ছিলাম অথবা আমি ছুপা আর এস এস ও ভি এইচ পি এর সমর্থক ও ছিলাম।
আর তাই আমার অতীত জীবনে অনেক বার ইসলাম কে গাল মন্দ করেছি ( যার জন্য নিজেকে আমার খুব অপরাধী আজও মনে হয়)।
আসলে যারা ইসলাম বিদ্বেষী তাদের মাথায় ইঞ্জেক্ট করা হয় আল কুরআন মানেই সন্ত্রাসবাদ এর পুস্তক আর ইসলাম মানেই সন্ত্রাসবাদী। তাই হয়তো আমিও আগে ইসলাম বিদ্বেষী ছিলাম।
এইবার আমায় আমার জব এর জন্য কলকাতা থেকে মুম্বাই পাঠানো হলো সেটা ২০১০ সাল এর ঘটনা।
তা আমি মুম্বাই তে এলাম। এবার আমার যে রুম মেট ছিল তার নাম সার্ফারাজ সিদ্দীকি। তা আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম, যে আমার রুম মেট কেন মুসলিম হবে, ওকে আমি আমার রুমে রাখবো না। তারপর আমার তৎকালীন বস তা শোনেন নি।
তাই বাধ্য হয়েই সার্ফারাজ সিদ্দীকি কে আমি আমার রুম মেট করি।
কিন্তু সার্ফারাজ এর উপরে অনেক অত্যাচার করেছিলাম আমি, আমি ইচ্ছাকৃত ভুল কাজ করে সার্ফারাজএর ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছিলাম / আবার সার্ফারাজ কে মারতেও গিয়েছিলাম বলা বাহুল্য ওকে খুন করতেও আমি পিছু পা হটিনি।
কারণ যারা উগ্র হিন্দু তাদের এই ভাবে ব্রেণ ওয়াস করা হয়, আরশোলা দেখলে কি করা উচিত?
উত্তর, পা দিয়ে পিষে মারা উচিত,
তাহলে মুসলিম দের দেখলে কি করা উচিত?
উত্তর:- হত্যা করা উচিত।
তাই সার্ফারাজ সিদ্দীকি কে আমি মারতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি কেন না, সেই সময়ে আমি যাকে বিশ্বাস ও ঘেন্না করতাম আল্লাহ কে ( নাউজুবিল্লা) তিনি সার্ফারাজ কে ভাচিয়ে দিয়েছিলেন।
তবে আমি সার্ফারাজ এর মধ্যে একটা জিনিস নোটিস করতাম, র এতো ক্ষতি করার চেষ্ঠা করেছি ও কেন আমার প্রতি রিভেঞ্জ নিতো না?
এই প্রশ্ন এর উত্তর টা যে এতো পবিত্র ময় তা হল, কেবল মাত্র যুদ্ধ ক্ষেত্র ছাড়া ইসলাম টিট ফর ট্যাট পন্থা অবলম্বণ করে না।
কিন্তু যখন আমি উগ্র হিন্দু ছিলাম তখন এই জিনিস টা জানতাম না।
তা যাই হোক , আমি সর্বদা নোটিস করতাম যে, সার্ফারাজ কে এএতো বাজে ভাবে ফাসাতাম ও ওর ক্ষতি করার জন্য প্রাণ পণ চেষ্ঠা করতাম কেন ও তার রিভেঞ্জ নিতো না আর কেন ও খালি হাসতো আর আমার সাথে এতো ভাল ব্যবহার করতো?
আমি ভাবলাম এর পেছনে কোন রহস্য নেই তো।
তা এর মধ্যে আমার জন্মদিন এলো, সার্ফারাজ আমায় একটা গিফট দিলো ,আমি টিটকেরী মেরে বললাম, কি রে আর ডি এক্স দিলি নাকি ?
ও বললো খুলেই দেখো না!!
আমি দেখলাম আমায় ও, সামারি অফ আল কুরআন দিয়েছে।
তখন আমি এতো রেগে গেলাম আমি সেই বই টা ছুড়ে ফেললাম আর সার্ফারাজ কে খুব খুব অপমান করলাম।
( নাউজুবিল্লা).
আর সেই দিন সার্ফারাজ কে আমি রুমে ঢুকতে দেইনি আর তাই ও সেইদিন সারা রাত বাইরে থাকে।
আর পরের দিন সেই এক উপহার ও আমায় দিলো।
আর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, যে তুমি ( আমি) ঠিক বলেছো, ইসলাম সন্ত্রাস বাদ এর ধর্ম তাই একবার হলেও এই বইটা পড়ো।
আর ওর কথা শুনে মনে মনে ভাবি শালা মিষ্ঠি কথা বলে আমায় পটাতে এসেছে (উগ্র হিন্দু দের এটাও মাথায় ইঞ্জেক্ট করা হয়, যে মুসলিম রা খুব মিষ্ঠি কথা বলে আমাদের ম্যানেজ করবে).
কিন্তু আমি তখন সেই বই টা মানে আল কুরান এর সারাংশ পড়ি, কিন্তু আমার উদ্দ্যেশ্য অন্য ছিল, যে আমি এই কিতাব পড়ে এটাই মার্কিং করবো যে হ্যা ,ইসলাম টেরোরিস্ট এর ধর্ম।
তাই আমি সেই পড়তে করি।
কিতাব টা পাতলা ছিল মানে ৪০ পেজ এর।
বিশ্বাস করবেন না , ওই কিতাব টা পড়তে পড়তে আমর মনে হচ্ছিল আমার শরীর থেকে প্রাণ বেড়িয়ে যাচ্ছে, মানে এতো দিন ইসলাম কে নিয়ে যে ভাবে আমাদের ব্রেণ ওয়াস করা হয়েছিল, ইসলাম ধর্ম একেবারেই তার বিপরীত।
তখন সে সময়ে আমি অনুশোচনায় কাদতে কাদতে প্রায় অজ্ঞান এর মত হয়ে যাই।
আর শুনেছিলাম সার্ফারাজ তখন আমায় সুস্থ করে তোলে, আর আমার যখন জ্ঞান ফেরে অনেক নিজেকে হাল্কা লাগছিল, তখন সার্ফারাজ বললো ,তুমি চাইলে আরো কাদো, কেন যত বেশি আমি কাদবো ভেতর এর শয়তান বের হয়ে আসবে।
এট শুনে আমি নিজেকে আর অপরাধী ভাবলাম,, আর আরো মানষিক ভাবে আহত হলাম।
এরপরে সার্ফারাজ কে বলি এবার আলকুরআন ও হাদিশ পড়তে চাই, ও বললো না, সবার আগে নবী সা: কে পড়ো সেটা এই মুহুর্তে খুব প্রয়োজন আমার।
আমি রাজি রাজি হলাম আর তাই করলাম।
আর সেই সময়ে যত ইসলাম কে জানছি ও বুঝছি নিজেকে ততোটা অপরাধী মনে হচ্ছিল, তারপর ইসলাম ধর্ম নিবো সেটা সার্ফারাজ কে বলি ।
সার্ফারাজ বলে একদম না, কেন না তুমি এখন অনুশোচনা এর রুগী তাই আবেগে ইসলাম নিতে চাইছো।
কিন্তু ইসলাম অনেক অনেক বড় বিশয় এখানে আবেগ র স্থান আআর প্রকৃত মুসলিম হতে গেলে আগে বেদ বা উপনিষদ পড় তার পড়ে আলকুরান ও হাদিস পড়ো।
তারপরে যেটা ভালো বুঝবে তাই করবে,
তারপর আমি ওর কমমত কাজ করি, তবে বেদ ও উপনিষদ এর সারাংশ পড়ি তারপর আল কুরআন পড়ি আর মিথ্য বলবো না হাদিস পড়ার মত জ্ঞান আমার নেই তাই ইমাম সাহেব থেকে হাদিস এর মূখ্য বিশয় গুলি পড়ি।
তবে এখন হাদিস পড়ছি আল্লাহ এর রহমতে।
তা এই ভাবেই আমার মন টা উগ্র হিন্দু থেকে ইসলামিক হয়ে গেল।
বলতে নেই, আল্লাহ্ এর রহ মতে আজ অনেক প্রাণ রক্ষা কারী দুয়া ও সাধারণ দুয়া শিখেছি ও নামাজ ও পাঠ করি এবং আজকাল রাত্রে আর ঘুম আসে না, তখন তাহাজ্জুত এর নামাজ পড়ি আর আল্লাহ্ এর থেকে অনেক ব্যক্তিগত সাহায্য ভিক্ষা করি।
বি:দ্র: এই পোস্ট এর আমার অতীত জীবন এর কিছু কিছু অংশ পাঠক বা পাঠিকা দের রাগ উঠতে পারে, তাই দয়া করে আমায় মাফ করে দেবেন, কেন না উমর কে আল্লাহ যদি মাফ করতে পারেন, আমাকে ও আশা করি আপনারা ক্ষমা করে দেবেন।
আর শেষ কথা, আমাকে বিচার করবেন আমার বর্তমান নাম,
মহম্মদ আব্দুল্লাহ কে দিয়ে আমাকে আমার পুর্ব নাম বুধাদিত্য কে দিয়ে বিচার করবেন না।
এতো বড় লেখাটি পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
from fb collected
আমায় অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন যে, আব্দুল্লাহ ভাই কি জন্যে আপনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন?
যেখানে ইসলাম ধর্ম কে মানুষ এত ভুল বোঝে আবার কেউ কেউ ইসলাম ধর্ম কে টেরোরিস্ট এর ধর্ম বলে।
আজ আমি তাদের আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এর কারণ বলতে চাই, তবে তার আগে যখন আমি বুধাদিত্য গাংুলী ছিলাম তখন আমি কেমন ছিলাম তা বলতে চাই।
------------------------------------------------------------------------------------
সত্যি বলতে আমি একদা খুব উগ্র / বখাটে / স্বেচ্ছাচারী / চন্ডাল প্রকৃতির আর মারাত্মক বদ মেজাজী ছিলাম।
আমার রাগ উঠলে কোন জ্ঞান থাকতোই না, আর রাগ কে দমানোর জন্য আমি অনেক বার দেওয়ালে নিজের মাথা ঠুকেছি আমার অনেকবার হাত এর কাছে যা পেয়েছি তাই ভেংে দিয়েছিলাম।
আর বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরতে গেলে মদ পান ও করতাম আবার সিগারেট ও খেয়েছি।
তবে মজার বিশয় আমি আমার অতীত জীবনে স্বেচ্ছাচারী হলেও/ মদ্যপ হলে আমার চরিত্র তখনও আর আজও কোন দাগ বা কালী লাগেনি বা লাগাতে দিওনি।
কেন না আমি বরাবর আমার মা কে ভালবাসতাম।
আর তাই আমার মাথাই এই বিষয়টা ইন্সটল করা ছিল, যদি আমি কোন মেয়ের সাথে কোন অশ্লীল কাজ করি, মানে সেক্স / শারীরিক সম্পর্ক বা অন্য কিছু, তখন আমি ইন্ডায়েরেক্টলি আমি আমার মা কো অসন্মান করবো। কেন না একটা যুবতীর শরীরে যে যে অরগান আছে ঠিক সেই রকম আমার মায়ের শরীরেও সেই সেই অরগান আছে, তাই আমার চরিত্র এর মধ্যে কোন দিন আচড় লাগতে দেইনি আর ইনশাল্লাহ দেবোও না।
যাই হোক,
এটাও বলে রাখি, আমি একদা মারাত্মক কট্টর ইসলাম বিরোধী ও ছিলাম অথবা আমি ছুপা আর এস এস ও ভি এইচ পি এর সমর্থক ও ছিলাম।
আর তাই আমার অতীত জীবনে অনেক বার ইসলাম কে গাল মন্দ করেছি ( যার জন্য নিজেকে আমার খুব অপরাধী আজও মনে হয়)।
আসলে যারা ইসলাম বিদ্বেষী তাদের মাথায় ইঞ্জেক্ট করা হয় আল কুরআন মানেই সন্ত্রাসবাদ এর পুস্তক আর ইসলাম মানেই সন্ত্রাসবাদী। তাই হয়তো আমিও আগে ইসলাম বিদ্বেষী ছিলাম।
এইবার আমায় আমার জব এর জন্য কলকাতা থেকে মুম্বাই পাঠানো হলো সেটা ২০১০ সাল এর ঘটনা।
তা আমি মুম্বাই তে এলাম। এবার আমার যে রুম মেট ছিল তার নাম সার্ফারাজ সিদ্দীকি। তা আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম, যে আমার রুম মেট কেন মুসলিম হবে, ওকে আমি আমার রুমে রাখবো না। তারপর আমার তৎকালীন বস তা শোনেন নি।
তাই বাধ্য হয়েই সার্ফারাজ সিদ্দীকি কে আমি আমার রুম মেট করি।
কিন্তু সার্ফারাজ এর উপরে অনেক অত্যাচার করেছিলাম আমি, আমি ইচ্ছাকৃত ভুল কাজ করে সার্ফারাজএর ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছিলাম / আবার সার্ফারাজ কে মারতেও গিয়েছিলাম বলা বাহুল্য ওকে খুন করতেও আমি পিছু পা হটিনি।
কারণ যারা উগ্র হিন্দু তাদের এই ভাবে ব্রেণ ওয়াস করা হয়, আরশোলা দেখলে কি করা উচিত?
উত্তর, পা দিয়ে পিষে মারা উচিত,
তাহলে মুসলিম দের দেখলে কি করা উচিত?
উত্তর:- হত্যা করা উচিত।
তাই সার্ফারাজ সিদ্দীকি কে আমি মারতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি কেন না, সেই সময়ে আমি যাকে বিশ্বাস ও ঘেন্না করতাম আল্লাহ কে ( নাউজুবিল্লা) তিনি সার্ফারাজ কে ভাচিয়ে দিয়েছিলেন।
তবে আমি সার্ফারাজ এর মধ্যে একটা জিনিস নোটিস করতাম, র এতো ক্ষতি করার চেষ্ঠা করেছি ও কেন আমার প্রতি রিভেঞ্জ নিতো না?
এই প্রশ্ন এর উত্তর টা যে এতো পবিত্র ময় তা হল, কেবল মাত্র যুদ্ধ ক্ষেত্র ছাড়া ইসলাম টিট ফর ট্যাট পন্থা অবলম্বণ করে না।
কিন্তু যখন আমি উগ্র হিন্দু ছিলাম তখন এই জিনিস টা জানতাম না।
তা যাই হোক , আমি সর্বদা নোটিস করতাম যে, সার্ফারাজ কে এএতো বাজে ভাবে ফাসাতাম ও ওর ক্ষতি করার জন্য প্রাণ পণ চেষ্ঠা করতাম কেন ও তার রিভেঞ্জ নিতো না আর কেন ও খালি হাসতো আর আমার সাথে এতো ভাল ব্যবহার করতো?
আমি ভাবলাম এর পেছনে কোন রহস্য নেই তো।
তা এর মধ্যে আমার জন্মদিন এলো, সার্ফারাজ আমায় একটা গিফট দিলো ,আমি টিটকেরী মেরে বললাম, কি রে আর ডি এক্স দিলি নাকি ?
ও বললো খুলেই দেখো না!!
আমি দেখলাম আমায় ও, সামারি অফ আল কুরআন দিয়েছে।
তখন আমি এতো রেগে গেলাম আমি সেই বই টা ছুড়ে ফেললাম আর সার্ফারাজ কে খুব খুব অপমান করলাম।
( নাউজুবিল্লা).
আর সেই দিন সার্ফারাজ কে আমি রুমে ঢুকতে দেইনি আর তাই ও সেইদিন সারা রাত বাইরে থাকে।
আর পরের দিন সেই এক উপহার ও আমায় দিলো।
আর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, যে তুমি ( আমি) ঠিক বলেছো, ইসলাম সন্ত্রাস বাদ এর ধর্ম তাই একবার হলেও এই বইটা পড়ো।
আর ওর কথা শুনে মনে মনে ভাবি শালা মিষ্ঠি কথা বলে আমায় পটাতে এসেছে (উগ্র হিন্দু দের এটাও মাথায় ইঞ্জেক্ট করা হয়, যে মুসলিম রা খুব মিষ্ঠি কথা বলে আমাদের ম্যানেজ করবে).
কিন্তু আমি তখন সেই বই টা মানে আল কুরান এর সারাংশ পড়ি, কিন্তু আমার উদ্দ্যেশ্য অন্য ছিল, যে আমি এই কিতাব পড়ে এটাই মার্কিং করবো যে হ্যা ,ইসলাম টেরোরিস্ট এর ধর্ম।
তাই আমি সেই পড়তে করি।
কিতাব টা পাতলা ছিল মানে ৪০ পেজ এর।
বিশ্বাস করবেন না , ওই কিতাব টা পড়তে পড়তে আমর মনে হচ্ছিল আমার শরীর থেকে প্রাণ বেড়িয়ে যাচ্ছে, মানে এতো দিন ইসলাম কে নিয়ে যে ভাবে আমাদের ব্রেণ ওয়াস করা হয়েছিল, ইসলাম ধর্ম একেবারেই তার বিপরীত।
তখন সে সময়ে আমি অনুশোচনায় কাদতে কাদতে প্রায় অজ্ঞান এর মত হয়ে যাই।
আর শুনেছিলাম সার্ফারাজ তখন আমায় সুস্থ করে তোলে, আর আমার যখন জ্ঞান ফেরে অনেক নিজেকে হাল্কা লাগছিল, তখন সার্ফারাজ বললো ,তুমি চাইলে আরো কাদো, কেন যত বেশি আমি কাদবো ভেতর এর শয়তান বের হয়ে আসবে।
এট শুনে আমি নিজেকে আর অপরাধী ভাবলাম,, আর আরো মানষিক ভাবে আহত হলাম।
এরপরে সার্ফারাজ কে বলি এবার আলকুরআন ও হাদিশ পড়তে চাই, ও বললো না, সবার আগে নবী সা: কে পড়ো সেটা এই মুহুর্তে খুব প্রয়োজন আমার।
আমি রাজি রাজি হলাম আর তাই করলাম।
আর সেই সময়ে যত ইসলাম কে জানছি ও বুঝছি নিজেকে ততোটা অপরাধী মনে হচ্ছিল, তারপর ইসলাম ধর্ম নিবো সেটা সার্ফারাজ কে বলি ।
সার্ফারাজ বলে একদম না, কেন না তুমি এখন অনুশোচনা এর রুগী তাই আবেগে ইসলাম নিতে চাইছো।
কিন্তু ইসলাম অনেক অনেক বড় বিশয় এখানে আবেগ র স্থান আআর প্রকৃত মুসলিম হতে গেলে আগে বেদ বা উপনিষদ পড় তার পড়ে আলকুরান ও হাদিস পড়ো।
তারপরে যেটা ভালো বুঝবে তাই করবে,
তারপর আমি ওর কমমত কাজ করি, তবে বেদ ও উপনিষদ এর সারাংশ পড়ি তারপর আল কুরআন পড়ি আর মিথ্য বলবো না হাদিস পড়ার মত জ্ঞান আমার নেই তাই ইমাম সাহেব থেকে হাদিস এর মূখ্য বিশয় গুলি পড়ি।
তবে এখন হাদিস পড়ছি আল্লাহ এর রহমতে।
তা এই ভাবেই আমার মন টা উগ্র হিন্দু থেকে ইসলামিক হয়ে গেল।
বলতে নেই, আল্লাহ্ এর রহ মতে আজ অনেক প্রাণ রক্ষা কারী দুয়া ও সাধারণ দুয়া শিখেছি ও নামাজ ও পাঠ করি এবং আজকাল রাত্রে আর ঘুম আসে না, তখন তাহাজ্জুত এর নামাজ পড়ি আর আল্লাহ্ এর থেকে অনেক ব্যক্তিগত সাহায্য ভিক্ষা করি।
বি:দ্র: এই পোস্ট এর আমার অতীত জীবন এর কিছু কিছু অংশ পাঠক বা পাঠিকা দের রাগ উঠতে পারে, তাই দয়া করে আমায় মাফ করে দেবেন, কেন না উমর কে আল্লাহ যদি মাফ করতে পারেন, আমাকে ও আশা করি আপনারা ক্ষমা করে দেবেন।
আর শেষ কথা, আমাকে বিচার করবেন আমার বর্তমান নাম,
মহম্মদ আব্দুল্লাহ কে দিয়ে আমাকে আমার পুর্ব নাম বুধাদিত্য কে দিয়ে বিচার করবেন না।
এতো বড় লেখাটি পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
from fb collected
ঘুমন্ত জাতি
আজকের দু'চরণঃ-
হে আমার স্বজাতির সূর্য সন্তানেরা!
ওঠো! ঘুম থেকে জেগে কর সূর্যস্নান
সুবহে সাদিক সে তো হয়েছে কখন!
নিদ্রাতে রবে বেহুশ আর কত কাল!
কুসুম সূর্য আজ মাথার উপর চলে
ক্রমে ক্রমে নিয়েছে সে দীপ্তি প্রখর!
সোনালী আভা ধরেছে অগ্নিবর্ণ রূপ
একটু একটু করে বেলা যে গড়ায়!
কত অসহায় নারী, বৃদ্ধ - যুবা, শিশুর
আর্তনাদেও তোমার ভাঙলো না ঘুম!
তারা চিরনিদ্রায় ডাকবে না আর কভু
মাটির কোলেতে তারা হয়েছে শয়ান।
হে আমার ঘুমন্ত জাতি! আজ জাগো
তোমার দুয়ারে আজ হিংস্র বন্যপশু
তান্ডব লয়ে ধ্বসে সত্য ও সুন্দর!
দু' বাহুর ঝড় তুলে ঢালো তার খুন।
হে আমার স্বজাতির সূর্য সন্তানেরা!
ওঠো! ঘুম থেকে জেগে কর সূর্যস্নান
সুবহে সাদিক সে তো হয়েছে কখন!
নিদ্রাতে রবে বেহুশ আর কত কাল!
কুসুম সূর্য আজ মাথার উপর চলে
ক্রমে ক্রমে নিয়েছে সে দীপ্তি প্রখর!
সোনালী আভা ধরেছে অগ্নিবর্ণ রূপ
একটু একটু করে বেলা যে গড়ায়!
কত অসহায় নারী, বৃদ্ধ - যুবা, শিশুর
আর্তনাদেও তোমার ভাঙলো না ঘুম!
তারা চিরনিদ্রায় ডাকবে না আর কভু
মাটির কোলেতে তারা হয়েছে শয়ান।
হে আমার ঘুমন্ত জাতি! আজ জাগো
তোমার দুয়ারে আজ হিংস্র বন্যপশু
তান্ডব লয়ে ধ্বসে সত্য ও সুন্দর!
দু' বাহুর ঝড় তুলে ঢালো তার খুন।
Subscribe to:
Posts (Atom)