সাজিদের ব্যাগে ইয়া মোটা একটি ডায়েরি থাকে সবসময়।
ডায়েরিটা
প্রাগৈতিহাসিক আমলের কোন নিদর্শনের মতো। জায়গায় জায়গায় ছেঁড়া।ছেঁড়া জায়গার
কোনটাতে সূতো দিয়ে সেলাই করা, কোন জায়গায় আঁটা দিয়ে প্রলেপ লাগানো, কোন
জায়গায় ট্যাপ করা।
এই ডায়েরিতে সে তার জীবনের নানা উল্লেখযোগ্য
ঘটনাগুলো লিখে রাখে।এই ডায়েরির মাঝামাঝি কোন এক জায়গায় সাজিদ আমার সাথে
প্রথম সাক্ষাতের ঘটনাটিও লিখে রেখেছে।তার সাথে আমার প্রথম দেখা হয় টি.এস.সি
তে।
সে আমার সম্পর্কে লিখে রেখেছে,-
'ভ্যাবলা টাইপের এক ছেলের
সাথে সাক্ষাৎ হলো আজ।দেখলেই মনে হবে, জগতের কঠিন বিষয়ের কোনকিছুই সে
বুঝেনা।কথা বলার পরে বুঝলাম, এই ছেলে অত্যন্ত বুদ্ধিমান,কিন্তু
বোকা।ছেলেটার নাম- আরিফ।'
নিচে তারিখ দেওয়া- '০৫/০৩/০৯
এই ডায়েরিতে নানান বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথাও লিখা আছে।
একবার কানাডার টরেণ্টোতে সাজিদ তার বাবার সাথে একটি অফিসিয়াল ট্যুরে
গিয়েছিলো।সেখানে অনেক সেলেব্রিটির সাথে বিলগেটসও আমন্ত্রিত ছিলেন।বিলগেটস
সেখানে দশ মিনিটের জন্য বক্তৃতা রেখেছিলেন।সে ঘটনাটি লিখা আছে।
জাফর
ইকবালের সাথে সাজিদের একবার বই মেলায় দেখা হয়ে যায়। সেবারের বইমেলায় জাফর
স্যারের বই 'একটুখানি বিজ্ঞান' এর দ্বিতীয় কিস্তি 'আরো একটুখানি বিজ্ঞান'
প্রকাশিত হয়। সাজিদ জাফর স্যারের বই কিনে বের হওয়ার পথে জাফর স্যারের সাথে
তার দেখা হয়ে যায়।সাজিদ স্যারের একটি অটোগ্রাফ নিয়ে, স্যারের কাছে হেসে
জানতে চাইলো,- 'স্যার, 'একটুখানি বিজ্ঞান' পাইলাম।এরপর পাইলাম 'আরো
একটুখানি বিজ্ঞান'।এটার পরে, 'আরো আরো একটুখানি বিজ্ঞান' কবে পাচ্ছি?'
সেদিন নাকি জাফর স্যার মিষ্টি হেসে বলেছিলেন,- 'পাবে।'
নিজের সাথে ঘটে যাওয়া এরকম অনেক ঘটনাই ঠাঁই পেয়েছে সাজিদের ডায়েরিটাতে।
সাজিদের ডায়েরির আদ্যোপান্ত আমার পড়া ছিলো। কিন্তু, সেমিষ্টার ফাইনাল
সামনে চলে আসায় গত বেশ কিছুদিন তার ডায়েরিটা আমার আর পড়া হয়নি।অবশ্য,
ডায়েরিটা আমি লুকিয়ে লুকিয়েই পড়ি।
সেদিন থার্ড সেমিষ্টারের শেষ
পরীক্ষাটি দিয়ে রুমে আসলাম। এসে দেখি সাজিদ ঘরে নেই।তার টেবিলের উপরে তার
ডায়েরিটা পড়ে আছে খোলা অবস্থায়।
ঘর্মাক্ত শরীর। কাঠফাটা রোদের মধ্যে
ক্যাম্পাস থেকে হেঁটে বাসায় ফিরেছি।এই মূহুর্তে বসে ডায়েরিটা উল্টোবো, সে
শক্তি বা ইচ্ছে কোনটাই নেই।কিন্তু ডায়েরিটা বন্ধ করতে গিয়ে একটি শিরোনামে
আমার চোখ আটকে যায়। আমি সাজিদের টেবিলেই বসে পড়ি। লেখাটির শিরোনাম ছিলো,-
'ভাগ্য বনাম স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি- স্রষ্টা কি এখানে বিতর্কিত?'
বেশ লোভনীয় শিরোনাম।শারীরিক ক্লান্তি ভুলেই আমি ঘটনাটির প্রথম থেকে পড়া
শুরু করলাম।ঘটনাটি সাজিদের ডায়েরিতে যেভাবে লেখা, ঠিক সেভাবেই আমি পাঠকদের
জন্য তুলে ধরছি-
'কয়েকদিন আগে ক্লাশের থার্ড পিরিয়ডে মফিজুর রহমান স্যার এসে আমাকে দাঁড় করালেন।বললেন,- 'তুমি ভাগ্যে,আই মিন তাকদিরে বিশ্বাস করো?'
আমি আচমকা অবাক হলাম। আসলে এই আলাপগুলো হলো ধর্মীয় আলাপ। মাইক্রোবায়োলজির
একজন শিক্ষক যখন ক্লাশে এসে এসব জিজ্ঞেস করেন, তখন খানিকটা বিব্রত বোধ করাই
স্বাভাবিক। স্যার আমার উত্তরের আশায় আমার মুখের দিকে চেয়ে আছেন।
আমি বললাম,- 'জ্বি, স্যার।এ্যাজ এ্যা মুসলিম, আমি তাকদিরে বিশ্বাস করি।এটি আমার ঈমানের মূল সাতটি বিষয়ের মধ্যে একটি।'
স্যার বললেন,- 'তুমি কি বিশ্বাস করো যে, মানুষ জীবনে যা যা করবে তার
সবকিছুই তার জন্মের অনেক অনেক বছর আগে তার তাকদিরে লিখে দেওয়া হয়েছে?'
- 'জ্বি স্যার'- আমি উত্তর দিলাম।
- 'বলা হয়, স্রষ্টার ইচ্ছা ছাড়া গাছের একটি ক্ষুদ্র পাতাও নড়েনা, তাই না?'
- 'জ্বি স্যার।'
- 'ধরো, আজ সকালে আমি একজন লোককে খুন করলাম। এটা কি আমার তাকদিরে পূর্ব নির্ধারিত ছিলো না?'
- 'জ্বি, ছিলো।'
- 'আমার তাকদির যখন লেখা হচ্ছিলো, তখন কি আমি জীবিত ছিলাম?'
- 'না, ছিলেন না।'
- 'আমার তাকদির কে লিখেছে? বা, কার নির্দেশে লিখিত হয়েছে?'
- 'স্রষ্টার।'
- 'তাহলে, সোজা এবং সরল লজিক এটাই বলে- 'আজ সকালে যে খুনটি আমি করেছি,
সেটি মূলত আমি করি নি।আমি এখানে একটি রোবট মাত্র।আমার ভেতরে একটি প্রোগ্রাম
সেট করে দিয়েছেন স্রষ্টা।সেই প্রোগ্রামে লেখা ছিলো যে, আজ সকালে আমি একজন
লোককে খুন করবো।সুতরাং, আমি ঠিক তাই-ই করেছি, যা আমার জন্য স্রষ্টা পূর্বে
ঠিক করে রেখেছেন।এতে আমার কোন হাত নেই।ডু ইউ এগ্রি,সাজিদ?'
- 'কিছুটা'- আমি উত্তর দিলাম।
স্যার এবার হাসলেন।হেসে বললেন,- 'আমি জানতাম তুমি কিছুটাই একমত হবে,পুরোটা
নয়।এখন তুমি আমাকে নিশ্চই যুক্তি দেখিয়ে বলবে,- স্যার, স্রষ্টা আমাদের
একটি স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন।আমরা এটা দিয়ে ভালো-মন্দ বিচার করে
চলি,রাইট?'
- 'জ্বি স্যার।'
- 'কিন্তু সাজিদ, এটা খুবই লেইম
লজিক,ইউ নো? ধরো, আমি তোমার হাতে বাজারের একটি লিষ্ট দিলাম।লিষ্টে যা যা
কিনতে হবে, তার সবকিছু লেখা আছে।এখন তুমি বাজার করে ফিরলে।তুমি ঠিক তাই তাই
কিনলে যা আমি লিষ্টে লিখে দিয়েছি।এবং তুমি এটা করতে বাধ্য।'
এতটুকু বলে স্যার আমার কাছে জানতে চাইলেন,- 'বুঝতে পারছো?'
আমি বললাম,- 'জ্বি স্যার।'
- 'ভেরি গুড! ধরো, তুমি বাজার করে আসার পর, একজন জিজ্ঞেস করলো, সাজিদ কি
কি বাজার করেছো? তখন আমি উত্তর দিলাম,- 'ওর যা যা খেতে মন চেয়েছে, তা-ই
তা-ই কিনেছে। বলতো, আমি সত্য বলেছি কিনা?'
আমি বললাম,- 'নাহ, আপনি মিথ্যা বলেছেন।'
স্যার চিৎকার করে বলে উঠলেন,- 'এক্সাক্টলি। ইউ হ্যাভ গট দ্য পয়েণ্ট,মাই
ডিয়ার।আমি মিথ্যা বলেছি।আমি লিষ্টে বলেই দিয়েছি তোমাকে কি কি কিনতে
হবে।তুমি ঠিক তা-ই তা-ই কিনেছো যা আমি কিনতে বলেছি।যা কিনেছো সব আমার
পছন্দের জিনিস। এখন আমি যদি বলি,- 'ওর যা যা খেতে মন চেয়েছে,সে তা-ই তা-ই
কিনেছে', তাহলে এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা,না?'
- 'জ্বি,স্যার।'
-
'ঠিক স্রষ্টাও এভাবে মিথ্যা বলেছেন।দুই নাম্বারি করেছেন। তিনি অনেক আগে
আমাদের তাকদির লিখে তা আমাদের গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন।এখন আমরা সেটাই করি, যা
স্রষ্টা সেখানে লিখে রেখেছেন।আবার, এ্যাট দ্য এন্ড অফ দ্য ডে, এই কাজের
জন্য কেউ জান্নাতে যাচ্ছে, কেউ জাহান্নামে।কিন্তু কেনো? এখানে মানুষের তো
কোন হাত নেই।ম্যানুয়ালটা স্রষ্টার তৈরি। আমরা তো জাষ্ট পারফর্মার।স্ক্রিপ্ট
রাইটার তো স্রষ্টা।স্রষ্টা এরজন্য আমাদের কাউকে জান্নাত,কাউকে জাহান্নাম
দিতে পারেন না। যুক্তি তাই বলে,ঠিক?'
আমি চুপ করে রইলাম। পুরো ক্লাশে পিনপতন নিরবতা বিরাজ করছে তখন।
স্যার বললেন,- 'হ্যাভ ইউ এ্যানি প্রপার লজিক অন দ্যাট টিপিক্যাল কোয়েশ্চান,ডিয়ার?'
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম।
স্যার মুচকি হাসলেন। মনে হলো- উনি ধরেই নিয়েছেন যে, উনি আমাকে এবার সত্যি সত্যিই কুপোকাত করে দিয়েছেন।বিজয়ীর হাসি।
আমাকে যারা চিনে তারা জানে, আমি কখনো কারো প্রশ্নের উত্তর দিতে সময় নিই
না।আজকে যেহেতু তার ব্যতিক্রম ঘটলো, আমার বন্ধুরা আমার দিকে ড্যাব ড্যাব
চোখ করে তাকালো।তাদের চাহনি দেখে মনে হচ্ছিলো, এই সাজিদকে তারা চিনেই
না।কোনদিন দেখে নি।
আর, ক্লাশে আমার বিরুদ্ধ মতের যারা আছে, তাদের
চেহারা তখন মূহুর্তেই উজ্জ্বল বর্ণ ধারন করলো।তারা হয়তো মনে মনে বলতে
লাগলো,- 'মোল্লার দৌঁড় অই মসজিদ পর্যন্তই।হা হা হা'।
আমি মুখ তুলে স্যারের দিকে তাকালাম।মুচকি হাসিটা স্যারের মুখে তখনও বিরাজমান।
আমি বললাম,- 'স্যার, এই ক্লাশে কার সম্পর্কে আপনার কি অভিমত?'
স্যার ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন। স্যার জিজ্ঞেস করেছেন কি আর আমি বলছি কি।
স্যার বললেন,- 'বুঝলাম না।'
- 'মানে, আমাদের ক্লাশের কার মেধা কি রকম, সে বিষয়ে আপনার কি ধারনা?'
- 'ভালো ধারনা। ছাত্রদের সম্পর্কে একজন শিক্ষকেরই তো সবচেয়ে ভালো জ্ঞান থাকে।'
আমি বললাম,- 'স্যার, আপনি বলুন তো, এই ক্লাশের কারা কারা ফাষ্ট ক্লাশ আর কারা কারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে?'
স্যার কিছুটা বিস্মিত হলেন। বললেন,- 'আমি তোমাকে অন্য বিষয়ে প্রশ্ন করেছি।তুমি 'আউট অফ কনটেক্সট' এ গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করছো,সাজিদ।'
- 'না স্যার, আমি কনটেক্সটেই আছি। আপনি উত্তর দিন।'
স্যার বললেন,- 'এই ক্লাশ থেকে রায়হান, মমতাজ, ফারহানা, সজীব, ওয়ারেশ,
ইফতি, সুমন,জাবেদ এবং তুমি ফাষ্ট ক্লাশ পাবে। আর বাকিরা সেকেন্ড ক্লাশ।'
স্যার যাদের নাম বলেছেন, তারা সবাই ক্লাশের ব্রিলিয়্যাণ্ট ষ্টুডেণ্ট।সুতরাং, স্যারের অনুমান খুব একটা ভুল না।
আমি বললাম,- 'স্যার, আপনি এটা লিখে দিতে পারেন?'
- 'Why not'- স্যার বললেন।
এই বলে তিনি খচখচ করে একটা কাগজের একপাশে যারা ফাষ্ট ক্লাশ পাবে তাদের
নাম, অন্যপাশে যারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে,তাদের নাম লিখে আমার হাতে দিলেন।
আমি বললাম,- 'স্যার, ধরে নিলাম যে আপনার ভবিষ্যৎবাণী সম্পূর্ণ সত্য
হয়েছে।মানে, আপনি ফাষ্ট ক্লাশ পাবে বলে যাদের নাম লিখেছেন,তারা সবাই ফাষ্ট
ক্লাশ পেয়েছে,আর যারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে লিখেছেন, তাদের সবাই সেকেন্ড
ক্লাশ পেয়েছে।'
- 'হুম, তো?'
- 'এখন, স্যার বলুন তো, যারা ফাষ্ট ক্লাশ পেয়েছে, আপনি এই কাগজে তাদের নাম লিখেছেন বলেই কি তারা ফাষ্ট ক্লাশ পেয়েছে?'
- 'নাহ তো।'
- 'যারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে, তারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে বলে আপনি এই কাগজে লিখেছেন বলেই কি তারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে?'
স্যার বললেন,- 'একদম না।'
- 'তাহলে মূল ব্যাপারটি কি স্যার?'
স্যার বললেন,- 'মূল ব্যাপার হলো, আমি তোমাদের শিক্ষক।আমি খুব ভালো জানি
পড়াশুনায় তোমাদের কে কেমন।আমি খুব ভালো করেই জানি, কার কেমন মেধা। সুতরাং,
আমি চোখ বন্ধ করেই বলে দিতে পারি কে কেমন রেজাল্ট করবে।'
আমি হাসলাম।
বললাম,- 'স্যার, যারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে, তারা যদি আপনাকে দোষ দেয়? যদি
বলে, আপনি 'সেকেন্ড ক্লাশ' ক্যাটাগরিতে তাদের নাম লিখেছেন বলেই তারা
সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে?'
স্যার কপালের ভাঁজ লম্বা করে বললেন,- 'ইট উড বি
টোট্যালি বুলশিট! আমি কেন এর জন্য দায়ী হবো? এটা তো সম্পূর্ণ তাদের দায়।
আমি শুধু তাদের মেধা,যোগ্যতা সম্পর্কে ধারনা রাখি বলেই অগ্রিম বলে দিতে
পেরেছি যে কে কেমন রেজাল্ট করবে।'
আমি আবার জোরে জোরে হাসতে লাগলাম। পুরো ক্লাশ আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে।
আমি থামলাম।বললাম,- 'স্যার, তাকদির তথা ভাগ্যটাও ঠিক এরকম। আপনি যেমন
আমাদের মেধা, যোগ্যতা,ক্ষমতা সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখেন, স্রষ্টাও তেমনি
তার সৃষ্টি সম্পর্কে ধারনা রাখেন।আপনার ধারনা মাঝে মাঝে ভুল হতে পারে,
কিন্তু স্রষ্টার ধারনায় কোন ভুল নেই।স্রষ্টা হলেন আলিমুল গায়েব।তিনি
ভূত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সব জানেন।
আপনি যেরকম আমাদের সম্পর্কে
পূর্বানুমান করে লিখে দিয়েছেন যে, আমাদের মধ্যে কারা কারা ফাষ্ট ক্লাশ
পাবে, আর কারা সেকেন্ড ক্লাশ।এর মানে কিন্তু এই না যে, আপনি বলেছেন বলে
আমাদের কেউ ফাষ্ট ক্লাশ পাচ্ছি, কেউ সেকেন্ড ক্লাশ।
স্রষ্টাও সেরকম
পূর্বানুমান করে আমাদের তাকদির লিখে রেখেছেন।তাতে লেখা আছে দুনিয়ায় আমরা কে
কি করবো।এর মানেও কিন্তু এই না যে, তিনি লিখে দিয়েছেন বলেই আমরা কাজগুলো
করছি।বরং, এর মানে হলো এই- তিনি জানেন যে, আমরা দুনিয়ায় এই এই কাজগুলো
করবো।তাই তিনি তা অগ্রিম লিখে রেখেছেন তাকদির হিসেবে।
আমাদের মধ্যে কেউ
ফাষ্ট ক্লাশ আর কেউ সেকেন্ড ক্লাশ পাবার জন্য যেমন কোনভাবেই আপনি দায়ী নন,
ঠিক সেভাবে, মানুষের মধ্যে কেউ ভালো কাজ করে জান্নাতে, আর কেউ খারাপ কাজ
করে জাহান্নামে যাবার জন্যও স্রষ্টা দায়ী নন।স্রষ্টা জানেন যে, আপনি আজ
সকালে একজনকে খুন করবেন।তাই তিনি সেটা আগেই আপনার তাকদিরে লিখে
রেখেছেন।এটার মানে এই না যে- স্রষ্টা লিখে রেখেছে বলেই আপনি খুনটি
করেছেন।এর মানে হলো- স্রষ্টা জানেন যে,আপনি আজ খুনটি করবেন।তাই সেটা অগ্রিম
লিখে রেখেছেন আপনার তাকদির হিসেবে।
স্যার, ব্যাপারটা কি এখন পরিষ্কার?
স্যারের চেহারাটা কিছুটা ফ্যাকাশে মনে হলো। তিনি বললেন,- 'হুম।'
এরপর স্যার কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন।তারপর বললেন,- 'আমি শুনেছিলাম তুমি ক'দিন আগেও নাস্তিক ছিলে।তুমি আবার আস্তিক হলে কবে?'
আমি হা হা হা করে হাসলাম। বললাম,- 'এই প্রশ্নটা কিন্তু স্যার আউট অফ কনটেক্সট।'
এটা শুনে পুরো ক্লাশ হাসিতে ফেঁটে পড়লো।
পিরিওডের একদম শেষদিকে, স্যার আবার আমাকে দাঁড় করালেন।বললেন,- 'বুঝলাম
স্রষ্টা আগে থেকে জানেন বলেই লিখে রেখেছেন।তিনি যেহেতু আগে থেকেই জানেন কে
ভালো কাজ করবে আর কে খারাপ কাজ করবে, তাহলে পরীক্ষা নেওয়ার কি দরকার? যারা
জান্নাতে যাওয়ার তাদের জান্নাতে, যারা জাহান্নামে যাওয়ার তাদের জাহান্নামে
পাঠিয়ে দিলেই তো হতো,তাই না?'
আমি আবার হাসলাম। আমার হাতে স্যারের লিখে
দেওয়া কাগজটি তখনও ধরা ছিলো।আমি সেটা স্যারকে দেখিয়ে বললাম,- 'স্যার, এই
কাগজে কারা কারা ফাষ্ট ক্লাশ পাবে, আর কারা কারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে, তাদের
নাম লেখা আছে। তাহলে এই কাগজটির ভিত্তিতেই রেজাল্ট দিয়ে দিন।বাড়তি করে
পরীক্ষা নিচ্ছেন কেনো?'
স্যার বললেন,- 'পরীক্ষা না নিলে কেউ হয়তো এই
বলে অভিযোগ করতে পারে যে,- 'স্যার আমাকে ইচ্ছা করেই সেকেন্ড ক্লাশ
দিয়েছে।পরীক্ষা দিলে আমি হয়তো ঠিকই ফাষ্ট ক্লাশ পেতাম।'
আমি বললাম,-
'একদম তাই,স্যার। স্রষ্টাও এইজন্য পরীক্ষা নিচ্ছেন,যাতে কেউ বলতে না পারে-
দুনিয়ায় পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে আমি অবশ্যই আজকে জান্নাতে থাকতাম। স্রষ্টা
ইচ্ছা করেই আমাকে জাহান্নামে পাঠিয়েছে।'
ক্লাশের সবাই হাত তালি দিতে শুরু করলো। স্যার বললেন,- 'সাজিদ, আই হ্যাভ এ্যা লাষ্ট কোয়েশ্চান।'
- 'ডেফিনেইটলি, স্যার।'- আমি বললাম।
- 'আচ্ছা, যে মানুষ পুরো জীবনে খারাপ কাজ বেশি করে,সে অন্তত কিছু না কিছু ভালো কাজ তো করে,তাই না?'
- 'জ্বি স্যার।'
- 'তাহলে, এই ভালো কাজগুলোর জন্য হলেও তো তার জান্নাতে যাওয়া দরকার,তাই না?'
আমি বললাম,- 'স্যার, পানি কিভাবে তৈরি হয়?'
স্যার আবার অবাক হলেন। হয়তো বলতে যাচ্ছিলেন যে, এই প্রশ্নটাও আউট অফ
কনটেক্সট, কিন্তু কি ভেবে যেন চুপসে গেলেন।বললেন,- 'দুই ভাগ হাইড্রোজেন আর
এক ভাগ অক্সিজেনের সংমিশ্রণে।'
আমি বললাম,- 'আপনি এক ভাগ হাইড্রোজেন আর এক ভাগ অক্সিজেন দিয়ে পানি তৈরি করতে পারবেন?'
- 'কখনোই না।'
- 'ঠিক সেভাবে, এক ভাগ ভালো কাজ আর এক ভাগ মন্দ কাজে জান্নাত পাওয়া যায়না।
জান্নাত পেতে হলে হয় তিন ভাগই ভালো কাজ হতে হবে, নতুবা দুই ভাগ ভালো কাজ,
এক ভাগ মন্দ কাজ হতে হবে। অর্থাৎ, ভালো কাজের পাল্লা ভারি হওয়া আবশ্যক।'
সেদিন আর কোন প্রশ্ন স্যার আমাকে করেন নি।'
-
এক নিশ্বাঃসে পুরোটা পড়ে ফেললাম।কোথাও একটুও থামিনি। পড়া শেষে যেই মাত্র
সাজিদের ডায়েরিটা বন্ধ করতে যাবো, অমনি দেখলাম, পেছন থেকে সাজিদ এসে আমার
কান মলে ধরেছে।সে বললো,- 'তুই তো সাংঘাতিক লেভেলের চোর।'
আমি হেসে বললাম,- 'হা হা হা। স্যারকে তো ভালো জব্দ করেছিস ব্যাটা।'
কথাটা সে কানে নিলো বলে মনে হলো না।নিজের সম্পর্কে কোন কমপ্লিমেন্টই সে
আমলে নেয় না। গামছায় মুখ মুছতে মুছতে সে খাটের উপর শুয়ে পড়লো।
আমি তার কাঁধে হাত রাখলাম। বললাম,- 'সাজিদ......'
- 'হু'
- 'একটা কথা বলবো?'
- 'বল।'
- 'জানিস, একসময় যুবকেরা হিমু হতে চাইতো।হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে,
মরুভূমিতে গর্ত খুঁড়ে জ্যোৎস্না দেখার স্বপ্ন দেখতো।দেখিস,এমন একদিন আসবে,
যেদিন যুবকেরা সাজিদ হতে চাইবে। ঠিক তোর মতো......'
এই বলে আমি সাজিদের দিকে তাকালাম।দেখলাম, ততক্ষণে সে ঘুমিয়ে পড়েছে। অঘোর ঘুম........
'তাকদির বনাম স্বাধীন ইচ্ছা'- স্রষ্টা কি এখানে বিতর্কিত?'/ আরিফ আজাদ
(চতুর্থ পর্ব)
Saturday, August 13, 2016
আল্লাহর হুকুম
সারাজীবন আল্লাহর হুকুম মানতে গিয়ে আমরা চিন্তা করি, "লোকে কি বলবে!"
ফাইনালি লোকে বলে, "ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন"
From Arif Faisal Auni bhai's timelineপুনরুত্থান কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা!
এক বিকট, কান ফাটানো শব্দ
চোখের পাতায় ধুলোর আস্তরণ
ধুলো মুছতে মুছতে আপনি উঠে বসলেন
নিজেকে সামলে নিয়ে চারপাশে তাকালেন
টলতে টলতে উঠে দাঁড়িয়ে...
ভালো করে তাকিয়ে দেখলেন
চারপাশে যতদূর চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ
আদিগন্ত বিস্তৃত
.সবাই দলবেঁধে ছুটছে একই দিকে
আপনিও তাদের সাথে ছোটা শুরু করলেন
কেউ কোন কথা বলছে না
শুধু পায়ের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে
সবাই শব্দ লক্ষ্য করে ছুটে চলেছে অবিরাম
আপনার শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে
প্রতি মিনিটে বুকের ভেতরের ভয়টা বেড়েই চলছে।
.
হঠাৎ আবিষ্কার করলেন শুধু মানুষ না
বিভিন্ন জন্তুও ছুটে চলছে…বন্য এবং গৃহপালিত,
হিংস্র ও গর্বিত
আগে হয়তো আপনি এদের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করতেন
কিন্তু প্রচণ্ড ভয় এখন আপনাকে নড়তে দিচ্ছে না।
চারপাশের মানুষগুলোর উপস্থিতির দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ ছাড়াই
জন্তুগুলো নতমস্তকে, নতদৃষ্টিতে এগিয়ে চলেছে।
.
এক জনসমুদ্রের মাঝে
নগ্ন দেহগুলো একে অপরের সাথে লেপ্টে আছে
সবাই হাসফাঁস করছে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম,
কারো সময় নেই সৌজন্যতার কিংবা দুঃখ প্রকাশ করার
কারো সময় নেই অন্য কারো দিকে তাকাবার
আজ সবাই নেশাগ্রস্তের ন্যায়,
আতংকে ও উৎকন্ঠায় নিশ্চল...
আজ এক ভারী বোঝা আপনার উপর চেপে বসেছে,
যা বইবার সামর্থ্য আপনার নেই।
.
নতুন এক দলের আগমন ঘটছে
তাদের মতো কোন কিছুই এর আগে দেখেন নি
চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত ওদের অবয়ব বীভৎস, ভয়ংকর!
জ্বীন...
কুৎসিত, অপার্থিব!
বিভিন্ন আকারের
বাকিদের মতোই তারা দাঁড়িয়ে...ভীতসন্ত্রস্ত ও কম্পমান
.
ওদের মাথার ওপর দিয়ে তাকিয়ে দেখলেন...
একটি তারা খসে পড়ছে
তারপর আরেকটা, তারপর আরও একটা
তীব্র আতঙ্ক নিয়ে আপনি উপলব্ধি করলেন
আকাশ থেকে নক্ষত্ররাজি খুলে পড়ছে!
.
আপনার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে,
স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে
বহু আগেই হয়তো আপনার হৃৎস্পন্দন থেমে যেত।
.
অসংখ্য মানুষগুলো একসাথে আর্তচিৎকার করছে,
কোথাও আর পালাবার রাস্তা নেই,
আজ আর কোন সাহায্যকারী নেই।
.
চির পরিচিত আকাশ আর পৃথিবী আজ অপরিচিত।
শুধুমাত্র আলো বিলিয়ে চলা
মাথার ওপরের চাঁদ আর সূর্যটাই চেনা।
.
যেন যুগ যুগ ধরে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন
সমস্ত শরীর জুড়ে ব্যাথা,
ক্ষুধা-তৃষ্ণায় আপনি কাতর
এই যন্ত্রণা আপনাকে অবসন্ন, নিস্তেজ করে ফেলতো
যদি সর্বগ্রাসী এ আতংক আপনাকে ঘিরে না রাখতো
এক মূহুর্তের জন্য এ ভয় আপনাকে ছেড়ে যায় নি
আর ক্রমশই তা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
.
আর তারপর
এক নিমেষে
মূহুর্তের মধ্যে
সূর্য আর চাঁদের আলো নিভে গেল।
.
পুরো পৃথিবী গভীর অন্ধকারে ডুবে গেল।
মাথার ওপরের আকাশটাও এখন বদলাতে শুরু করেছে
সবকিছু ছাপিয়ে অসহায়ত্বের অনুভুতি আপনাকে গ্রাস করছে
“হায় ! কখনো যদি এ ঘুম না ভাঙ্গতো!”
ভাবতে না ভাবতেই...
তীব্র গর্জনে পৃথিবী প্রকম্পিত হয়ে উঠলো
.
কিন্তু না, পৃথিবী না
আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে
টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে
আর রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।
মানুষের আর্তচিৎকারে চারপাশ ভারী হয়ে উঠছে, সবাই ভয়ে উন্মাদ প্রায়...
আকাশের প্রান্তসীমায় দেখা গেল নতুন একশ্রেণীর প্রানী
ফেরেশতা।
বিশালাকার, প্রকান্ড
সকল কল্পনাকে হার মানানো
তারা একে একে জমীনে অবতরণ করলেন ।
প্রবল, রাজকীয়, ভীতিকর, ভয়ঙ্কর
তারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের রবের প্রশংসায়
.
ভীড়ের মধ্য থেকে
নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে একটি প্রশ্ন ভেসে এল
যা ফেরেশতাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তুললো
“তোমাদের মাঝে কি আমাদের রব আছেন?”
.
ত্রস্তস্বরে তারা জবাব দিলেন "মহিমান্বিত আমাদের রব!"
"না, তিনি আমাদের মাঝে নেই।
তবে...
তিনি আসছেন..."
.
.
সেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে।
এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।
সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।
[সূরা আল-হাক্বা, ১৫-১৮]
.
#KnowYourDeen
Saturday, August 6, 2016
সমকামী ও লুত (আ:)এর ধ্বংস প্রাপ্ত জাতী !গে সেক্স একটি অবৈজ্ঞানিক
------------- লূত্ব আঃ এর সম্প্রদায় ও বর্তমান জাহিলিয়্যাত -------------
#লূত্ব_আঃ_এর_সম্প্রদায়
মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেনঃ
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْعَالَمِينَ ** إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ** ----
আমি লূত্বকেও পাঠিয়েছিলাম, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা এমন কুকর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি। তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে পুরুষের নিকট গমন কর .........। (সূরাঃ আ’রাফ, আয়াতঃ৮০-৮১)
এই সম্প্রদায়ের মূল অপরাধ ছিল ২টি ---
এক, তাউহিদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করা। দুই, সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
‘সমকামিতা’ ছিল এমন এক জঘন্য অপরাধ, এ সম্প্রদায়ের পূর্বে বিশ্ব জগতের কেউ যে অপরাধে লিপ্ত হয়নি। যেমনটি কুরআন বলছে – ‘তোমরা এমন কুকর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি।’
লূত্ব আঃ তাঁর সম্প্রদায়কে বারণ করলেন, তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল না। তাঁর নিষেধ মানল না। যার ফলে আল্লাহ্ তায়ালার শাস্তির উপযুক্ত হল। আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে শাস্তি দিলেন।
কি ছিল সেই শাস্তি –
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ (82) مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ
“অতঃপর যখন আমার ফরমান জারি হলো তখন ভূ-খন্ডটির উপরিভাগকে নিচু করে দিলাম এবং ওর উপর ঝামা পাথর বর্ষণ করতে লাগলাম, যা ছিলো একাধারে এবং যা বিশেষভাবে চিহ্নিত ছিলো তোমার প্রভূর ভান্ডারে। আর উক্ত জনপদটি এ যালিমদের থেকে বেশি দূরে নয়”। (হূদঃ ৮২-৮৩)
কতইনা ভয়ানক ছিল সেই শাস্তি।!!! পুরো সম্প্রদায়কে জমিন সহ উল্টিয়ে দেয়া, তাঁর উপর একাধারে ঝামা পাথর বর্ষণ। অপরাধ ছিল, তাউহিদকে না মানা। সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
#বর্তমান_জাহিলিয়্যাত
আমরা এক নব্য জাহিলিয়্যাতের মধ্য দিয়ে সময় পার করছি। এমন এক জাহিলিয়্যাহ, ইতিহাসে যার কোন দৃষ্টান্ত নেই। পূর্বের উম্মতদের অনেক জাহিলী সমাজকে আল্লাহ্ তায়ালা নিঃশেষ করে দিয়েছেন। এই সকল জাহিলিয়্যাতের সমন্বয়ে সৃষ্ট আমাদের এই অত্যাধুনিক (!) জাহিলিয়্যাত।
আমরা এই জাহিলী সমাজের একটা অপকর্ম নিয়ে আলোচনা করি -
লূত্ব এর সম্প্রদায় ছিল এক জাহিলিয়্যাতের মধ্যে। নব আবিষ্কৃত যে অপকর্মের মধ্যে তারা লিপ্ত ছিল, তা হচ্ছে সমকামিতা। আচ্ছা! বর্তমান সমাজে কি এই অপকর্মটি বিদ্যমান নেই?! হ্যাঁ আছে।
তবে নব্য জাহিলিয়্যাত এই অপকর্মের মধ্যে যে আধুনিকায়ন করেছে, তা হচ্ছে, তাদের সমকামিতা ছিল শুধু পুরুষ-পুরুষ। কিন্তু এই নব্য জাহিলিয়্যাত এটাকে মেয়ে-মেয়ে গণ্ডিতে উন্নতি (!) করেছে। তাদের মাঝে সমকামিতা ছিল, কিন্তু পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এমন কোন দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু এই জাহিলিয়্যাতের মধ্যে পুরুষ-পুরুষ, নারী-নারী বিবাহকে রাষ্ট্রীয় ভাবে বৈধতা প্রদান করা হয়েছে। এই হচ্ছে আধুনিক জাহিলিয়্যাত।
#তবে_প্রশ্ন_জাগে –
এত জঘন্য পর্যায়ে পৌঁছার পরও কেন আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে ধ্বংস করছেন না।? কেন তাদেরকে তল-উপর করে দিচ্ছেন না।? কেনইবা তাদের উপর ঝামা পাথর বর্ষণ করছেন না।? অথচ এরা তাদের চেয়ে হাজারগুণ বেশী সীমালঙ্ঘন করেছে।
এর উত্তর আল্লাহ্ তায়ালা দিচ্ছেনঃ-
قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ ............
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। আল্লাহ্ তায়ালা তোমাদের হাত দিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেবেন ...। (সূরাঃ তাওবা,আয়াতঃ ১৪)
এরা আল্লাহ্ তায়ালার শাস্তির পূর্ণ উপযুক্ত হয়ে আছে। পূর্বের সম্প্রদায় সমূহকে আল্লাহ্ তায়ালা যে অপরাধ সমূহের ফলে ধ্বংস করেছেন, সেগুলোর এমন কোন ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া জাবেনা যাতে এদের বিচারণ ঘটেনি। কিন্তু ঐ সম্প্রদায় সমূহকে আল্লাহ্ তায়ালা ধ্বংস করেছেন, তার ফিরিশতাদের মাধ্যমে, আর এই আধুনিক জাহিলিয়্যাতকে ধ্বংসের দায়িত্ব দিয়েছেন আমাদের কাঁধে।
তাই আল্লাহ্ তায়ালার বান্দারা যদি এই সমস্ত সমকামী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, তাহলে আল্লাহ্ তায়লা তাদেরকে সাহায্য করবেন। তারা কোন ভাবেই আল্লাহ্ তায়ালার বান্দাদের সামনে টিকতে পারবে না। কেননা তারা তো শাস্তির উপযুক্ত হয়ে আছে।
আল্লাহ্ তায়ালা বলেন –
وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ
আর মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। (সূরাঃ রুম, আয়াতঃ ৪৭)
#লূত্ব_আঃ_এর_সম্প্রদায়
মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেনঃ
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْعَالَمِينَ ** إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ** ----
আমি লূত্বকেও পাঠিয়েছিলাম, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা এমন কুকর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি। তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে পুরুষের নিকট গমন কর .........। (সূরাঃ আ’রাফ, আয়াতঃ৮০-৮১)
এই সম্প্রদায়ের মূল অপরাধ ছিল ২টি ---
এক, তাউহিদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করা। দুই, সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
‘সমকামিতা’ ছিল এমন এক জঘন্য অপরাধ, এ সম্প্রদায়ের পূর্বে বিশ্ব জগতের কেউ যে অপরাধে লিপ্ত হয়নি। যেমনটি কুরআন বলছে – ‘তোমরা এমন কুকর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি।’
লূত্ব আঃ তাঁর সম্প্রদায়কে বারণ করলেন, তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল না। তাঁর নিষেধ মানল না। যার ফলে আল্লাহ্ তায়ালার শাস্তির উপযুক্ত হল। আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে শাস্তি দিলেন।
কি ছিল সেই শাস্তি –
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ (82) مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ
“অতঃপর যখন আমার ফরমান জারি হলো তখন ভূ-খন্ডটির উপরিভাগকে নিচু করে দিলাম এবং ওর উপর ঝামা পাথর বর্ষণ করতে লাগলাম, যা ছিলো একাধারে এবং যা বিশেষভাবে চিহ্নিত ছিলো তোমার প্রভূর ভান্ডারে। আর উক্ত জনপদটি এ যালিমদের থেকে বেশি দূরে নয়”। (হূদঃ ৮২-৮৩)
কতইনা ভয়ানক ছিল সেই শাস্তি।!!! পুরো সম্প্রদায়কে জমিন সহ উল্টিয়ে দেয়া, তাঁর উপর একাধারে ঝামা পাথর বর্ষণ। অপরাধ ছিল, তাউহিদকে না মানা। সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
#বর্তমান_জাহিলিয়্যাত
আমরা এক নব্য জাহিলিয়্যাতের মধ্য দিয়ে সময় পার করছি। এমন এক জাহিলিয়্যাহ, ইতিহাসে যার কোন দৃষ্টান্ত নেই। পূর্বের উম্মতদের অনেক জাহিলী সমাজকে আল্লাহ্ তায়ালা নিঃশেষ করে দিয়েছেন। এই সকল জাহিলিয়্যাতের সমন্বয়ে সৃষ্ট আমাদের এই অত্যাধুনিক (!) জাহিলিয়্যাত।
আমরা এই জাহিলী সমাজের একটা অপকর্ম নিয়ে আলোচনা করি -
লূত্ব এর সম্প্রদায় ছিল এক জাহিলিয়্যাতের মধ্যে। নব আবিষ্কৃত যে অপকর্মের মধ্যে তারা লিপ্ত ছিল, তা হচ্ছে সমকামিতা। আচ্ছা! বর্তমান সমাজে কি এই অপকর্মটি বিদ্যমান নেই?! হ্যাঁ আছে।
তবে নব্য জাহিলিয়্যাত এই অপকর্মের মধ্যে যে আধুনিকায়ন করেছে, তা হচ্ছে, তাদের সমকামিতা ছিল শুধু পুরুষ-পুরুষ। কিন্তু এই নব্য জাহিলিয়্যাত এটাকে মেয়ে-মেয়ে গণ্ডিতে উন্নতি (!) করেছে। তাদের মাঝে সমকামিতা ছিল, কিন্তু পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এমন কোন দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু এই জাহিলিয়্যাতের মধ্যে পুরুষ-পুরুষ, নারী-নারী বিবাহকে রাষ্ট্রীয় ভাবে বৈধতা প্রদান করা হয়েছে। এই হচ্ছে আধুনিক জাহিলিয়্যাত।
#তবে_প্রশ্ন_জাগে –
এত জঘন্য পর্যায়ে পৌঁছার পরও কেন আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে ধ্বংস করছেন না।? কেন তাদেরকে তল-উপর করে দিচ্ছেন না।? কেনইবা তাদের উপর ঝামা পাথর বর্ষণ করছেন না।? অথচ এরা তাদের চেয়ে হাজারগুণ বেশী সীমালঙ্ঘন করেছে।
এর উত্তর আল্লাহ্ তায়ালা দিচ্ছেনঃ-
قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ ............
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। আল্লাহ্ তায়ালা তোমাদের হাত দিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেবেন ...। (সূরাঃ তাওবা,আয়াতঃ ১৪)
এরা আল্লাহ্ তায়ালার শাস্তির পূর্ণ উপযুক্ত হয়ে আছে। পূর্বের সম্প্রদায় সমূহকে আল্লাহ্ তায়ালা যে অপরাধ সমূহের ফলে ধ্বংস করেছেন, সেগুলোর এমন কোন ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া জাবেনা যাতে এদের বিচারণ ঘটেনি। কিন্তু ঐ সম্প্রদায় সমূহকে আল্লাহ্ তায়ালা ধ্বংস করেছেন, তার ফিরিশতাদের মাধ্যমে, আর এই আধুনিক জাহিলিয়্যাতকে ধ্বংসের দায়িত্ব দিয়েছেন আমাদের কাঁধে।
তাই আল্লাহ্ তায়ালার বান্দারা যদি এই সমস্ত সমকামী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, তাহলে আল্লাহ্ তায়লা তাদেরকে সাহায্য করবেন। তারা কোন ভাবেই আল্লাহ্ তায়ালার বান্দাদের সামনে টিকতে পারবে না। কেননা তারা তো শাস্তির উপযুক্ত হয়ে আছে।
আল্লাহ্ তায়ালা বলেন –
وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ
আর মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। (সূরাঃ রুম, আয়াতঃ ৪৭)
প্রানপ্রিয় শ্রেষ্ঠ সুন্দর মানুষটি হলেন প্রপেট মুহাম্মাদ (সা:) ! আব্দুল্লাহ ও ইসাবেলার প্যারিসে ঘটে যাওয়া হৃদয় বিদারক গল্প অবল্মনে
১২ই জানুয়ারি ২০১৫, প্যারিস!!!
.
ক্লাসের ছোট ছেলে মেয়ে গুলোর হাতে একটা করে সাদা কাগজ দেয়া হয়েছে।
.
সবাই কাগজ পেয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্যে শিক্ষিকা ইসাবেলা, পুরো ক্লাসটা ঘুরে একবার দেখলেন, তারপর ধীর পায়ে সামনে এগোলেন। ব্ল্যাক বোর্ডের সামনে এসে দাঁড়িয়ে তিনি ছাত্র ছাত্রিদের উদ্দেশ্য করে বললেনঃ
"আশা করছি তোমরা সবাই গতকাল ‘প্লাস দো লা রেপুবলিক চত্বরের’ জঙ্গিবাদ বিরোধী সংহতি সমাবেশে যোগ দিয়েছিলে। আজকের ক্লাসে তাই তোমাদেরকে একটা নতুন এসাইনমেন্ট দিচ্ছি। আজকে তোমাদেরকে প্রফেট মোহাম্মাদকে আঁকতে হবে।
মনে কর, শার্লিহেবদোর আগামী সংখ্যার প্রথম পাতায় তোমাদের আঁকা প্রফেট মোহাম্মাদ এর এই ছবিটা ছাপা হবে, ঠিক আছে।"
.
ইসাবেলা এই বলে ঘড়ির দিকে তাকালেন। ছেলে মেয়েরা যার যার মত আঁকতে শুরু করেছে। শুধু শেষ বেঞ্চের কোনায় বসে থাকা ছেলেটা অপ্রস্তুতভাবে ইতি উতি তাকাচ্ছে ।
.
ইসাবেলা আড় চোখে ছেলেটিকে দেখল। তার এমন অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়ার কারণটা ইসাবেলা জানেন, কারন ছেলেটার নাম আব্দুল্লাহ।
.
.
আব্দুল্লাহ বড় বড় চোখ করে ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু একটা বলতে চায় সে,
ইসাবেলা প্রথমে দেখেও না দেখার ভান করল। কিন্তু কিছু পরে আব্দুল্লাহ হাত তুলল।
.
নাহ আজকে জঙ্গিবাদের পক্ষে কথা বলার সুযোগ কাউকেই দেয়া হবে না। ইসাবেলা আব্দুল্লাহকে হাত নামিয়ে নেয়ার ইশারা দিলেন এবং ছবি আকা শুরু করতে বললেন।
.
.
আব্দুল্লাহ বিমর্স মুখে মাথা নিচু করে রইল। এই ভাবে কেটে গেল অনেকটা সময় , এরপর চারিপাশে একবার চোখ বুলাল সে, তারপর দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে তার পেন্সিলের নিবটা ছোয়ালো কাগজে।
.
.
ম্যাডাম ইসাবেলা এতক্ষণ গম্ভীর মুখে লক্ষ করছিলেন আব্দুল্লাহকে। এখন তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন ।
.
প্রফেট মুহাম্মাদকে নিয়ে তোমাদের গোঁড়ামিকে আজ মাটির সাথে পিষে দেব , ভাবলেন ইসাবেলা। আর ঠিক তখনই ইসাবেলার অজান্তেই তার ঠোটের কোনে ভেসে উঠলো বিদ্রূপের তীর্যক হাসি।
.
.
.
২,
ক্লাস শেষ হয়েছে অনেক আগে। জমা পড়া এসাইনমেন্ট গুলো সামনে নিয়ে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে ইসাবেলা।
.
.
আব্দুল্লাহ কি এঁকেছে সেটা দেখার কৌতহল ধরে রাখা কঠিন। তবে ইসাবেলা ঠিক করে রেখেছে , আব্দুল্লাহ যেমনই আঁকুক না কেন হাইস্ট মার্কটা তাকেই দেয়া হবে এবং ক্লাসে সবার সামনে তার এই ছবির জন্যে তাকেই পুরস্কৃত করা হবে।
.
.
কফির কাপটা সরিয়ে রেখে জমা পড়া এসাইনমেন্ট গুলোর মধ্য থেকে ম্যাডাম আব্দুল্লাহর কাগজটা বের করল। আব্দুল্লাহর জমা দেয়া কাগজটায় চোখ পরতেই ইসাবেলার ভ্রু কুচকে গেল।
.
তার কাগজে কোন ছবি নেই । আছে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা একটা চিঠি।
.
.
ইসাবেলা গম্ভীর মুখে পড়তে শুরু করল।
.
.
প্রিয় প্রফেট (সাঃ)
.
আজকে আমাদের ক্লাসটিচার আমাদেরকে আপনার ছবি আঁকতে বলেছিল। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে আপনাকে আঁকতে চাচ্ছিলাম কিন্তু আঁকতে পারিনি , আমি তো আপনাকে কখনওই দেখিনি। তাই আমি আমার চোখ বন্ধ করে ফেললাম।
.
জানেন ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ), তখন আমি কি দেখলাম , আমি আমার মাকে আপনার জীবনী পড়ে ব্যকুল হয়ে কাঁদতে দেখলাম। বাবাকে দেখলাম সারা রাত আল্লাহর ইবাদাত করতে। আমার বড় বোনটাকে দেখলাম রাস্তা ঘাটে শত অপমানিত হওয়ার পরও হাশি মুখে নিকাব করতে। আমার মুসলমান বুন্ধুদেরকে দেখলাম আমাকে বুকে জড়িয়ে ক্ষমা চাইতে যদিও দোষটা হয়ত আমারি ছিল। আমি আজকে এই ছবি গুলোই আঁকতে চেয়েছিলাম।
.
এই অঞ্চলের মানুষ গুলো অদ্ভুত! এরা সব কিছুই দেখতে চায়, সবকিছুই এদের চোখের সামনে রাখতে চায়।
.
তাই আমি আমার চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলাম, আর আমি দেখেছিলাম আপনি মুচকি হেসে আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। আমাদের সবার দিকে এগিয়ে আসছেন। ইয়া রাসুলাল্লাহ পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর সব থেকে নিখুঁত আপনার সেই হাশি। আমি কি করে এত নিখুঁত এত সুন্দর হাশিটাকে এই কাগজে আঁকব ?
.
.
আমি আমার টিচারকে এগুলো সবই বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে ক্লাসে কোণ কথা বলতে দেয় নি।
.
অবশ্য এখানে হয়ত তার কোণ দোষ নেই। সে হয়ত কখনও কাউকে না দেখে ভালো বাসতেই শেখেনি।
.
কাউকে না দেখেও যে ভালোবাসা যায় সেটা হয়ত এরা কখনও বুঝবেই না। কিন্তু আমি , আমি আপনাকে ভালোবাসি । অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। কখনও না দেখেই ভালোবাসি।
.
.
আমি খুব ভালো ছবি আঁকতে পারি না। কিন্তু আমি লিখতে পারি। আর তাই আমি আপনার কাছে এই চিঠিটা লিখলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ(সাঃ),
.
.
যদি আপনি আমাদের মাঝে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক সেকেন্ড বা এক মুহুর্তের জন্যেও ফিরে আসতেন, তাহলে তারা ঠিকই বুঝতে পারত, আপনাকে আমরা কেন এতটা ভালোবাসি।
.
.
আব্দুল্লাহ।
১২ জানুয়ারি প্যারিস।
.
.
ইসাবেলা আব্দুল্লাহর লেখা চিঠিটা হাতে নিয়ে বসে আছে, আর কারও এসাইনমেন্ট আর চেক করতে ইচ্ছা করছে না। সরিয়ে রাখা কফিটাও ঠাণ্ডা হচ্ছে। হোক , ইসাবেলার কিছুই যায় আসে না।
.
.
.
.
[বিঃদ্রঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে নিয়ে তৈরি করা একটা শর্টফিল্ম চোখে পড়েছিল ফেইসবুকে। যতবার দেখেছি ততবার চোখ ভিজে গিয়েছে , কিন্তু শেয়ার করতে পারছিলাম না তাই সেই শর্ট ফিল্মটার বিষয় বস্তু নিয়েই এই গল্পটা লিখেছিলাম। সেই লেখাটা আবারও চোখে পরলো ... জানি হয়ত পুরোই ছাইপাঁশ হয়েছে... তাতে কি...
.
.
.
.
আল্লাহ্ আমাদেরকে প্রকৃত ইমান দান করুক । আল্লাহ্ এবং তার রাসুল (সাঃ) কে আমাদের জীবনের চেয়েও অধিক ভালোবাসার তৌফিক দেক... আমিন ]
.
ক্লাসের ছোট ছেলে মেয়ে গুলোর হাতে একটা করে সাদা কাগজ দেয়া হয়েছে।
.
সবাই কাগজ পেয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্যে শিক্ষিকা ইসাবেলা, পুরো ক্লাসটা ঘুরে একবার দেখলেন, তারপর ধীর পায়ে সামনে এগোলেন। ব্ল্যাক বোর্ডের সামনে এসে দাঁড়িয়ে তিনি ছাত্র ছাত্রিদের উদ্দেশ্য করে বললেনঃ
"আশা করছি তোমরা সবাই গতকাল ‘প্লাস দো লা রেপুবলিক চত্বরের’ জঙ্গিবাদ বিরোধী সংহতি সমাবেশে যোগ দিয়েছিলে। আজকের ক্লাসে তাই তোমাদেরকে একটা নতুন এসাইনমেন্ট দিচ্ছি। আজকে তোমাদেরকে প্রফেট মোহাম্মাদকে আঁকতে হবে।
মনে কর, শার্লিহেবদোর আগামী সংখ্যার প্রথম পাতায় তোমাদের আঁকা প্রফেট মোহাম্মাদ এর এই ছবিটা ছাপা হবে, ঠিক আছে।"
.
ইসাবেলা এই বলে ঘড়ির দিকে তাকালেন। ছেলে মেয়েরা যার যার মত আঁকতে শুরু করেছে। শুধু শেষ বেঞ্চের কোনায় বসে থাকা ছেলেটা অপ্রস্তুতভাবে ইতি উতি তাকাচ্ছে ।
.
ইসাবেলা আড় চোখে ছেলেটিকে দেখল। তার এমন অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়ার কারণটা ইসাবেলা জানেন, কারন ছেলেটার নাম আব্দুল্লাহ।
.
.
আব্দুল্লাহ বড় বড় চোখ করে ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু একটা বলতে চায় সে,
ইসাবেলা প্রথমে দেখেও না দেখার ভান করল। কিন্তু কিছু পরে আব্দুল্লাহ হাত তুলল।
.
নাহ আজকে জঙ্গিবাদের পক্ষে কথা বলার সুযোগ কাউকেই দেয়া হবে না। ইসাবেলা আব্দুল্লাহকে হাত নামিয়ে নেয়ার ইশারা দিলেন এবং ছবি আকা শুরু করতে বললেন।
.
.
আব্দুল্লাহ বিমর্স মুখে মাথা নিচু করে রইল। এই ভাবে কেটে গেল অনেকটা সময় , এরপর চারিপাশে একবার চোখ বুলাল সে, তারপর দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে তার পেন্সিলের নিবটা ছোয়ালো কাগজে।
.
.
ম্যাডাম ইসাবেলা এতক্ষণ গম্ভীর মুখে লক্ষ করছিলেন আব্দুল্লাহকে। এখন তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন ।
.
প্রফেট মুহাম্মাদকে নিয়ে তোমাদের গোঁড়ামিকে আজ মাটির সাথে পিষে দেব , ভাবলেন ইসাবেলা। আর ঠিক তখনই ইসাবেলার অজান্তেই তার ঠোটের কোনে ভেসে উঠলো বিদ্রূপের তীর্যক হাসি।
.
.
.
২,
ক্লাস শেষ হয়েছে অনেক আগে। জমা পড়া এসাইনমেন্ট গুলো সামনে নিয়ে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে ইসাবেলা।
.
.
আব্দুল্লাহ কি এঁকেছে সেটা দেখার কৌতহল ধরে রাখা কঠিন। তবে ইসাবেলা ঠিক করে রেখেছে , আব্দুল্লাহ যেমনই আঁকুক না কেন হাইস্ট মার্কটা তাকেই দেয়া হবে এবং ক্লাসে সবার সামনে তার এই ছবির জন্যে তাকেই পুরস্কৃত করা হবে।
.
.
কফির কাপটা সরিয়ে রেখে জমা পড়া এসাইনমেন্ট গুলোর মধ্য থেকে ম্যাডাম আব্দুল্লাহর কাগজটা বের করল। আব্দুল্লাহর জমা দেয়া কাগজটায় চোখ পরতেই ইসাবেলার ভ্রু কুচকে গেল।
.
তার কাগজে কোন ছবি নেই । আছে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা একটা চিঠি।
.
.
ইসাবেলা গম্ভীর মুখে পড়তে শুরু করল।
.
.
প্রিয় প্রফেট (সাঃ)
.
আজকে আমাদের ক্লাসটিচার আমাদেরকে আপনার ছবি আঁকতে বলেছিল। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে আপনাকে আঁকতে চাচ্ছিলাম কিন্তু আঁকতে পারিনি , আমি তো আপনাকে কখনওই দেখিনি। তাই আমি আমার চোখ বন্ধ করে ফেললাম।
.
জানেন ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ), তখন আমি কি দেখলাম , আমি আমার মাকে আপনার জীবনী পড়ে ব্যকুল হয়ে কাঁদতে দেখলাম। বাবাকে দেখলাম সারা রাত আল্লাহর ইবাদাত করতে। আমার বড় বোনটাকে দেখলাম রাস্তা ঘাটে শত অপমানিত হওয়ার পরও হাশি মুখে নিকাব করতে। আমার মুসলমান বুন্ধুদেরকে দেখলাম আমাকে বুকে জড়িয়ে ক্ষমা চাইতে যদিও দোষটা হয়ত আমারি ছিল। আমি আজকে এই ছবি গুলোই আঁকতে চেয়েছিলাম।
.
এই অঞ্চলের মানুষ গুলো অদ্ভুত! এরা সব কিছুই দেখতে চায়, সবকিছুই এদের চোখের সামনে রাখতে চায়।
.
তাই আমি আমার চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলাম, আর আমি দেখেছিলাম আপনি মুচকি হেসে আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। আমাদের সবার দিকে এগিয়ে আসছেন। ইয়া রাসুলাল্লাহ পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর সব থেকে নিখুঁত আপনার সেই হাশি। আমি কি করে এত নিখুঁত এত সুন্দর হাশিটাকে এই কাগজে আঁকব ?
.
.
আমি আমার টিচারকে এগুলো সবই বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে ক্লাসে কোণ কথা বলতে দেয় নি।
.
অবশ্য এখানে হয়ত তার কোণ দোষ নেই। সে হয়ত কখনও কাউকে না দেখে ভালো বাসতেই শেখেনি।
.
কাউকে না দেখেও যে ভালোবাসা যায় সেটা হয়ত এরা কখনও বুঝবেই না। কিন্তু আমি , আমি আপনাকে ভালোবাসি । অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। কখনও না দেখেই ভালোবাসি।
.
.
আমি খুব ভালো ছবি আঁকতে পারি না। কিন্তু আমি লিখতে পারি। আর তাই আমি আপনার কাছে এই চিঠিটা লিখলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ(সাঃ),
.
.
যদি আপনি আমাদের মাঝে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক সেকেন্ড বা এক মুহুর্তের জন্যেও ফিরে আসতেন, তাহলে তারা ঠিকই বুঝতে পারত, আপনাকে আমরা কেন এতটা ভালোবাসি।
.
.
আব্দুল্লাহ।
১২ জানুয়ারি প্যারিস।
.
.
ইসাবেলা আব্দুল্লাহর লেখা চিঠিটা হাতে নিয়ে বসে আছে, আর কারও এসাইনমেন্ট আর চেক করতে ইচ্ছা করছে না। সরিয়ে রাখা কফিটাও ঠাণ্ডা হচ্ছে। হোক , ইসাবেলার কিছুই যায় আসে না।
.
.
.
.
[বিঃদ্রঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে নিয়ে তৈরি করা একটা শর্টফিল্ম চোখে পড়েছিল ফেইসবুকে। যতবার দেখেছি ততবার চোখ ভিজে গিয়েছে , কিন্তু শেয়ার করতে পারছিলাম না তাই সেই শর্ট ফিল্মটার বিষয় বস্তু নিয়েই এই গল্পটা লিখেছিলাম। সেই লেখাটা আবারও চোখে পরলো ... জানি হয়ত পুরোই ছাইপাঁশ হয়েছে... তাতে কি...
.
.
.
.
আল্লাহ্ আমাদেরকে প্রকৃত ইমান দান করুক । আল্লাহ্ এবং তার রাসুল (সাঃ) কে আমাদের জীবনের চেয়েও অধিক ভালোবাসার তৌফিক দেক... আমিন ]
Subscribe to:
Posts (Atom)