Monday, May 30, 2016

আর্টিকেল

SOME ATYPICAL CRIMES AND THEIR PUNISHMENTS (ইসলামে কিছু শাস্তির প্রয়োগ)

SOME ATYPICAL CRIMES AND THEIR PUNISHMENTS (ইসলামে কিছু শাস্তির প্রয়োগ)

ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এটা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমি ইসলামী রাষ্ট্রের প্রকৃতি এবং শরীআতের দন্ডবিধি সম্পর্কে পূর্বের পর্বগুলোতে কিছুটা আভাস দিয়েছি। আজকে আমরা কিছু ATYPICAL CRIMES এর শাস্তি নিয়ে আলোচনা করবোঃ
১. সমকামিতা (HOMOSEXUALITY) :
সমকামের শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড অর্থাৎ তাকে হত্যা করা হবে। এ বিষয়ে কারো কোন সন্দেহ নেই।
আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেন-
“তোমরা যে ব্যক্তিকে লূতের কওমের মত সমকামে লিপ্ত পাবে সে ব্যক্তি ও তার সহকর্মীকে হত্যা করো।”
[আহমাদ, আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ]
এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হল উভয়কেই হত্যা করা হবে, হোক সে ACTIVE PARTNER কিংবা PASSIVE PARTNER. তবে কাউকে বল প্রয়োগে বাধ্য করা হলে ভিন্ন কথা।
রাসূল (সঃ) এর যুগে এধরনের কেস পাওয়া যায় নি, যার কারনে মৃত্যুদন্ডের পদ্ধতি নিয়ে দ্বিমত আছে। তবে মোটামোটিভাবে সকল আলেমই রজমের চেয়ে কষ্টদায়ক পদ্ধতিতে (এটলিস্ট রজমের মাধ্যমে) মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পক্ষপাতী।
অনুরূপভাবে নারীর মলদ্বার দিয়ে সঙ্গম করাটাও জঘন্য অপরাধ।
রাসূল (সঃ) বলেন-
“আল্লাহ কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির দিকে চেয়েও দেখবেন না, যে ব্যক্তি কোন পুরুষের মলদ্বারে বা কোন স্ত্রীর পায়খানা দ্বারে সঙ্গম করে।”
[তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, নাসাঈ]
দুটি নারীর সমকামিতা তথা লেসবিয়ানিজমের ক্ষেত্রেও অনুরূপ শাস্তি প্রযোজ্য।
২. পশুগমন (BESTIALITY) :
রাসূল (সঃ) বলেছেন-
“যে ব্যক্তিকে কোন পশুর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত পাবে সে ব্যক্তি ও ঐ পশুকে তোমরা হত্যা করো।”
[তিরমিযী, হাকেম]
৩. মাহরাম নারীদের সাথে যিনাঃ
অনেক আলেম এটাকে যিনা হিসেবেই গণ্য করেছেন এবং যিনার শাস্তিই প্রয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ আলেম এটাকে যিনার চেয়ে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখেছেন এবং শাস্তির মাত্রাও বৃদ্ধি করেছেন।
৪. আল্লাহর রাসূল (সঃ) কে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল কথা বলা বা কটূক্তি করাঃ
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) তাঁর ‘আস সারিমিল মাসলুল আলা শাতিমির রাসূল’ (অর্থাৎ রাসূলের সঃ বিদ্রূপকারীর জন্য  উন্মুক্ত তরবারী) গ্রন্থে প্রমাণ করেছেন যে এ জাতীয় কাজের শাস্তি হল মৃত্যুদন্ড আর এ ব্যাপারে উম্মাহর ইজমা প্রতিষ্ঠিত আছে। এবং তিনিসহ অনেক আলেম মনে করেন যে এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের এবং সরকার যদি তা বাস্তবায়ন না করে তাহলে এ দায়িত্ব জনগণের উপর বর্তাবে। এদিক এ অপরাধের শাস্তি একটা বিশেষ ধরনের শাস্তি বলেই প্রতীয়মান হয়। এ ধরনের আরো একটি বিষয় হল ফিতনার প্রসার প্রতিরোধ, যেটা আমরা পরে আলোচনা করবো।
(সংগ্রাহক amiমূল kaizenseries.wordpress.com)
সংযুক্তিঃ
শাতিমির রাসূল সঃ বিষয়ে বাংলা বই-
১) ইমাম আনোয়ার আল আওলাকির Dust Will Never Settle Down লেকচারের বাংলা pdf ভার্সন-http://myallbooks.weebly.com/books/july-09th-20132
২) শাইখুল হাদীস মুফতি জসীম উদ্দীন রহমানী হাফিঃ এর লেখা ‘উন্মুক্ত তরবারী’- http://islamicpdfebook.blogspot.com/2014/03/jasim-uddin-rahmani.html

আল্লাহর সাথে সত্যনিষ্ঠ হওয়া।

আল্লাহর সাথে সত্যনিষ্ঠ হওয়া।

"আল্লাহ’র সাথে সত্যনিষ্ঠ হওয়া: Being true with Allaah: [“الصدق مع الله”]
بسم الله الرحمن الرحيم
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاء وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ
”তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনেএকনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবংযাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।“ [সুরা বাইয়্যিনাহ্: ০৫]
সালাফরা সকল কাজ যা মহৎ তাতে আমাদের ছাড়িয়ে গেছেন,তবে  একটি সর্বোত্তম মহৎ গুণ যার শীর্ষে তারা আরোহনকরেছিলেন, আর তা হলো ‘আল্লাহ’র সাথে সত্যনিষ্ঠ হওয়া’ [“الصدق مع الله”] আর এই গুণটির ঘাটতিই আমাদের মাঝেসবচেয়ে বেশী।


সালাফরা বলতেন, “ও আল্লাহ্! আমাদের অন্তঃকরনকে আমাদের বাহ্যিক অবস্থার চেয়ে উত্তম কর এবং আমাদের বাহ্যিক অবস্থা ভাল কর।”

.

.
“ইমাম আহমাদ [رحمة الله عليه] যখন পথ ধরে হাটতেন , তখন তিনি শ্রমিকদের মধ্যে হাঁটতেন যাতে কেউ তাকে শ্রদ্ধাবশতঃ নির্দেশ না করে এবং যাতে লোকজন মনে করে তিনিও একজন শ্রমিক বৈ আর কেউ নয়; আর তাকে শ্রদ্ধাবশতঃ নির্দেশ করা থেকে বিরত থাকে।
তাদের মধ্যে কেউ যখন জিহাদে প্রবেশ করতেন , নিজেকে ছদ্মাবেশে ঢেকে নিতেন আর তিনি যদি  প্রচুর গণীমাহ্ লাভ করতেন তবে তিনি তার পরিচয় গোপন করতেন আর তা পরিত্যক্ত রেখে চলে যেতেন যাতে লোকজন জানতে না পারে, কে তা অর্জন করেছে।“
মাসলামাহ্ বিন আবদ আল-মালিক [رضي الله عنه] একটি দুর্গ দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রেখেছিলেন। একদিন রাত্রিকালীন সময়ে, একজন মুজাহিদীন খুব ধীরে ধীরে নিঃশব্দে দুর্গের দেয়াল বেয়ে উঠে পড়লেন আর প্রহরীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন, তাদের সবাইকে হত্যা করলেন এবং দুর্গে একটি গর্ত খনন করলেন যার ভিতর দিয়ে মুসলিম সৈন্যরা প্রবেশ করলো এবং দুর্গের কতৃত্ব লাভ করলো।
অতঃপর, মাসলামাহ্ [رضي الله عنه] বেশ কিছু সময় ধরে জানতে চাইলেন: “তোমাদের মধ্যে কে এই গর্ত খুড়েছ”?
কেউ এগিয়ে এল না। একদিন রাতে, একজন আবিষ্ট অশ্বারোহী মাসলামা’র তাবুতে প্রবেশ করে বললো: “তুমি কি জানতে চাও কে গর্তটি খুড়েছিলো?”
মাসলামা বললেন: “হ্যা”।
অশ্বারোহী উত্তর দিলেন: “আমি আপনাকে এই শর্তে বলতে পারি যে আপনি কাউকে তার নাম বলবেন না আর তাকে এইজন্য কোন পুরষ্কার কিংবা ক্ষতিপূরণ দিবেন না।”
তিনি বললেন: “হ্যা”।
সে বললো: “আমিই সে যে গর্তটি খুড়েছিল” এবং তার নাম উন্মোচন না করেই দ্রুত সওয়ার হলো।
অতঃপর, যখনই কিবলামুখী হয়ে দুআ করতেন তখনই তিনি বলতেন:
“ও আল্লাহ্! আমাকে পুনরুত্থানের দিন একত্রিত করো  তার সাথে যে গর্ত খুড়েছিলো। ”

.

.
আবদুল্লাহ্ ইবন মাস’ঊদের [رضي الله عنه] উক্তি হতে ইবনুল কায়্যিম [ رحمة الله عليه]  বর্ণনা করেন:
আবদুল্লাহ্ ইবন মাস’ঊদের [رضي الله عنه] সাহচর্যে এক ব্যক্তি বলেন:
”আমি ডানহস্তের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত হতে চাই না, আমি আল্লাহ’র নিকটবর্তীদের [মুকাররাবুন] অন্তর্ভুক্ত হতে চাই ।“
তখন আবদুল্লাহ্ বললেন:
“কিন্তু, এ ব্যক্তি যে আশা করে মৃত্যুর পরে সে পুনরূত্থিত না হোক [আল্লাহ’র ভয়ে]”। [নিজের কথা বুঝালেন।]
একদিন তিনি ঘর থেকে বের হলেন এবং লোকজন তাকে অনুসরন করলো, তখন তিনি বললেন: ”তোমাদের কি কিছু প্রয়োজন আছে?”
তারা বললো: “না, কিন্তু আমরা আপনার সাথে হাটতে চাই।”
তিনি বললেন: “ফিরে যাও, কেননা তা অনুসরনকারীর জন্য অসম্মানের আর অনুসৃতের জন্য ফিতনাহ্।”
তিনি আরো বললেন:”তোমরা যদি তা জানতে যা আমি নিজের সন্মন্ধে জানি, তবে তোমরা আমার মাথায় ধুলি নিক্ষেপ করতে।”
“তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে অন্য ব্যক্তির তাকলীদ [অন্ধ অনুসরন] করবে না, কেননা সে [যার অনুসরন করা হয়] যদি বিশ্বাস করে তবে সে [অনুসারী] বিশ্বাস করে আর সে যদি অবিশ্বাস করে, তবে সে অবিশ্বাস করে। যদি তোমাদের কাউকে অনুসরন করতে হয় তবে তাদের অনুসরন কর যারা উদাহরন হিসেবে মৃত্যুবরন করেছেন, নিশ্চয়ই যারা জীবিত তারা ফিতনাহ্ থেকে নিরাপদ নয়।“

নিজের অন্তরকে এই তিন জায়গায় পর্যবেক্ষন কর:
–যখন তুমি কুরআন শ্রবন কর,
–যেখানে আল্লাহ’র নাম স্মরণ করা হয়,
  • –যখন তুমি একাকী থাক।
যদি তুমি এইসব জায়গায় একে [ বিনম্র ] না পাও, তবে আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা কর যেনো তিনি তোমাকে অন্তর দান করেন; নিশ্চয়ই তোমার কোন অন্তর নেই।
[আল ফাওয়ায়িদ: পৃ:১৬২]
আল্লাহ্ তা’আলা বলেন:
‘নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে সন্ত্রস্ত,
যারা তাদের পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে,
যারা তাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করে না
এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণেদান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে,
তারাই কল্যাণ দ্রুত অর্জন করে এবং তারা তাতে অগ্রগামী।“
[সুরা মু’মিনুন: ৫৭-৬২]

আয়িশা [رضي الله عنه] হতে বর্ণিত , তিনি বলেন : রাসূল (صلى الله عليه وسلم)
কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এ আয়াতটি কি মদপানকারী, ব্যভিচারী ও চোরদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে? তিনি বলেন: না, হে সিদ্দিকের মেয়ে! বরং তারা হলো রোজাদার, ছ্বলাত কায়েমকারী ও দানকারীগণ, কিন্তু তারা ভয় করে যে হয়তো বা কবুল করা হবে না ! তারাই তো কল্যাণের প্রতি অগ্রগামী। [সহীহ তিরমিযী]
আর সালাফদের এই ধরনের সত্যনিষ্ঠতার উদাহরণ টানতে গেলে বৃহদাকার পুস্তকের সমারোহ হবে।
আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সালাফদের এই অনন্য গুণাবলী রপ্ত করার তাওফীক দিন। আর দ্বীনকে পরিপূর্ণভাবে তার জন্য নির্দিষ্ট করার তাওফীক দিন। আমীন।

হক্ব বাতিল সাব্যস্ত

রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় তের বৎসর দাওয়াত দিয়েছেন মহৎ চরিত্র নিয়ে, তার সাথে সেই সাবিকুন আওয়ালুন, তাদের মমতা, হিতাকাঙ্খিতা, ইমান, তাক্বওয়া, ইখলাছ, আত্ন বিসর্জন তৎপড়তা আর আমল আখলাক সব কিছুর পরও ইসলাম সেখানে আসন পায়নি, বিস্তার লাভ করেনি বরং নিজেদেরকেই সেখান থেকে প্রস্থান ও বিতাড়নের স্বীকার হতে হয়েছে। কিন্তু কেন?
.
.
কারন একমাত্র এটাই যে শক্তিহীনের বিনয়কে মানুষ দুর্বলতা হিসাবে নেয়, সে বিনয় কারো নজর কাড়তে পারেনা। এর ফলেই যখন মক্কা বিজয় হলো, পুর্নশক্তি হাতে আসলো সবায় কে ক্ষমা ঘোষনা করে দিলেন, তারা আখলাক দেখতে সক্ষম হলো, দলে দলে মুসলমান হওয়া শুরু হলো, ইসলাম আরবে ছড়িয়ে পরলো। কথাটি অনেকটা এমন- খাবারের দ্বারা নয়, খাদ্যপ্রান দিয়ে মানুষের মানুষের শরীর পুষ্টিপায়।
.
.
অস্ত্র ছাড়া দুর্বলের কোন চরিত্র নেই, আমেরিকা বৃটেন রাশিয়া এসব পরা শক্তি কোটিকোটি বনি আদম কে হত্যা, বন্দি করার পরও শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ, মানবতার কোরাসে বড় গলাবাজ। পক্ষান্তরে নিজভুমিতে আক্রান্ত মুসলিম মর্যাদাবোধসম্পন্ন আত্নরক্ষাকারীগন সন্ত্রাসি। এটাই শান্তি ও সন্ত্রাসের বাস্তব কার্যকরী চূড়ান্ত সংজ্ঞা।
.
.
ইউনিভার্সিটি, কলেজ ইত্যাদিতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চলে আর র‍্যাব পুলিশ মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় বোমা সন্ত্রাসী খোঁজে, ক্ষমতাসীন সরকার যাকে যেভাবে ইচ্ছা আইন করে ফাঁসি দিবে, কিন্তু এর প্রতিবাদ করলে গুলি খেয়ে মরতে হবে, এরই নাম আইন শৃঙ্খলা রক্ষা। ক্ষমতাসীনরা কাউকে পিটিয়ে হত্যা করলে সেটা হবে বরজোর দুষ্টুমি, সরকারি বাহিনী গুম করে দিলে এটা উল্লেখ করার মত উল্লেখযোগ্য কিছু নয়, পুর্ব বাংলাকমিউনিষ্ট পার্টি বা লাল বাহিনী ... দশকের পর দশক হত্যা সন্ত্রাস চাদাবাজিতে জনজীবন অতিষ্টকরে করে তুললেও ভাবতে হবে সব কিছুই স্বাভাবিক আছে, ঠিক আছে।
.
.
কিন্তু যখনি আল্লাহর নামে কিছু মুসল্লির শরয়ী তরিকায় কিছু পদেক্ষেপের ফলে নাস্তিক মুরতাদদের মরন ঘন্টা বেজে উঠে তখনই জানোয়ারগুলোর জিঘাংসা জেগে উঠে। গনতান্ত্রিক রাজনীতির বলি বা নির্বাচনী সহংসতায় প্রতিনিয়ত হত্যা গুম খুবই স্বাভাবিক বিষয়, পক্ষান্তরে আল্লাহর রাজ্যের বিদ্রোহী বজ্জাত জঘন্যচরিত্র কিছু কুলাংগার আগাছা আবর্জনা কে ভাগারে নিক্ষেপের দরুন তাবৎ দুনিয়া চিৎকারে অস্থীর। আমেরিকা বয়ান দেয়, বৃটেন নিন্দা জানায়, জাতিসংঘ প্রতিকার চায়...
.
.
তাই হক্ব আজ বাতিল সাব্যস্ত। সত্য আজ মিথ্যা। জালিম আজ জননেতা। মজলুম আজ সন্ত্রাসী। খুনীরা আজ মানবতার ধবজাধরি। এটাই হচ্ছে তরবারী ছাড়া ইসলামের স্বাভাবিক পরিণতি।
.
Ustadh Ahmad Nabil Hafizahullah

Sunday, May 29, 2016

শয়তানের ধোকা ও আমাদের পদস্থলন

ইউসুফ (আঃ) এর ভাইদের কাহিনী আমরা অনেকেই জানি। তাদের পিতা ইউসুফ (আঃ) কে সবচেয়ে বেশি আদর করতেন, ব্যাপারটা তাদের কাছে ভালো ঠেকেনি, তাই তারা পরিকল্পনা করেছিলেন ইউসুফকে হত্যা করে ফেলবেন অথবা তাকে কুয়ার মধ্যে ফেলে দেবেন, জানে মারবেন না।
.
ইন্টারেস্টিং বিষয়টা হল, তারা যখন এই অপকর্মের নিয়ত করছিলেন, তখন তারা মনে মনে এটাও ঠিক করেছিলেন যে, এই কাজ করার পরে তারা আবার তওবা করে "ভাল" হয়ে যাবেন ! কুরআনে এসেছে এভাবে,
.
"(তাই শয়তান তাদেরকে পরামর্শ দিল) ইউসুফকে মেরে ফেলো অথবা তাকে কোন এক (অজানা) জায়গায় নির্বাসনে দিয়ে এসো, (এরপর দেখবে) তোমাদের পিতার দৃষ্টি তোমাদের দিকেই নিবিষ্ট হবে, অতঃপর তোমরা (আবার) সবাই ভালো মানুষ হয়ে যেও।" [সূরা ইউসুফ: ৯]
.
আমাদের মধ্যে এরকম একটা প্রবণতা কাজ করে। "আগে আকাম সব করে নিই তারপরে বুড়া বয়সে নামায-হজ্জ করে ভাল বনে যাব" - এই চিন্তাটা মুখ ফুটে না বললেও বহু মানুষের অন্তরে অন্তরে। অনেকে আছে এমন যারা বোঝেন দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে অনেক রিস্ক আর জান-মালের ক্ষতি হতে পারে, তারা অনেক সময় এভাবে চিন্তা করে বা তাদেরকে তাদের বাবা-মায়েরা বোঝায়, "আগে পড়াশোনা করে ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারপর আরামছে দ্বীনের কাজ কর"।
.
আগে নিজের দুনিয়াবী স্বার্থ নিশ্চিত করে, সেটা হারাম পথে হোক, কিংবা ফরয বাদ দিয়ে হোক, তারপরে দ্বীনের পথে আসা বা দ্বীনের কাজ করা, এটা সাহাবাদের অনুসৃত পথ নয়। এ ধরণের চিন্তাভাবনার দুটো সমস্যা আছে।
.
১) আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন না, আপনি যে আকামগুলো করে রাখছেন বা যে কাজটা এখন আপনার করা উচিত কিন্তু আপনি সেগুলো করছেন না, এমন করার জন্য আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবে কিনা, আপনি কখনই তা নিশ্চিত হতে পারবেন না। এটা একটা উচ্চ মানের শয়তানি, আল্লাহর সাথে লুকোচুরি খেলার মত।
.
২) আপনি যদি এভাবে চিন্তা করেন যে আগে আপনি প্রতিষ্ঠা লাভ করে একটা নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে তার পর দ্বীনের কাজ করবেন, সেক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে, আপনি নিশ্চিত নন যে আপনার এই প্ল্যান আসলেই কাজ করবে কিনা। বিপদ যেকোন সময় আসতে পারে, মৃত্যু যেকোন সময়ে চলে আসতে পারে। প্রতিটা কাজেরও একটা সময় আছে। আপনি কালকে ভালো কাজ করার সুযোগ পাবেন, এই গ্যারান্টি আপনাকে কে দিল? আপনি আজকে দ্বীনের পথে আছেন, কালকেও থাকবেন, এ ব্যাপারে আপনি এতটা কনফিডেন্ট কিভাবে হলেন?
.
আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, আমাদের উপর যেকোন সময় ফিতনা আপতিত হতে পারে, যেকোন সময় আমাদের মৃত্যু চলে আসতে পারে। এরকম হতেই পারে আপনি তওবা করার কোন সুযোগই পেলেন না। আপনি ভালো হবার জন্য যথেষ্ট সময় পেলেন না। আর বাস্তবতা থেকে আমরা দেখি, "সময় হোক, আমি আস্তে ধীরে ভাল হয়ে যাব" চিন্তাধারী ব্যাক্তিদের বেশিরভাগেরই ভাল হয়ে ওঠা হয়ে না। ভালো হতে চাইলে, এখনই চেষ্টাটা শুরু করে দিন, ঠিক এখনই। নিয়ত করে ফেলুন এই মুহূর্তেই যে আপনি দ্বীনের পথে চলবেন। একটু দেরি করে ফেললে হয়তো অনেক কিছু মিস করে ফেলবেন, যেটা কখনই আর পূরণ হবার নয়!
.
.
Collected From
Brother
Zim Tanvir